ব্রেকিং নিউজ
Home | ব্রেকিং নিউজ | শ্যামনগরে ধাণের শীষ প্রতিক ছাপানো প্রেসে হামলা ও লুট : আটক ৫২

শ্যামনগরে ধাণের শীষ প্রতিক ছাপানো প্রেসে হামলা ও লুট : আটক ৫২

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় ধাণের শীষ প্রতীকের ছাপানো পোষ্টার ও হ্যান্ড বিল লুটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাত দশটার দিকে শ্যামনগর উপজেলা সদরের নকিপুর বাজারের নুর কম্পিউটার মার্কেটে ঘটনাটি ঘটে।

এসময় দুবৃর্ত্তরা ঐ মার্কেটের মুক্তছাপাখানা ও সোনলী প্রেস নামীয় দুইটি প্রতিষ্ঠান থেকে যথাক্রমে ধাণের শীষ প্রতীকে ছাপানো ১৫ হাজার ও তিন হাজার পোষ্টার এবং সোনালী প্রেস থেকে ছাপানো তিশ হাজার হ্যান্ড বিল লুটে নেয়। দুইটি প্রতিষ্ঠানের দুই মালিক যথাক্রমে আনিছুজ্জামান ও নুর এ আলম সিদ্দিকী পোষ্টার লুটের সাথে জড়িতদের নাম প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করে। তবে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী বেলাল ও আজিজুরসহ অনেকে জানান উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান সরদার এবং বাদঘাটা কিং ষ্টার ক্লাবের সভাপতি মোস্তফার নেতৃত্বে ১৫/১৬ ঐ হামলা এবং লুটের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন।

তবে সোনালী প্রেস এর মালিক নুর আলম সিদ্দিকী বলেন পোষ্টার নিয়ে যাওয়ার আগে হামলাকারীরা তার দোকানে থাকা কর্মচারী আবু সাইদকে বেপরোয়া মারপিট করে। এছাড়া পরবর্তীতে এসব প্রতিষ্ঠানে ধাণের শীষ প্রতীকের কোন পোষ্টার না ছাপানোর হুমকি দিয়ে চলে যায়। যাওয়ার আগে হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠান দুটি তালাবদ্ধ করে দিয়ে চাবি নিয়ে গেলেও পরক্ষনে এসে চাবি ফেরত দেয় বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে এই গ্রুপটি গত ৮ ডিসেম্বর ছাত্রশিবিরের এক কর্মীকে বেধড়ক মারপিট করলে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও পরক্ষনে আবারও হামলার শংকায় অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে বিএনপি করার অভিযোগে শ্যামনগরে সাবেক ছছাত্র দলের এক নেতার উপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ।

বিএনপি করিস, এখন বাইরে কেন- প্রশ্ন করেই ছাত্রদলের সাবেক নেতা হাফিজ আল আসাদ কল্লোল হোসেনের উপর হামলা চালিয়েছে এক দল দুবৃর্ত্ত। ঘটনাটি ঘটেছে ০৯ ডিসেম্বর রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে শ্যামনগর উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনের রাস্তায়। হাফিজ সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের জিয়া হলের সাবেক ছাত্রদল সভাপতি ছিলেন।

ঘটনার শিকার হাফিজ অভিযোগ করে বলেন, রোববার সন্ধ্যার কিছু পরে শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জহুরুল হক আপ্পুর মালিকানাধীন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসেছিলেন তিনি। এসময় আকস্মিকভাবে শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান তার সহযোগী মোস্তফাসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। শুরুতে তারা জহুরুল হক আপ্পুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্যে না আসার বিষয়ে সতর্ক করে।

এসময় হামলাকারীরা জহুরুল হককে হুমকি দিয়েই হাফিজকে দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়।

হাফিজ অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীদের নির্দেশ মেনে তিনি ঐ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় হাফিজুর ও মোস্তফা এগিয়ে এসে না দৌড়ে হেঁটে যাওয়ার- অভিযোগ তুলে তার উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে ঐ দুই নেতার নেতৃত্বে সেখানে উপস্থিত আরও প্রায় ২৫/৩০ জনের সংঘবদ্ধ দলটি রাস্তার উপর ফেলে বেধড়ক মারপিট করে। এসময় তিনি দৌড়ে যেয়ে একটি দোকানে আশ্রয় নিলে সেখান থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে এনেও তাকে পেটানো হয় বলে অভিযোগ করেন হাফিজ। এসময় রাস্তায় শত শত মানুষ জড়ো হলেও হামলাকারীদের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি বলে দাবি তার। এবিষয়ে হাফিজুর রহমান বলেন,কারা হামলা করেছে জানিনা। তার উপর মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্য মোঃ আবুল কালাম বলেন ,অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে জেলা ব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫২ জনকে আটক করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সকাল পযন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক আজম খান জানান,সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১৪ জন,কলারোয়া থানা থেকে ৬ জন,তালা থানা থেকে ৪ জন,কালিগঞ্জ থানা থেকে ৬ জন,শ্যামনগর থানা থেকে ৮ জন,আশাশুনি থানা থেকে ৭ জন,দেবহাটা থানা থেকে ৩ জন ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা বেশিরভাগই বিএনপি জামায়াতের কর্মী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালিত

সুদশন আচার্য্য, মদন, নেত্রকোনা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ ...

মদনে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির রমরমা বাণিজ্য

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ নেত্রকোনা মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ ...