Home | বিবিধ | পরিবেশ | লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪ বছরে ৪ লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪ বছরে ৪ লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন

lawachara-n-park-bnbজালাল আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি : দেশে ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্টখ্যাত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে গত ৪ বছরে ৪ লাখ ৮১৩ জন দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটেছে। পর্যটকদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা  থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৯০ লাখ ২০ হাজার ১৪০ টাকা। ২০০৯ সালের ১ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত এ টাকা আয় হয়েছে। সূত্র জানায়, দিন দিন পর্যটকের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী আইন অনুসারে ২ হাজার ৭৪০ হেক্টর আয়তনের পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বনের অভ্যন্তরে ১ হাজার ২৫০ হেক্টর এলাকা নিয়ে ১৯৯৬ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৯ সালের ১ নভেম্বর এ পার্কে প্রবেশ ফি চালু হওয়ার পর ছাত্রছাত্রী ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ১০ টাকা, প্রাপ্তবয়স্কদের ২০ টাকা এবং বিদেশিদের জন্য ৫ ইউএস ডলার প্রবেশ ফি দিয়ে লাউয়াছড়ায় প্রবেশ করতে হয়। এছাড়া গাড়ি, জিপ, মাইক্রোবাস পার্কিংয়ের জন্য ২৫ টাকা, বনভোজন এলাকার বনভোজনের জন্য জনপ্রতি ১০ টাকা এবং শ্যূটিং এলাকায় ১ দিনের জন্য ৬ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়। প্রবেশ ফি চালুর পর গত ৪ বছরে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান আরও বেশি পরিচিত হয়ে উঠেছে। ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্ট ইকো-সিস্টেমস অ্যাণ্ড লাইভলিহুডস প্রজেক্ট (ক্রেল)’র শ্রীমঙ্গল ক্লাস্টার অফিসের সাইট অফিসার নজরল ইসলাম জানান, গত ৪ বছরে লাউয়াছড়ায় বিদেশি পর্যটক এসেছেন ৫ হাজার ২১৮ জন। এতে রাজস্ব আয় হয় ১৮ লাখ ৩০ হাজার ৩০০ টাকা। বনভোজনে এসেছেন ১৫ হাজার ৩০ জন। এ থেকে রাজস্ব আয় হয় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা। আগত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ২৮টি। এ থেকে আয় হয়েছে ৬ লাখ ৫০ হাজার ৭০০ টাকা এবং পার্কের ভেতরে শ্যূটিং হয়েছে ১১টি। এ থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ৬৬ হাজার টাকা। জীববৈচিত্র্য ও নান্দনিক সৌন্দর্য্যরে লাউয়াছড়া জাতীয় পার্ক এখন শুধু পর্যটকদেরই স্থান নয়, এ পার্ক বর্তমানে এক জীবন্ত ও প্রাকৃতিক গবেষণাগার। এখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণার জন্য গবেষকরা আসছেন। পার্কটি এখন পৃথিবীর মানচিত্রে গৌরবময় স্থান দখল করে নিয়েছে। বিশ্বব্যাপী বিপন্ন এবং বাংলাদেশে মহাবিপন্ন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত উল¬ুক যে চারটি দেশে চোখে পড়ে তন্মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম এবং লাউয়াছড়া পার্কই উল­ুকের একক বৃহত্তম আবাসস্থল।
Kamalgonj Lawachara National Park Pic 3লাউয়াছড়া সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, এই পার্কটি এখন শিক্ষা, গবেষণা, ইকো-ট্যুরিজমসহ ভ্রমণপিয়াসীদের চিত্ত বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য ইতোমধ্যে এ পার্কে স্থাপিত হয়েছে পার্ক অফিস, ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার, ট্যুরিস্ট সপ, ডরমেটরি ভবন, হাইকিং ট্রেইল, পিকনিক স্পট, গোলঘর, পাবলিক টয়লেটসহ অন্যান্য অবকাঠামো।
প্রসঙ্গত, মিশ্র চিরহরিৎ এ পার্কে রয়েছে ৪৬০ প্রজাতির জীব ও ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ। এসবের মধ্যে সেগুন, গর্জন, চাপালিশ, মেনজিয়াম, ডুমুর, আফ্রিকান ট্রিক ওক, বাঁশপাতা প্রভৃতি উলে­খযোগ্য। অপূর্ব সুন্দর মিশ্র চিরহরিৎ এ বনে রয়েছে নানা বৈচিত্র্যের ২০ এর অধিক প্রজাতির বুনো অর্কিড। বর্ষাকালে এসব গাছে ফুলের সমারোহ ঘটে। তাছাড়াও এ বনে রয়েছে ৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ১৭ প্রজাতির পোকামাকড় এবং ২৪৬ প্রজাতির পাখি। এদের মধ্যে উল¬ুক, বানর, হনুমান, লজ্জাবতী বানর, ধনেশ, শ্যামা, অজগর, হরিণ ও মেছোবাঘ উলে­খযোগ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পবিত্র ঈদুল আজহা ২ সেপ্টেম্বর হওয়ার সম্ভাবনা

স্টাফ রিপোর্টার :  আগামী ২৩ আগস্ট সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ ...

কবি শামসুর রাহমানের একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার :  বরেণ্য কবি শামসুর রাহমানের একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৭ আগস্ট। ...