Home | আন্তর্জাতিক | সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্রিটিশের মতে স্টুডেন্টরা ‘ইমিগ্রেন্ট’ নয়

সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্রিটিশের মতে স্টুডেন্টরা ‘ইমিগ্রেন্ট’ নয়

আবদাল হোসাইন লন্ডন থেকে: সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্রিটিশ নাগরিকরা স্টুডেন্টদের ‘ইমিগ্রেন্ট’ হিশেবে বিবেচনা করে না। তাদের মতে স্টুডেন্টরা ব্রিটেনের ইমিগ্রেশনের জন্য সমস্যা নয়। সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে ব্রিটিশদের এমন মনোভাব উঠে এসেছে। অন্যদিকে কনজারভেটিভ দলীয় সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী লর্ড হ্যাসেলটাইন সরকারের ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণের টার্গেট থেকে স্টুডেন্টদের বাদ দেয়ার আহবান জানিয়ে বলেছেন, স্টুডেন্টরা ব্রিটেনের জন্য আর্থিক এবং সামজিকভাবে অনেক কিছু নিয়ে আসে। তারা পড়াশোনা শেষ করে যখন কর্মজীবনে যায় তখন তারা ব্রিটেনের দূত হিশেবে কাজ করে। তিনি স্টুডেন্টদের ‘ইমিগ্রেন্ট’ হিশেবে বিবেচনা করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন।
ব্রিটিশ ফিউচার থিংক ট্যাঙ্ক এবং ইউনিভার্সিটি ইউকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, ৫৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক মনে করেন, বিদেশী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমিয়ে আনা সরকারের ঠিক হচ্ছে না। যদিও মোট ইমিগ্রেশন কমিয়ে আনতে এটা বাধা হতে পারে। কনজারভেটিভ দলের সমর্থকদের মধ্যে এমন চিন্তার মানুষ আরো বেশি। এ দলের ৬৬ শতাংশ সমর্থক মনে করেন, স্টুডেন্টদের ইমিগ্রেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। মাত্র ২২ শতাংশ নাগরিক স্টুডেন্টদের ইমিগ্রেন্ট হিশেবে মনে করেন।
জরিপে এমন তথ্য উঠে আসার পর বিবিসিকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় কনজারভেটিভ দলীয় সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী লর্ড হ্যাসেলটাইন বলেন, বিদেশী শিক্ষার্থীদের সরকারের ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণের টার্গেট থেকে বাদ দেয়া উচিত। তিনি বলেন, স্টুডেন্টদের ইমিগ্রেন্ট হিশেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। স্টুডেন্টরা ব্রিটিশ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পড়াশোনা শেষ করে যখন তারা কর্মজীবনে যায় তখন এসব বিদেশী শিক্ষার্থীরা ব্রিটেনের দূত হিশেবে কাজ করে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি স্টুডেন্টদের নেট ইমিগ্রেশন হিসাবের বাইরে রাখার আহবান জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের আগে ব্রিটেনে নেট ইমিগ্রেশন সংখ্যা একশ হাজারের নিচে নামিয়ে আনার প্রতিশ্র“তি ঘোষণা করেছিল বর্তমান ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দল।   সে লক্ষে গত কয়েক বছরে ব্রিটেনের ইমিগ্রেশন আইনে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করে তারা। যার সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে ব্রিটেনে পড়তে আসা বিদেশী শিক্ষার্থীরা।
এদিকে জরিপের এমন ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় হোম অফিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ নাগরিক স্বার্থ এবং ব্রিটেনের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ইমিগ্রেশন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। স্টুডেন্টদের ইমিগ্রেশন হিসাব থেকে বাদ দেয়ার কথা নাকচ করে দেয় তারা। হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী ব্যাপক কড়াকড়ি সত্ত্বেও ব্রিটেনে বিদেশী স্টুডেন্ট প্রবেশের সংখ্যা উর্ধমুখী রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত সময়ে স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুর হার ৬ শতাংশ বেড়ে ২লাখ ১৯ হাজার ৫৩ হয়েছে বলে হোম অফিস সূত্রে বলা হয়। এরমধ্যে চাইনিজ, মালয়েশিয়ান এবং ব্রাজিলের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত বললেন ট্রাম্প

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  সফররত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলে পৌঁছেছেন। এরপর তিনি ...

জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় মুসলিম বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার আহ্বান ট্রাম্পের

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় মুসলিম বিশ্বের নেতাদের ...