ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | কৃষি | সন্ধ্যা নদীর কড়াল গ্রাসে উজিরপুর-সাতলা সড়ক হুমকির মুখে বাধঁ প্রকল্পে ১ কোটি ৮১ ল টাকা ভেস্তে গেলো । ৬শ পরিবারের মানবেতর জীবন যাপন ।

সন্ধ্যা নদীর কড়াল গ্রাসে উজিরপুর-সাতলা সড়ক হুমকির মুখে বাধঁ প্রকল্পে ১ কোটি ৮১ ল টাকা ভেস্তে গেলো । ৬শ পরিবারের মানবেতর জীবন যাপন ।

01 copyকল্যান কুমার চন্দ, উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুর-সাতলা সড়কের সাথে উপজেলার ৬ ইউনিয়নের যোগাযোগ যেকোন মূহুর্তে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। সন্ধ্যা নদীর অব্যাহত ভাঙনে ৬শ পরিবার ভীটে মাটি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী ভাঙন রোধ প্রকল্পের ১ কোটি ৮১ ল টাকার প্রকল্প ভেস্থে চলে গেছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় গত ৪ বছর পর্যন্ত অব্যাহত নদী ভাঙনে বড়াকোঠা ইউনিয়নের সাকরাল, নারিকেলী, মালিকান্দা, লস্করপুর, চাউলাহার ও উজিরপুর সদরের পরমানন্দসাহা গ্রামের প্রায় ৬শ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ঘর পুড়লে মাটি থাকে কিন্তু নদী ভাঙনে কিছুই থাকে না। ইতিমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে সাকরাল আব্দুল মাজিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চথলবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চথলবাড়ি বাজার কো-অপারেটিভ ব্যাংক, আবু সাহিদ খুদরী (রাঃ) জামে মসজিদ, দঃ সাকরাল জামে মসজিদ, সাকরাল ইফতেদায়ী মাদ্রাসা, ৭৮ল টাকা ব্যায়ে নির্মিত চথলবাড়ির রাস্তার ব্রিজ, চৌধুরীর হাট জামে মসজিদ, চৌধুরীর হাট ব্রিজ এবং চথলবাড়ি বাজার ও চৌধুরীর হাট বাজারটি সম্পূর্ন নদীগর্ভে  বিলীন হয়ে গেছে। একারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১১ সালে ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে ৩৭হাজার বালুর বস্তা এবং ব্লক ফেলানোর জন্য নদী ভাঙন রোধ প্রকল্পে ১ কোটি ৮১ ল টাকা টেন্ডার আহবান করে। এ কাজটি এম, বিল্ডার্স নামে  একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পেয়ে বানারীপাড়া আ’লীগের সহ-সভাপতি ছালাম ঠিকাদারকে কাজটি করার জন্যে সম্পূর্ন দায়িত্ব দেন। তিনি বর্তমানে বানারীপাড়ার জাসদ নেতা কবির হত্যা মামলায় কারাগারে আছেন। ঠিকাদারের ধীর গতিতে কাজটি শুরু করার কারণে চলমান সময়ে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ২০১২ সালে ডিসেম্বর মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে মাত্র ৮ হাজার বস্তা বালু ফেলে  ১৬ ল টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, গাফেলতি ও ওয়ার্ক অর্ডারের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারনে পানি উন্নায়ন বোর্ড প্রকল্পটি বন্ধ করে দেন। ৩ বছর ধরে পরমানন্দসাহা থেকে চথলবাড়ী পর্যন্ত রাস্তাটি সর্ম্পূন বিলীন হয়ে গেলে প্রায় ৩ কি: মি: বিকল্প ইটের রাস্তা নির্মান করে উপজেলার ৬ ইউনিয়নের জনসাধারনের উপজেলার সাথে যোগাযোগ করতে হয়। বর্তমানে অব্যহত নদী ভাঙ্গনে যেকোন মহূর্তে এ রাস্তাটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অপরদিকে ভিটে মাটি হারানো নদী ভাঙ্গন কবলিত নারেকলী গ্রামের শহীদ, মোতাহার, হাকিম সাকরাল গ্রামের শুকুর, জামাল, খলিল, ইউনুচ, নুরুল ইসলাম, মোবারেক সহ অসংখ্য লোক খোলা আকাশের নিচে অর্ধাহারে, অনাহারে পরের জমিতে দিন যাপন করছে। এ ব্যাপারে বরিশাল-২ আসনের সাংসদ মনিরুল ইসলাম মনি’র কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে জানান আমি পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহাবুবুর রহমান ও বরিশালের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদকে সাথে নিয়ে এলাকা পরিদর্শণ করেছিলাম। তারা কাজের ওয়াদা দিয়েছিলেন। তবে তাদের গাফেলতির কারনেই এ প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়।  এখন অন্য একটি প্রকল্পে ২০ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, বরিশাল জেলার সমন্বয় সভায় বারবার আলোচনা করেছি। একটি অযোগ্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে কাজটি দেওয়া এবং কর্তৃপরে গাফেলতির কারনে  এই ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন বলেন, ঠিকাদারের গাফেলতি ও ধীর গতির কারনে এ কাজটি বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা বারবার চিঠি দিলেও তিনি কোন উত্তর দেননি। তবে এ কাজটি এখন আর করা সম্ভব নয়। তবে আমরা জলবায়ু প্রকল্পের উপর ২০ কোটি টাকার স্কীম পাঠিয়েছি। পাশ হলে এটা থেকে করানো যাবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, এই ভয়াবহতার উপরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা প্রশাসকের বরাবরে আমি লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম বিল্ডার্সের মালিক মহাসিন ফকিরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

রাণীশংকৈলে আলুর খেত বাঁচাতে পানি অপসারণে ব্যস্ত কৃষকেরা

মাঘ মাসের হঠাৎ বৃষ্টিতে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আলুখেতে পানি জমে ...

রাণীশংকৈলে বৃষ্টি ও ঝড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় মধ্যরাত থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় ...