Home | বিবিধ | কৃষি | সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আগ্রহ হারাচ্ছেন মৌলভীবাজারের পানচাষীরা

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আগ্রহ হারাচ্ছেন মৌলভীবাজারের পানচাষীরা

Khasia Paan 2জালাল আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি, ০৮ মার্চ : পান চাষ করা খাসিয়াদের অন্যতম আদি পেশা। বর্তমানে মৌলভীবাজারের পানচাষীরা নানা সমস্যায় জর্জরিত। পান চাষের ঐতিহ্য ধরে রেখে এর স¤প্রসারণে প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকার পান উৎপন্ন হয়ে থাকলেও খাসিয়া পান উৎপাদিত হয় কেবলমাত্র মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় খাসিয়া পুঞ্জিতে। আর এ পান বিদেশে রপ্তানিযোগ্য। কারণ এ পান সহজেই পচন ধরে না। স্বাদ ও গুণে এ পানের তুলনা হয় না। জেলার উৎপাদিত খাসিয়া পান বিদেশে রপ্তানি করে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় হচ্ছে। কিন্তু যে খাসিয়া পানচাষীরা এ পান উৎপাদন করেন সে স¤প্রদায়ের আজও তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। পান চাষ উপজাতি খাসিয়া স¤প্রদায়ের আদি পেশা। গভীর বনে বড় বড় গাছে এরা পান চাষ করে থাকেন। পতিত বনভূমি সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে পান চাষের উপযোগী করতে বড় বড় গাছ নির্বাচন ও ছাঁটাই করা হয়। আর পরিস্কার ও ছাঁটাই করা গাছের নিচে পানের চারা রোপণ করা হয়। অল্পদিনেই চারা বড় বড় গাছকে আঁকড়ে ধরে বেড়ে ওঠে। এসব লতানো গাছে প্রতি মৌসুমে ব্যাপকহারে পান উৎপন্ন হয়। তবে বছরের বারমাসই কমবেশি খাসিয়া পান উৎপাদিত হয়। খাসিয়া স¤প্রদায়ের লোকেরা খাসিয়া পাহাড়ি এলাকায় টিলার ওপর ঘর বেঁধে সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। তাদের সমাজের কর্তাকে বলা হয় মন্ত্রী। এ ধরণের পাহাড়ি ভূমিতে খাসিয়া পান ও বসবাসের স্থানকে পুঞ্জি বলা হয়। এক এক পুঞ্জিতে কমপক্ষে ৩০-২০০ পরিবার বসবাস করেন। এভাবে মৌলভীবাজারের বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৫০টির অধিক খাসিয়া পুঞ্জি রয়েছে। পুঞ্জিতে উৎপাদিত পান দেশের বিভিন্ন এলাকায় এবং বিদেশে রপ্তানির জন্য ঢাকায় সরবরাহ করা হয়। পান চাষে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। খাসিয়াদের কঠোর পরিশ্রমে উৎপাদিত পান বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হলেও ওই স¤প্রদায়ের ভাগ্যে তেমন কোনো উন্নয়ন ঘটেনি। পুঞ্জিগুলো হাজারো সমস্যায় জর্জরিত। পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, ভূমি লিজ নিয়ে জটিলতাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন খাসিয়ারা। এ ধরণের সমস্যার নিরসনসহ প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তাদের উৎপাদিত খাসিয়া পান বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে আরও অধিক পরিমাণ রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তাড়াইলে শীলা বৃষ্টি; ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভবনা

তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জর তাড়াইল উপজেলায় বজ্র সহ শীলা বৃষ্টিতে ফসলের ...

তিস্তার বালুচরে বাদামের চাষ; কৃষকের মুখে হাসি

আলতাফ হোসেন সরকার, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) : চারিদিকে শুধু বালু আর ধু ধু ...