ব্রেকিং নিউজ
Home | ফটো সংবাদ | শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন হচ্ছে

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন হচ্ছে

Hasina Picস্টাফ রিপোর্টার : শিগগিরই নির্বাচনকালীন নতুন সরকার গঠিত হচ্ছে। ওই সরকারের প্রধান  হচ্ছেন শেখ হাসিনাই। মন্ত্রিপরিষদ হবে ১০ সদস্যবিশিষ্ট। মন্ত্রী হিসেবে থাকছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ মোট ১০ জন।

 

সরকারের বিশ্বস্ত একটি সূত্র গণমাধ্যমকে এ খবর নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি দলের শীর্ষ ফোরামের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে ওই সূত্রটি জানায়।

 

তবে প্রতিমন্ত্রীরা কেউ ঠাঁই পাচ্ছেন না এ মন্ত্রিপরিষদে। ছোট পরিসরের এ মন্ত্রিপরিষদে একেকজন মন্ত্রী দায়িত্ব পাবেন ৪-৫টি মন্ত্রণালয়ের। পুরোনো মন্ত্রীদের মধ্যে সফল ও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীরাই ঠাঁই পাবেন এ মন্ত্রীসভায়।

 

ইতোমধ্যে পাঁচজনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকিদের ব্যাপারে আলোচনা ও চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে ওই সূত্রটি জানায়।

 

সূত্র জানায়, নিরাপদ, সাহসী ও বিশ্বস্তজনদের মন্ত্রিপরিষদে নেয়া হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে সফলতা দেখাতে পারেননি এমন কোনো মন্ত্রী নির্বাচনকালীন সরকারে থাকছেন না।

 

সূত্র আরো জানায়, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ও বড় ধরনের কোনো সংকট তৈরি না হলে ২৫ অক্টোবর থেকেই নতুন সরকার গঠন করেই কাজ শুরু করা হবে। একজন মন্ত্রী ৪-৫টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কীভাবে সামলাবেন তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন উঠেছে।

 

তবে সরকার মনে করছে, ওই সময়ে যেহেতু নীতিনির্ধারণী কোনো কাজ হবে না, তাই কোনো সমস্যা হবে না। কারণ ওই সময়ে সচিবরাই কাজ করবেন এবং মন্ত্রীদের পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। তারা রুটিন অনুযায়ী কাজ পরিচালনা করবেন।

 

প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে দু’-একজন মন্ত্রিপরিষদে থাকবেন কি না জানতে চাইলে ওই সূত্র নিশ্চিত করে, প্রতিমন্ত্রীরা থাকছেন না।

 

আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ টেকনোক্রেট কোটায় দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনকালীন সরকারে কোনো অনির্বাচিত মন্ত্রী থাকছেন না। সেই হিসেবে আইন মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কাকে দেয়া হবে, এ নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে।

 

তবে দীপু মনিকে আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে বলেও বলা হয়েছে। পাশাপাশি এ-ও বলা হয়েছে, সাংবিধানিক ও আইনগত কোনো জটিলতা দেখা দিলে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক রয়েছেন।

 

তার সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে। তিনি এসব বিষয়ে সরকারকে যাতে পরামর্শ দিতে পারেন ও কাজ করতে পারেন, সে জন্য তাকে সরকারের শেষ সময়ে আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদে নিযুক্ত করা হয়। তাকে আরো গুরত্বপূর্ণ কোনো পদেও দেখা যেতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন।

 

এদিকে ওবায়দুল কাদেরকে মন্ত্রিপরিষদে নিশ্চিতভবে রাখার পেছনে দুটি কারণ কাজ করছে। ওই দুটি কারণ হলো পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং তার যেসব সোর্স রয়েছে, সেগুলো কাজে লাগানো।

 

দীপু মনিকে পরিবর্তন করা হবে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। কারণ সরকারের কাছে খবর রয়েছে, সরকার সংবিধান সংশোধন করে বিএনপিকে নির্বাচনে না আনার বিষয়টি নিশ্চিত না করলে কিংবা বিএনপি নির্বাচনে না এলে সরকারের ওপর বিদেশি চাপ বাড়তে পারে। তারা নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক না-ও পাঠানোর ঘোষণা দিতে পারে।

 

এতে সরকারের জন্য সমস্যা হতে পারে। ওই সমস্যা যাতে না হয়, সেজন্য সরকার চেষ্টা করবে বিদেশের সঙ্গে দীপু মনির পাঁচ বছরের পুরনো সম্পর্ক কাজে লাগাতে। দীপু মনি যেহেতু মন্ত্রী ছিলেন, তাই তিনি অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা করে সফল হতে পারবেন। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের পাঠানোসহ অন্যান্য সমস্যারও সমাধান করতে পারবেন।

 

হাসানুল হক ইনুকে মন্ত্রিপরিষদে রাখার কারণ হিসেবে সূত্রটি জানায়, তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে একেবারেই পছন্দ করেন না। তিনি তার বিরুদ্ধে কাজ করছেন।

 

খালেদাকে রাজনীতি থেকে মাইনাসও করতে চাচ্ছেন। এজন্য বিভিন্ন কর্মসূচিও তার হাতে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই হিসেবে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরো জোরালোভাবে কাজ করতে পারবেন। এছাড়া জোটের অংশ হিসেবেও থাকবেন।

 

মন্ত্রিপরিষদে আরো থাকতে পারেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। তিনি দলের পরীক্ষিত নেত্রী। শেখ হাসিনারও বিশ্বস্ত। এছাড়া খাদ্য-সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষভাবে অভিজ্ঞ। দেশে যাতে কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি না হয়, সেজন্য তিনি কাজ করতে পারবেন। তাকে কোন কোন মন্ত্রণালয় দেয়া হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি।

 

সূত্র জানায়, মন্ত্রীদের মধ্যে যারা নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদে থাকবেন, তারা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে তো থাকবেনই, পাশাপাশি অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করবেন।

 

মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেই থাকবেন। সেই সঙ্গে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন তিনি। তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাখার কারণ হিসেবে একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর নানা কারণে সমালোচিত হলেও সফল।

 

কারণ তিনি বিএনপিকে কোনো আন্দোলনই সফলভাবে করতে দেননি। এমনকি হেফাজতের আন্দোলনকেও কৌশলে প্রতিহত করেছেন। আগামী দিনে বিএনপিসহ বিভিন্ন দল সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের আন্দোলন শুরু করবে।

 

বিএনপি যাতে সফলভাবে আন্দোলন করতে না পারে, সেজন্যই মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাখার এ সিদ্ধান্ত। সরকার চাইছে যেভাবেই হোক বিএনপির সরকার উৎখাতের আন্দোলন দমাতে হবে।

 

বিএনপি নির্বাচন প্রতিহত ও প্রতিরোধ করার যে আন্দোলন করতে যাচ্ছে, তা প্রতিহত করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।

 

বিশেষ করে বিএনপি এর আগে যখন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরালো করার প্রস্তুতি নেয়, তখন এক মাসের জন্য সব ধরনের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে কঠোর হস্তে তা দমন করেন মহীউদ্দীন খান আলমগীর।

 

তাই নানা কারণেই তিনি সমালোচিত হলেও ওই কৌশল কাজে লাগায় সরকার সন্তুষ্ট হয়েই তাকে মন্ত্রিপরিষদে রাখছে।

 

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনসহ আরো বেশ কয়েকজন মন্ত্রী সফল হলেও তাদের নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিপরিষদে রাখা হবে কি না, এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাদের নিয়ে আলোচনা চলছে।

 

সূত্র জানায়, ২৪ অক্টোবর সংসদের শেষ কার্যদিবস হলেও সংসদ ভাঙা হবে না। তবে তা কত দিন থাকবে, তাও ঠিক হয়নি। ২৫ অক্টোবর থেকে নতুন সরকার কাজ করবে।

 

এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ১-৭ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। আর ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সে হিসাবেই সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

 

ইতিমধ্যে আসন পুনর্বিন্যাস, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করাসহ অন্যান্য কাজ করা হয়েছে। ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য যেসব কাজ বাকি আছে, সেগুলো যথাসময়ে করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন একজন নির্বাচন কমিশনার।

 

তিনি বলেন, নির্বাচন যে সরকারের অধীনেই হোক, তাদের কোনো সমস্যা নেই। তারা সফলভাবে তা করতে প্রস্তুত। যদিও তারা চাচ্ছেন সব দলের অংশগ্রহণেই নির্বাচন হোক। বিএনপি যাতে নির্বাচনে আসে, সেজন্য সব সুযোগই তৈরি করবে নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তারা না এলে কমিশনের কিছুই করার নেই।

 

অন্যদিকে বিএনপি কোনোভাবেই শেখ হাসিনাকে সরকারপ্রধান মেনে নিয়ে নির্বাচন করতে রাজি নয়। তারা নির্দলীয় সরকার চাইছে। সেই দাবিতেই অটল থাকবে শেষ পর্যন্ত। এ কারণে বিএনপির নির্বাচনে আসার বিষয়টি অনিশ্চিত।

 

তবে বিএনপি মনে করছে, তারা অন্দোলনে সফল হবে। এ সরকারের পতন ঘটাতে না পারলেও নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য যে সরকার গঠিত হবে, ওই সরকারের পতন ঘটাতে পারবে এবং তারা আশাবাদী শেষ পর্যন্ত নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে।

 

তবে বিএনপি সে আশা করলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ীই হবে। সিলেটের জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একতরফা নির্বাচন প্রতিরোধে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক সংগ্রাম কমিটি গঠনের জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের যে নির্দেশ দিয়েছেন, তার সমালোচনা করে তিনি দেশবাসীকে কোনো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।

 

তিনি জানান, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেই পরবর্তী সংসদ নির্বাচন হবে। বিএনপির নির্দলীয় সরকারপদ্ধতির দাবি প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেছেন, সংবিধানিক ধারা অনুসরণ করে নির্বাচন হবে।

 

তিনি দাবি করেন, তাদের সরকারের আমলে ৫ হাজারেরও বেশি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়েছে।

 

তিনি বলেন, বিএনপি ও তার দোসর জামায়াতের কাজই হচ্ছে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করা। তিনি দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান, তাদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে।

 

বিরোধীদলীয় নেত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করতে হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ চান। তিনি তো এখন হেফাজতে ইসলাম আর জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করছেন।

 

হেফাজতে ইসলামকে সমর্থনকারী বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারীশিক্ষার অগ্রগতি থেমে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। অপপ্রচার মোকাবিলায় তিনি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের তৎপর হতে নির্দেশ দেন।

 

এদিকে সময় যত ঘনিয়ে আসছে সরকারও নিজেদের ততো গুছিয়ে নিচ্ছে। সরকার ধরেই নিয়েছে তারা আরো এক মেয়াদে ক্ষমতায় আসছে। যে কারণে তড়িঘড়ি না করে তারা তাদের মতো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কাজ করছে।

 

পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ পর্যন্ত শেখ হাসিনাই থাকবেন প্রধানমন্ত্রী- এটা নিশ্চিত মনে করছে তারা। সে হিসেবে বিএনপি নির্বাচন করতে না দিলে এবং দেশে নির্বাচন না হলে শেখ হাসিনাই থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার তার অবস্থান ধরে রাখতে পারে, নাকি বিএনপি সফল হয়-এখন সেটাই দেখার বিষয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে হানাদারমুক্ত দিবস পালিত

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা)ঃ নেত্রকোণা মদনে উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযুদ্ধ সংসদ কমান্ডের ...

মদনে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা)ঃ বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সমবায়ে উন্নয়ন এই প্রতিপাদ্যটি সামনে রেখে ...