Home | বিবিধ | পরিবেশ | শঙ্খ নদীর নাব্যতা হ্রাস : বোট চালক ও জেলেদের দুর্দিন

শঙ্খ নদীর নাব্যতা হ্রাস : বোট চালক ও জেলেদের দুর্দিন

05-10-2013নেওয়াজ হোছাইন নিষাদ, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : এককালের প্রমত্তা শঙ্খ নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় নৌ চলাচল হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। নদীতে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর ও ডুবোচর। ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ার পাশাপাশি সেচ বিপর্যয় সহ নদী পথে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিখাতে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে বালির আস্তরনে ঢাকা পড়ে গেছে নদীর তীরবর্তী অনেক ফসলী জমি। বেকার হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। শঙ্খ নদীর উৎপত্তিস্থল বার্মায় হলেও পার্বত্য জেলা বান্দরবানের গহীন পাহাড়ী উপজেলা থানছি মুরং সম্প্রদায় অধ্যুষিত রেমাক্রি এলাকায় প্রায় দুই হাজার পাঁচশত ফুট উচু থেকে প্রবাহমান ঝর্ণাধারা থেকে এ নদীর যাত্রা শুরু বলে জানা যায়। উৎপত্তিস্থলে একটি ডিঙি নৌকা চলাচলের সমপরিমাণ পানির ধারা প্রবাহিত হলেও ধীরে ধীরে সর্পিল গতিতে প্রবাহিত এ শঙ্খ বিশাল দেহ নিয়ে পতিত হয়েছে কর্ণফুলী নদীতে। এ নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অনেক হাট বাজার ও জনবসতি। দক্ষিণ চট্টগ্রামের কালাপুর বাজার, আইশ্যা খালী বাজার, মুরালিঘাট, চানখালি বাজার, যথরমুখ, মাষ্টার হাট, ইউনুচ মার্কেট, চরতি খোদার হাট, খাগরিয়া ভোর বাজার, লোহার পুকুর বাজার, ধর্মপুরের বিশ্বর হাট, বাজালিয়ার বোমাং হাট, পুরানগড়ের নয়া হাট, ধোপাছড়ি বাজারসহ পার্বত্য জেলা বান্দরবানেরও অনেক হাট বাজার গড়ে উঠেছে মূলত শঙ্খ নদীকে কেন্দ্র করে। এক সময় শঙ্খ নদী দিয়ে নৌকা ও ইঞ্জিন বোটের মাধ্যমে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাটবাজার এবং বান্দরবানের ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম থেকে মালামাল পরিবহন করতো। পাশাপাশি বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলায় এবং শঙ্খ তীরবর্তী এলাকায় উৎপাদিত মৌসুমী ফলমূল, শাকসবজিসহ বিভিন্ন পণ্য নদী পথে নৌকা ইঞ্জিন বোটে করে সহজে বহন করা যেতো। যা সড়ক পথে বহন করতে দ্বিগুণ খরচ পড়ে। এছাড়াও নদীর দুই ধারে গড়ে উঠেছিল অনেক জেলে পল্লী। নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো সহস্রাধিক জেলে পরিবার।

গত কয়েক বছর যাবৎ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে প্রচুর পলি মাটি আসায় এবং প্রাকৃতিক কারণে নদীটি নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে প্রতি বছর এ মৌসুমে জেলেও বোট চালকরা বেকার হয়ে পড়ে। তাদের জীবনে নেমে আসে চরম দূর্ভোগ। গত কয়েক যুগে রাক্ষুসী শঙ্খ নদীর করাল গ্রাসে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে কয়েক হাজার পরিবার। গত এক বছরেই নদী গর্ভে হারিয়ে গেছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক বাড়ি। নদীর ভাঙ্গনে বাপ-দাদার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া মানুষগুলো পরিবার পরিজন নিয়ে বর্তমানে সরকারী পরিত্যক্ত ভবন, ধনী লোকের বাড়ি ও নদীর তীরে পলিথিনের ছাউনির ঘরে মানবেতর কাল যাপন করছে। আর এখন শঙ্খ নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় নৌ চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। নদীতে চলাচলরত বোট চালক আলী আহমদ, কামাল হোসেন ও জানে আলম জানান, শঙ্খ নদীতে তিন হাজারের অধিক নৌকা ও ইঞ্জিন বোট চালিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার লোক সংসার চালাতো। এছাড়াও নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো অনেক জেলে পরিবার। নদীতে পানি কমে যাওয়ায় আগের মত মাছ ধরতে পারছেনা জেলেরা। বর্তমানে কিছু কিছু যাত্রীবাহি নৌকা চলাচল করলেও মালবাহী নৌ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তাই বেকার হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। নদীর পানির সাথে সম্পৃক্ত এসব পরিবারগুলো বর্তমানে অনাহারে অর্ধাহারে কাল যাপন করছে। 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

যমুনা নদী থেকে চলছে বালু উত্তোলন; বসতি ও বেরি বাঁধ ধসের আশংকা

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগরের কাশিমপুর বরাইচ পাড়া এলাকায় ছোট যমুনা ...

সিলেটে হঠাৎ মৃদু ভূমিকম্প

সিলেট প্রতিনিধি : দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা সিলেটে মৃদু ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শনিবার ...