Home | আন্তর্জাতিক | সংবিধান এবং পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব না মানলে শান্তি আলোচনা এগুবে না : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

সংবিধান এবং পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব না মানলে শান্তি আলোচনা এগুবে না : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

Talabanইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার বদলে উগ্র ধর্মীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ৯০ দশক থেকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে জঙ্গি তৎপরতা চালিয়ে আসছে কওমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত জঙ্গিগোষ্ঠী তালেবান। সম্প্রতি পাকিস্তানে সরকারের সঙ্গে তাদের আলোচনা শুরুর পর শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে তৈরি হয় আশাবাদ। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। আবারো সশস্ত্র হামলার পথে ফিরে গেছে তালেবান। আর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সংবিধান এবং পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব না মানলে শান্তি আলোচনা এগুবে না।নওয়াজ শরিফের এমন প্রতিক্রিয়ার পর পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে তালেবানদের শান্তি আলোচনা ভেস্তেই গেল বলা চলে। আর দুই দফা বৈঠকের পর নানা শর্ত দিয়ে সরকারের সঙ্গে বসতেই অস্বীকৃতি জানিয়েছে তালেবানরা।জঙ্গিদের এখানে সেখানে হামলা আর উগ্র আচরণে জর্জরিত পাকিস্তানে নির্বাচনের আগেই নওয়াজ শরিফ শান্তি প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেয়ার অঙ্গীকার করেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তালেবানদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আলোচনার টেবিলে নিয়েও আসেন তিনি। তালেবানদের হয়ে সরকারের সঙ্গে বসেন জামায়াতে ইসলামী ও তেহরিক-ই-তালেবানের একজন করে নেতা এবং দেশটির প্রখ্যাত এক মসজিদের ইমাম। এরই মধ্যে ২০১০ সালের জুনে অপহরণ করা ২৩ সেনাসদস্যের শিরñেদ করে তেহরিক-ই-তালেবানের একটি অংশ। এরপর ক্ষুব্ধ হয় পাকিস্তান সরকার। এ ঘটনার পর নওয়াজ শরিফ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এ ঘটনার পর শান্তি আলোচনা উদ্দেশ্যবিহীন। পাকিস্তানে শান্তি ফেরাতেই তালেবানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন তারা। কিন্তু এই শান্তি ভঙ্গ করে যারা হামলা চালাচ্ছে তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন।’ আধা সামরিক সেনাদের হত্যার পরেই উত্তর ওয়াজিরিস্তানে জঙ্গিদের ঘাঁটিতে জেট বিমান হামলা চালানো শুরু করে পাকিস্তান সরকার।পাকিস্তান সরকার ও তেহরিক-ই-তালেবান মনোনীত প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু হয় চলতি মাসের শুরুতে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তালেবানদের এক হামলায় সৈন্যসহ একশর বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এই আলোচনার ঘোষণা দিয়েছিলেন।২০০৭ সালে পাকিস্তান তালেবান নামে পরিচিত তেহরিক-ই-তালেবান দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করার পর এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হন। প্রায় সাত বছরের রক্তক্ষয়ী গেরিলা তৎপরতা অবসানের লক্ষ্যে শান্তি আলোচনা শুরু করে সরকার ও তালেবান প্রতিনিধিরা। শান্তি আলোচনায় তালেবানের প্রতিনিধিত্ব করছেন মাওলানা সামিউল হক, ইসলামাবাদ লাল মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল আজিজ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা ইব্রাহিম খান। তিন সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছেন পাকিস্তান তালেবানের জনকখ্যাত মাওলানা সামিউল হক। আর সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক রহিমুল্লাহ ইউসুফজাই ও ইরফান সিদ্দিকী এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত রুস্তম শাহ মুহমান্দ ও সাবেক আইএসআই কর্মকর্তা আমির শাহ।
৬ ফেব্রুয়ারি ভবিষ্যৎ আলোচনার রূপরেখা তৈরির জন্য ইসলামাবাদের খাইবার পাখতুনখোয়া ভবনে দু’পক্ষ আলোচনায় বসে। তিন ঘণ্টাব্যাপী এ আলোচনায় সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচটি শর্ত দেয়া হয়। সরকারের দেয়া শর্তগুলো নিয়ে নেতাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে যেতে রাজি হয়েছিলেন তালেবানের মধ্যস্থতাকারীরা।প্রথম দিনের বৈঠক শেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও সরকারি প্রতিনিধি দলের সদস্য ইরফান সিদ্দিকী জানিয়েছিলেন, শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য অবশ্যই তিনি সরকার ও তালেবানের পক্ষে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রত্যাশা করেন। কিন্তু এর মধ্যে তালেবানরাও শরিয়া আইন চালুসহ নানা শর্ত দেয়। এই দাবি মানা সম্ভব না বলে জানিয়ে দেয় সরকারপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আরও কমেছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  গত দুই সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আরও ...

বার্সেলোনায় হামলাকারী পুলিশের গুলিতে নিহত

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  সুইসাইডাল ভেস্ট পরিহিত একজনকে গুলি করে হত্যার কথা জানিয়েছে ...