Home | সারা দেশ | শীর্ষ সন্ত্রাসী বনখেকো মুচি জসিমের গ্রাম গুড়িয়ে দিচ্ছে প্রশাসন

শীর্ষ সন্ত্রাসী বনখেকো মুচি জসিমের গ্রাম গুড়িয়ে দিচ্ছে প্রশাসন

হুমায়ুন কবির,কালিয়াকৈর(গাজীপুর)প্রতিনিধি ॥
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চান্দরা পল্লী বিদ্যুৎ জোড়াপাম্প এলাকায় রবিবার দ্বিতীয় দিনেও চলছে বনের জমিতে গডে উঠা শীর্ষ সন্ত্রাসী বনখেকো মুচি জসিমের সেই গ্রামের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান। শনিবার থেকে শুরু করা হয় বনবিভাগের দিনব্যাপী শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান। ওই দিন বনবিভাগের জমিতে গড়ে উঠা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে গুডিয়ে দেওয়া হয়।বাদ যায়নি বনের জমিতে গডে উঠা বনখেকো মুচি জসিমের চারতলা বিলাশ বহুল বাড়িটিও।রবিবার দিনব্যপি অভিযানে বনের জমিতে গড়ে উঠা প্রায় একশত আশিটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ পর্যন্ত অভিযানে জবর দখল হওয়া প্রায় ১০ একর জমি উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মৃল্য একশত কোটি টাকা হবে বলে বনবিভাগ দাবী করেছে।দ্বিতীয় দিনের এ উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর। এ সময় তিনি বলেন, জবর দখল হয়ে যাওয়া সরকারি বনের সব জমি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের সার্কেল এসপি মো.শাহিদুল ইসলাম,সহকারী বন সংরক্ষক এনামুল হক,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম,সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজেষ্ট্রিট শাহ মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা,কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, কালিয়াকৈর রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম আজাহারুল ইসলাম,চন্দ্রাবিট কর্মকর্তা মাহমুদুল হক মুরাদ।বনবিভাগ,পুলিশ ,উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার চান্দরা পল্লী বিদ্যুৎ জোড়াপাম্প এলাকায় প্রায় তিনশত বিঘা জমি জবর দখল করে ঘর বাড়ী দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মান করে জসিম ও অবৈধভাবে ওইসব ব্যক্তিদের নিকট থেকে ২-৩ লাখ টাকার বিনিময়ে শাল গজারী গাছ কেটে বনের জমি দখল করে দেয়। জবরদখল করে ‘নতুনপাড়া’ নামে একটি গ্রাম গড়ে তোলা হয়। অথচ বছর তিন-চার আগেও ওই এলাকা শাল-গজারির গভীর অরণ্যে ঘেরা ছিল। রাতারাতি পুরো বনাঞ্চল বিরান ভূমিতে পরিণত হয়। বনবিভাগ বার বার চেষ্টা করেও ওই জমি জবর দখলমুক্ত ও জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হয়। দূর্দন্ড প্রতাপের অধিকারী মুচি জসিমের ভয়ে ওই এলাকায় কোন বন রক্ষী ও গনমাধ্যম কর্মীরা প্রবেশ করতে পারেনি। এসময় অনেকেই হয়েছেন লাঞ্ছিত। তার অপকর্মের কারণে তার নামে ২টি মামলায় সাজাসহ ১৮টি বন মামলা থাকা স্বত্তেও দিব্যি ঘুরে বেরিয়েছেন। গাজীপুর পুলিশের নতুন এসপি হিসেবে শামছুন্নাহার যোগদানের পরই পরিবর্তন হয়ে যায় দৃশ্যপট। গত শুক্রবার সকালে কাপাশিয়ার একটি বন থেকে তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। মুচি জসিম নিহত হওয়ার পরই জেলা প্রশাসন ওই বনের জমি উদ্ধারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ প্রেক্ষিতে গত শনিবার দুপুরে ওই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। সহকারী বন সংরক্ষক(এসিএফ) মো. এনামূল হক জানান,গত কয়েক বছরে বনদস্যু জসিম ও তার সহযোগীরা ওই এলাকার প্রায় ১০ একর মূল্যবান জমি জবরদখল করে নেয়।গতকাল থেকে জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় বনের জমি উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। দ্বিতীয় দিনে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নিজে উপস্থিত হয়ে হয়ে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন।বনের সকল বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

গাজীপুরে কাভার্ডভ্যানে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৩

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরে সদর উপজেলায় দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানের পেছনে পিকআপভ্যানের ধাক্কায় ...

ফকিরহাটে যায়যায়দিন পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি  : বাগেরহাটের ফকিরহাটে যায়যায়দিন ফ্রেন্ডস ফোরামের উদ্যোগে সোমবার (১৫ জুলাই) ...