Home | জাতীয় | সংসদের অনেক সদস্যই বিএনপি দ্বারা নির্যাতিত : প্রধানমন্ত্রী

সংসদের অনেক সদস্যই বিএনপি দ্বারা নির্যাতিত : প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রির্পোটার : প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময়ে ক্লিন হার্ট অপারেশনের নামে অনেক সংসদ সদস্যসহ অসংখ্য মানুষকে নির্যাতন চালানো হয়েছে, প্রায় দেড় শতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। প্রয়াত সংসদ সদস্য এসএম মোস্তফা রশিদী সুজাকে ড্রিল দিয়ে হাত-পা ফুটো করাসহ অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তারপর থেকেই সে অসুস্থতা নিয়ে বেঁচে ছিলেন। অবশেষে তাকে মৃত্যুবরণ করতে হলো। এই সংসদের অনেক সদস্যই বিএনপির দ্বারা নির্যাতিত।

রোববার (০৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরুর দিনে এস এম মোস্তফা রশিদ সুজা ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আলোচনা শেষে স্পিকার শোক প্রস্তাবটি ভোটে দিলে সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়। এরপর তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত করে এক মিনিটি নিরাবতা পালন শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সরকারি দলের ফজলুল হক হারুন। এরপর বর্তমান সংসদের দুজন সংসদ সদস্য’র মৃত্যুর কারণে সংসদ অধিবেশনের দিনের অন্যান্য কার্যক্রম স্থগিত রেখে সংসদ মুলতবি করা হয়।

শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দুইজন সংসদ সদস্যকে হারিয়েছি। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। মোস্তফা রশিদী সুজা খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিল। তিনি একজন ক্রীড়া অনুরাগী এবং প্রাণবন্ত সুদক্ষ নেতা ছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী ওপর যে অত্যাচার করা হয়, সেই অত্যাচারে শিকার হয়েছিলেন মোস্তফা রশিদী সুজাও। তার পায়ে ড্রিল দিয়ে ফুটো করে দেওয়া হয়েছিল। তার হাত পায়ে অমানুষিকভাবে অত্যাচার করা হয়েছিল। এমনকি তার ভাই ও শিশু সন্তানকে পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছিল অপারেশন ক্লিন হার্টের সময়।

তিনি আরো বলেন, ওই সময় খুলনার যুবলীগ নেতা মাসুদকে তো মেরেই ফেলা হয়েছিল। এরকম অসংখ্যা নেতাকর্মীকে নির্যাতন করা হয়। ওই সময় প্রায় ১৫০ জনের মতো নেতাকর্মী মারা যায়। এই সংসদের অনেক সংসদ সদস্যই আছেন যারা বিএনপি’র দ্বারা নির্যাতিত। এই নির্যাতনের ফলেই মোস্তফা রশিদী সুজার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে খুলনা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক যে ক্ষতি হল, তা পূরণ হওয়ার নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরেকজন বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ তাজুল  ইসলাম চৌধুরী ২০১৪ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠানে তার বিরাট ভূমিকা ছিল। আমরা দু’জন দক্ষ সংসদ সদস্যকে হারিয়েছি। এই সংসদের প্রায় ১৫ জন সংসদ সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি প্রয়াত সকল নেতার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই আলোচনায় আরো অংশ নেন বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশদ এরশাদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসনে আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সরকারি দলের শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মীর শওকাত আলী বাদশা, আবদুস সালাম মোর্শেদী ও মো. মনিরুল ইসলাম এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, কাজী ফিরোজ রশীদ, নুরুল ইসলাম ওমর ও মো. ফখরুল ইমাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠাল ভারত। বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ...

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে যোগদান করলেন প্রথম মহিলা ইউএনও মাসুমা আরেফিন

অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে প্রথম মহিলা ...