Home | অর্থনীতি | ব্যবসা ও বাণিজ্য | সহস্রাধিক চাতাল মালিক দিশেহারা কুষ্টিয়ার খাজানগরের গোডাউনে পড়ে আছে হাজার হাজার বস্তা চাল

সহস্রাধিক চাতাল মালিক দিশেহারা কুষ্টিয়ার খাজানগরের গোডাউনে পড়ে আছে হাজার হাজার বস্তা চাল

কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া : টানা তিন মাসের অবরোধের ধকল এখন কাটিয়ে উঠতে পারেননি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরের ব্যবসায়ীরা। ভারতীয় চালে বাজার সয়লাব থাকায় বেশির ভাগ মিলে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। বছরের এ সময় যখন সারা দিনে ১০০ ট্রাক চাল সরবরাহ করা হতো সেখানে এখন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ ট্রাক চালও বিক্রি হচ্ছে না। বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিসহ বেশির ভাগ চালকল মালিককে ব্যাংকের দেনা দিতে পথে বসতে হবে। ভারতীয় চাল আসা বন্ধ না হলে কৃষক ও চালকল মালিকরা পথে বসে যাবেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মজিদ বাবলু জানান, অবাধে ভারত থেকে বিপুল পরিমান চাল আসায় দেশি চালের বাজার ধবংস হচ্ছে। এক কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, দুই মিল মালিকরা পথে বসছে সাথে বিপুল সংখ্যক মানুষ বেকার হচ্ছে। আমাদের দেশের বাজারে যা চাহিদা তার থেকে দ্বিগুন চাল ভারত থেকে আনা হচ্ছে। দামও কেজি প্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা কম। এসব কারনে দেশি চালের মজুত বেড়ে যাচ্ছে। বিক্রিও হচ্ছে না। খাজানগরের ফোর স্টার রাইস মিলের মালিক মফিজ উদ্দিন জানান, খাজানগর এলাকায় কয়েক হাজার চাতাল রয়েছে। অর্ধেক চাতালে উৎপাদন বন্ধ আছে। তিনি বলেন, গত বছরও যে মিনিকেট চাল এ সময় ২ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায়। খাজানগরসহ আশেপাশের এলাকায় অটো রাইস মিল রয়েছে প্রায় ১৯টি। এর বাইরে হাসকিং মিল রয়েছে আরো প্রায় হাজারখানেক। চাতাল শ্রমিক রাবেয়া ও হাজেরা জানান, তাদের সঙ্গে কাজ করত এমন অনেক শ্রমিক এখন বেকার। ঠিক মত কাজ হচ্ছে না। আগে প্রতিদিন কাজ হত। মিলে চাল পড়ে থাকলেও কেনার লোক নেই। একাধিক চাতাল মালিকদের সাথে কথা হলে জানান, সব মিলিয়ে চালের বাজারে মন্দা যাচ্ছে। নতুন ধান ওঠার পর কিছুদিন প্রতি মণ ৫০০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এখন অবশ্য ২০০ টাকা বেড়েছে। খাজানগরের এমনও ব্যবসায়ী আছে যারা ১ হাজার ২০০ টাকা মণে ধান কিনে চাল তৈরি করেছেন। অথচ বিক্রি করতে পারেননি। এসব ব্যবসায়ীর কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে। কুষ্টিয়ার পৌর বাজারের চাল ব্যবসায়ী হাজি আকবর আলী  বলেন, ভারতীয় চালের কারনে ব্যবসায়ীরা সুবিধা করতে পারছেন না। যারা দেশি চাল মজুদ করেছিলেন তাদের লোকসানে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে ভারতীয় চাল কেনার দিকে ঝোঁক বেশি সাধারন ক্রেতাদের। দেশি চাল বিক্রি আগের থেকে কমেছে বলে জানান এ ব্যবসায়ী। খাজানগর দোসত্মপাড়ার এলাকার চাল প্রসেসিং তিন্নি এগ্রোফুডের মালিক ও চাউল প্রসেসিং মালিক মালিক সমিতির সভাপতি মোমিন মন্ডল বলেন, কুষ্টিয়া থেকে সারা দেশে চাল সরবরাহ আগের থেকে অর্ধেকে নেমে এসেছে। সব মালিকের গোডাউনে গত বছরের চাউলও রয়েছে। হরতাল-অবরোধে চাল বিক্রি করতে পারেননি। ভারতের চাল আসায় নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। চাল আমদানির জন্য নীতিমালা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। ব্যবসায়ীরা জানান, নগদ টাকায় চাল কিনছেন না মহাজনেরা। বাকিতে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। বাকি দিলেও সময় মত টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় বাকি টাকার অর্ধেক মার হয়ে যাচ্ছে। তবে একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, বাংলাদেশ কিছু দিন আগে শ্রীলংকায় চাল রপ্তানি করেছে। এছাড়া দেশে ধানের উৎপাদন রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ধান ও চাল মজুদ আছে বলেই বাংলাদেশ চাল রপ্তানী করছে। সেখানে চাল আমদানিরতো প্রয়োজন নেই। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা আছে চালকল মালিকদের জন্য ১২ থেকে ১৩ শতাংশ হারে ইন্টারেষ্ট দিতে হবে। সেখানে ইচ্ছামত ব্যাংক টাকা আদায় করছে। কোন কোন ব্যাংক ১৮ থেকে ১৯ শতাংশ হারে টাকা আদায় করছে। এতে ব্যবসায়ীদের চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে। পৌর বাজারে চাল কিনতে আসা রঞ্জন ভাদুরী নামের এক ক্রেতা জানান, আগে দেশের চালকল মালিকরা সিন্ডিকেট করে রাতারাতি দাম বাড়িয়ে দিত। ভারতীয় চাল আসায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সে সুযোগ পাচ্ছে না। এতে সাধারন ক্রেতারা লাভবান হচ্ছে। চালকল মালিক সমিতির নেতারা জানান, কুষ্টিয়ায় গত এক বছরে প্রায় ২০০ চালকল মালিক পুঁজি হারিয়েছেন। এ বছরও নতুন করে ব্যাংকের দেনা মেটাতে না পারাসহ নানা কারনে আরও শতাধিক ব্যবসায়ীর পুজি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মেলায় পৌনে ৮ কোটি টাকার পাটপণ্যের চাহিদা

স্টাফ রিপোর্টার :   দেশে প্রথমবারের মত পালিত হওয়া জাতীয় পাট দিবস ও ...

মানি একচেঞ্জের লাইসেন্স বন্ধ, চলছে অবৈধ বিনিময়

স্টাফ রিপোর্টার :   বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান মানি একচেঞ্জের লাইসেন্স দেওয়া দেড়যুগ ...