Home | জাতীয় | রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক দূতাবাসকে অন্তর্ভুক্ত করতে মিয়ানমার সম্মত

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক দূতাবাসকে অন্তর্ভুক্ত করতে মিয়ানমার সম্মত

স্টাফ রিপোর্টার : রাখাইন থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক দূতাবাসকে (ইউএনইচসিআর) অন্তর্ভুক্ত করতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এতথ্য জানান। তিনি আরো জানান, মিয়ানমার বলছে, বাংলাদেশের দেয়া রোহিঙ্গাদের প্রাথমিক তালিকায় তথ্যের ঘাটতি আছে। তারা (মিয়ানমার) শিগগিরই দ্বিতীয় দফা আরেকটি তালিকা দেবে।

গত মাসে মিয়ানমারে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলের সফরের সময়ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআরকে অন্তর্ভুক্ত করতে সম্মত ছিল না মিয়ানমার। জাতিসংঘের ওই প্রতিনিধি দলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকও ছিলেন।

সেসময় মিয়ানমার থেকে ফিরে এসে শহীদুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রথম দিকে সপ্তাহে ১৫শ’করে রোহিঙ্গা নেবে মিয়ানমার। পরে এ সংখ্যা বাড়বে।

এর আগে রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ ভূমিতে ফেরাতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে দুই দিনের বৈঠকে বসেন। পরে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম শুরু করতে একটি ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তিতে বলা হয়, যাচাই-বাছাই করে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন আগামী ২ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

এছাড়া মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৯৮০ সালে দুই দেশের সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী ‘সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা’ সন্ত্রাসীদের হস্তান্তর করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানায়।

তবে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার নানা তালবাহানা করছে বলে অভিযোগ করে আসছে। রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধণের ঘটনাকে মিয়ানামেরর পূর্বপরিকল্পিত এবং কোনো জাতিগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার ‘পাঠ্যুস্তকীয় উদাহারণ’ বলেও আখ্যা দিয়েছে সংস্থাটি।

সম্প্রতি সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেস বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো মিয়ানমার অসম্ভব করে তুলেছে। সেখানে (রাখাইন) রোহিঙ্গাদের ফেরত যাবার মতো কোনো নিরাপদ পরিস্থিতিও নেই।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে কথিত হামলার ধুয়ো তুলে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নৃশংসতা চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। দেশটির কর্তৃপক্ষ দাবি করে আসছে, রোহিঙ্গা ‘সন্ত্রাসী’দের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল। তখন থেকে নির্যাতন নিপীড়ন থেকে প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে আনুমানিক ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। বর্তমানে তারা কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

১ সেপ্টেম্বর সমাবেশ করবে বিএনপি

স্টাফ রির্পোটার : আগামী ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ওই দিন ...

ইসরায়েল-আমিরাতের অস্ত্র চুক্তি

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ইসরায়েলের সঙ্গে বিশাল আকারের সামরিক চুক্তি সই করেছে সংযুক্ত আরব ...