Home | সারা দেশ | লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত: ত্রাণ বিতরণ

লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত: ত্রাণ বিতরণ

নুরনবী সরকার, লালমনিরহাট ঃ ভারি বর্ষন ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তা, নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। নদী গুলোর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকা গুলোতে দুই দিন ধরে বন্যা দেখা দিয়েছে। তিস্তার পানিতে জেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। পানিবন্দি লোকজনের মাঝে ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি ও ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের দোয়ানী পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২.৫৪ সেন্টিমিটার যা স্বাভাবিকের (৫২.৪০ সেন্টিমিটার) চেয়ে ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

তিস্তা পাড়ের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় বন্যায় সব চেয়ে বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে। ভারত গজল ডোবা ব্যারেজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ঘর বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন। প্রচন্ড গতিতে ময়লা ও ঘোলা পানি বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। পানি গতি নিয়ন্ত্রন করতে তিস্তা ব্যারাজের বেশি ভাগ গেট খুলে দেয়া হয়েছে। ফলে তিস্তার পানিতে পাটগ্রামে অবস্থিত বহুল আলোচিত বিলুপ্ত ছিটমহল আঙ্গোরপোতা-দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সির্ন্দুনা, টংভাঙ্গা, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন, কালীগঞ্চ উপজেলার ভোটমারী, শোলমারী, জমিরবাড়ী, বইরাতী, আদিতমারী উপজেলার কুঠিপাড়া, গোবর্দ্ধধন, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছা, রাজপুর, তিস্তা, গোকুন্ডা এলাকার চরে ১৮ গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার একর আমন ধানের বীজ তলাসহ অনেক ফসলী ক্ষেত তিস্তার পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড দোয়ানী’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তফিজুর রহমান বলেন, ভারত থেকে পানি আসায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কারণে তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় দুই দিন ধরে বন্যা দেখা দিয়েছে। আমরা প্রতি মুহুর্ত্বে বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করছি। এদিকে হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্না ও পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের বন্যা কবলিত লোকজনের মাঝে ২৪ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ১ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মোঃ আলা উদ্দিন খাঁন জানান, তিস্তা নদীসহ ছোট নদী গুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা তীরবর্তী এলাকা গুলোতে বন্যা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫০ মেঃ টন চাল ত্রাণ হিসাবে বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম)’র সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন জানান, পানিবন্দি পারিবার গুলোর সহযোগিতার জন্য ত্রাণ মন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। প্রতিটি পানিবন্দি পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ফকিরহাটে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী মহোৎসব উদযাপন

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাটের ফকিরহাটে উৎসব মূখর পরিবেশে শ্রী কৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী ...

কুড়িগ্রামে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে র‌্যালী অনুষ্ঠিত

অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালী অনুষ্ঠিত ...