Home | ব্রেকিং নিউজ | শাল্লায় ঘটনার ৩৩ আসামী আটক,মামলার প্রধান আসামি স্বাধীনকে আদালতে আনা হয়নি

শাল্লায় ঘটনার ৩৩ আসামী আটক,মামলার প্রধান আসামি স্বাধীনকে আদালতে আনা হয়নি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের শাল্লার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাওয়ে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আরও দিরাই-শাল্লায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ আরও ৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২১মার্চ) ভোরে দিরাই -শাল্লার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে।

এ নিয়ে এ ঘটনার মামলার প্রধান আসামি শহিদুল ইসলাম স্বাধীনসহ ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে গ্রামবাসীর দায়ের করা মামলায় প্রধান ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি শহিদুল ইসলাম ওরফে স্বাধীন মেম্বারকে শনিবার (২০ মার্চ) ভোরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার একটি গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেট।

কিন্তু এখনো গ্রেপ্তার হওয়া মামলার প্রধান আসামি শহিদুল ইসলাম স্বাধীনকে আদালতে আনা হয়নি।

শাল্লা থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার ৩ আসামিকে গ্রেফতার করেছে। আজ পর্যন্ত এ মামলার ৩৩ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত সকল আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেপ্তার হওয়া স্বাধীন শাল্লা থানায় রাখা হয়েছে আজকে যেকোনো সময় তাকে আদালতে নেয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য,সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁওয়ে হিন্দুদের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে নানা মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে। কেউ বলছেন মামুনুল হক বিরোধী ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে আবার কেউ বলছেন স্থানীয় একটি জলমহাল নিয়ে এ তান্ডব চালানো হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার পর নেপথ্যের ঘটনা বেরিয়ে আসাতে শুরু করেছে মূল ঘটনা।

জানা যায়, দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম স্বাধীন বরাম হাওরের কুচাখাই বিলের ইজারাদার। তিনি বিলের পানি শুকিয়ে মাছ ধরায় ফসলি জমির পানি সংকট দেখা দেয়। অবৈধভাবে মৎস্য আহরণ করায় নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুটন দাসসহ গ্রামের অনেক কৃষকই প্রতিবাদ করে আসছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা জগদীশ দন্দ্র দাস শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে স্বাধীন মেম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এর পর থেকে ক্ষেপে ওঠেন স্বাধীন মেম্বার ও একই গ্রামের পক্কন মিয়া।

এদিকে, হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব গত ১৫ মার্চ দিরাই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। হেফাজতের এই নেতাকে নিয়ে শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুটন দাস আপন নামে এক ব্যক্তি গালমন্দ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। স্বাধীন মেম্বার ফেইসবুকের স্ট্যাটাসকে কাজে লাগিয়ে চার গ্রামের সাধারণ মানুষের মাঝে ধর্মীয় উম্মাদনা সৃষ্টি করেন। প্রতিশোধের নেশায় মত্ত হয়ে ধর্মকে ব্যবহার করে নোয়াগাঁও গ্রামে স্বাধীন মেম্বারের নেতৃত্বে বেশ কিছু বাড়িঘর ভাংচুর হয়। এই ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে বৃহস্পতিবার রাতে। দুই মামলার একটির বাদী শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিম। অন্য মামলার বাদী স্থানীয় হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল। চেয়াম্যানের নিজ বাড়ি ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে। যেখানে হিন্দুদের বাড়িঘরে বুধবার সকালে ব্যাপক হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।
মামলায় ৫০ জনের নাম উল্লেখসহ দিরাই থানার সরমঙ্গল ইউনিয়নের চন্দ্রপুর,নাচনী এবং শাল্লা থানার হবিবপুর কাশিপুর গ্রামের ১৫০০জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে ঘটনার উস্কানিদাতা নাচনী গ্রামের বাসিন্দা সরমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও যুবলীগ সভাপতি স্বাধীন মিয়াকে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর গত বৃহস্পাতিবার গভীর রাতে ২২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে স্বাধীন মেম্বারকেও গ্রেফতার করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

করোনামুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত

স্টাফ রিপোর্টার: করোনামুক্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল ...

জালালাবাদে তালেবানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে গুলিতে নিহত ৩

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় জালালাবাদ শহরে দেশটির জাতীয় পতাকা পরিবর্তন না করার ...