Home | সারা দেশ | সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতির আহবান জানিয়ে রামুতে সহিংসতার ১ বছর পর প্রবারণা পূর্ণিমার ২দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু আকাশে ফানুস উড্ডয়ন, মঙ্গল কামনায় হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন

সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতির আহবান জানিয়ে রামুতে সহিংসতার ১ বছর পর প্রবারণা পূর্ণিমার ২দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু আকাশে ফানুস উড্ডয়ন, মঙ্গল কামনায় হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন

0011খালেদ হোসেন টাপু,রামু : ‘স¤প্রীতির জাহাজে, ফানুসের আলোয় দূর হোক সা¤প্রদায়িক অন্ধকার’ বৌদ্ধদের এ প্রত্যাশায় কক্সবাজারের রামুতে সহিংসতার পর শনিবার ১৯ অক্টোবর  নতুন নির্মিত  ১২ বৌদ্ধ বিহারসহ ৩০ বৌদ্ধ বিহারে বিকেল ৫ টায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং সন্ধ্যায় আকাশে উড়ানো হয়েছে ফানুস। সকালে বুদ্ধ পূজার মাধ্যমে দুইদিনব্যাপী শুভ প্রবারণা পূর্ণিমার  কর্মসূচির সূচনা হয়। এছাড়া অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল ধর্মীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, অষ্টশীল গ্রহণ, শুভ প্রবারণা শীর্ষক ধর্মসভা, বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত প্রার্থনা। এবছর রামু উপজেলার বৌদ্ধরা স¤প্রীতির বিশ্বাসে আবারো উৎসাহ-উদ্দীপনায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে ব্যাপক আয়োজনে শুভ  প্রবারণা ও জাহাজ ভাসা উৎসব পালন করছে ।
বিকেলে বিহার গুলোতে ধর্মসভা ও সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্যদিয়ে চলে বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত প্রার্থনা। এছাড়া, বিহারে বিহারে ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদির পর উৎসর্গের মাধ্যমে সন্ধ্যায় শুরু হয় ফানুস উত্তোলনের পর্ব। ফানুস উত্তোলন শুরু হওয়ার সাথে সাথে রামু সদরের বৌদ্ধ বিহারগুলির প্রাঙ্গন ও রামু খিজারী আদর্শ বিদ্যালয় মাঠ যেন পরিণত হয় জনসমুদ্রে। কেবল বৌদ্ধ স¤প্রদায় নয়, সব কিছু ভুলে মিলে মিশে একাকার হতে দেখা যায় হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিমসহ সকল স¤প্রদায়ের মানুষকে। সকলকে উৎফুল¬ চিত্তে উপভোগ করতে দেখা যায় ফানুস উড্ডয়নের দৃশ্য। সন্ধ্যার পর আকাশ ছেয়ে যায় নানা রঙের অসংখ্য ফানুসে। এসময় মুগ্ধ দৃষ্টিতে ফানুস উড্ডয়নের দৃশ্য উপভোগ করেন আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা।
রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের আবাসিক প্রধান প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু জানান,  সহিংসতার পর এবছর প্ররাবণা পূর্নিমা উপলক্ষে বিহার গুলো বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে আলোক সজ্জায় এবং দুইব্যাপী কর্মসূচিও গ্রহন করা হয়েছে। তিনি আরো জানান সকল বৌদ্ধ স¤প্রদায়ের আশা ‘ফানুসের আলোয় সা¤প্রদায়িকতাসহ সকল অপশক্তির আঁধার কেটে যাবে।’
রামু বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রের সাধারন সম্পাদক নীতিশ বড়ুয়া জানান, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বরের রামুর সহিংস ঘটনায় আমরা গভীর শোক ও মর্মাহত। গত এক বছরে শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে অহিংসার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা আগের সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতির বিশ্বাসে ফিরে যেতে চায়। গত বছরের প্রবারনা পূর্ণিমায় আমরা ধর্মীয় আচার ছাড়া কোন আনন্দ উৎসব করিনি। প্রবারনা পূর্নিমায় আকাশে ফানুস না উড়িয়ে ও নদীতে জাহাজ ভাসানো উৎসব উদযাপনে বিরত থেকে সহিংসতার ঘটনাকে নিরব প্রতিবাদ করেছি, আমরা রামুর বৌদ্ধ স¤প্রদায়। এক বছর শোকে অতিবাহিত করার পর রামুর সকল ধর্মালম্বীর নেতৃবৃন্দের অংশ গ্রহণ ও সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতির বিশ্বাসে আবারো এ বছর শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা ও জাহাজ ভাসা উৎসব উদযাপন করা হবে।
রামু কেন্দ্রীয় প্রবারণা ও জাহাজ ভাসানো উৎসব উদযাপন পরিষদের আহŸায়ক জ্যোতির্ময় বড়–য়া রিগ্যান জানান,  জাহাজ ভাসা উৎসবের কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সাবেক সভাপতি পণ্ডিত ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথের। প্রধান অতিথি থাকবেন, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর এমপি।
বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার প্রাক্তন সভাপতি পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের জানান, ‘ভারতবর্ষের বৈশালীবাসী দুর্ভিক্ষ ও মহামারি থেকে পরিত্রাণের আশায় বুদ্ধকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। বুদ্ধ সেবার বৈশালী নদী পার হয়ে গিয়েছিলেন তাদের আমন্ত্রণে। বুদ্ধের সেই নদী পারাপারকে স্মরণে রেখেই মূলত জাহাজ ভাসা উৎসবটির প্রচলন হয়।’ এই জাহাজ ভাসা উৎসব মিয়ানমারের রাজধানী ইয়াঙ্গুন এবং আরাকানের পর বাংলাদেশের রামুতেই শুধু উদযাপন করা হয় ।
এদিকে আজ ২০  অক্টোবর রোববার দুইদিনব্যপী কর্মসূচির শেষ দিনে বিকালে রামু বাঁকখালী নদীতে উদযাপন করা হবে জাহাজ ভাসা উৎসব। জাহাজ ভাসা উৎসবে প্রধান অতিথি থাকবেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ও রাজনীতিবদ আসাদুজ্জামান নুর এমপি, উদ্বোধক বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সাবেক সভাপতি ও রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের অধ্যক্ষ পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের, বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ পুলিশ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নওশের আলী পিপিএম, জেলা প্রশাসক মোঃ রুহুল আমিন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৭ ইসিবি কক্সবাজারের অধিনায়ক লে. কর্ণেল এস এম জুলফিকার রহমান, ৫৭ ইবি রামু গ্যারিসনের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোঃ জায়েদ হোসেন, ৫০ বিজিবি রামু’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল তানভীর আহমেদ জায়গীরদার, পুলিশ সুপার মোঃ আজাদ মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ হোসেন, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবুল কালাম, রামু থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহা প্রমুখ।     উলে­খ্য গত ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রামুর বৌদ্ধ পল­ীতে দুবৃর্ত্তরা অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর গত বছর ঐতিহাসিক এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়নি। সহিংস ঘটনার ১ বছর পূর্ণ হলো।  সে সাথে মুসলিম ও বৌদ্ধদের মাঝে ফিরে আসছে স¤প্রীতি এমটাই মনে করছেন স্থানীয়রা। গত ৩ সেপ্টেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রামুর নব নির্মিত ১২টি বৌদ্ধ বিহার উদ্বোধনের পরেই এসব বিহার গুলোতে নিয়মিত পূজা প্রার্থনা  চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শেরপুরে ১৪৩ মুক্তিযোদ্ধা-শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা

জাহিদুল হক মনির,শেরপুর প্রতিনিধি: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে শেরপুর ...

মাদারীপুরে রেস্টুরেন্টে আগুন। অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি, গুরুতর আহত-২

মোঃ আরিফুর রহমান মাদারীপুর প্রতিনিধি : মাদারীপুর শহরের পুরানবাজার এলাকার কেএফসি রেস্টুরেন্টে ...