Home | আন্তর্জাতিক | রোহিঙ্গাদের দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া রোধে আরও কঠোর হচ্ছে ভারত

রোহিঙ্গাদের দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া রোধে আরও কঠোর হচ্ছে ভারত

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ভারতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া রোধে আরও কঠোর হচ্ছে ভারত। বিভিন্ন শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক তথ্য ও যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য নথিভুক্ত করতে রাজ্য সরকারগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।

রাজ্যগুলোর অনুমোদিত পূর্ব নির্ধারিত শিবিরে রোহিঙ্গাদের রাখতে হবে বলে নির্দেশে বলা হয়েছে। তবে তাদের সব তথ্য নেয়া হলেও কোনো প্রকার পরিচয়পত্র ইস্যু না করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অদূর ভবিষ্যতে যদি তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে হয়, তাহলে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা সম্ভব হবে৷ এ কারণেই এসব নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে।

এর প্রধান উদ্দেশ্য, নির্ধারিত শিবিরের বাইরে রোহিঙ্গারা যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে৷ রোহিঙ্গাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক জঙ্গিবাদী মিশে রয়েছে এবং তারা নানা রকম অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, ভারতের নিরাপত্তার দিক থেকে যা আশঙ্কার কারণ৷

সম্প্রতি জারি করা কেন্দ্রের এই নির্দেশনামায় বলা হয়েছে, এদের সঙ্গে বিদেশি কিছু জঙ্গি গোষ্ঠীর যোগাসাজশ রয়েছে, যারা অবৈধভাবে ভারতে ঢুকেছে এবং মিথ্যা তথ্যা দিয়ে ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড সংগ্রহ করেছে৷ অবৈধ অর্থ পাচার এবং অন্যান্য দেশবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত আছে বলেও ভারত সরকারের কাছে খবর আছে৷ রোহিঙ্গাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক আবার জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকেছে৷

ভারতের রোহিঙ্গা শরণার্থীনীতি সম্পর্কে গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা সংস্থার জেনারেল সেক্রেটারি ধীরাজ সেনগুপ্ত জানান, ভারত সরকার কি জানে না অন্য দেশের শরণার্থীরাও তো ভারতে আছে৷ বৌদ্ধ শরণার্থীদের ক্ষেত্রে তো তা মানা হচ্ছে না? অন্য দেশের শরণার্থীদের জন্য কাজ করেনি, এমন তো নয়৷ জাতিসংঘের গাইডলাইন নেই, এমন তো নয়৷ সেই মতোই কাজ করা উচিত৷ জঙ্গিদের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নাম জড়ালে তাড়াতে সুবিধা হবে৷ কেউ আপত্তি করবে না৷ আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে, মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে ভারত বার্তা দিতে চাইছে যে, ভারত মিয়ানমারের পাশে আছে৷ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা হলো, বাংলাদেশের একটা বড় এলাকা রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য ছেড়ে দিতে হয়েছে৷ বাংলাদেশে উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তি নেই, যেটা এখন ভারতে আছে৷ ধর্ম ছাড়া বিচারের মানদণ্ড নেই৷ মুসলিম হলেই সে ইসলামিক আর ইসলামিক হলেই জঙ্গিবাদের তকমা দিতে সুবিধা৷ জেএনইউ বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসবাদের কোর্স চালু করা নিয়ে তুমুল বিতর্ক৷ এটা অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ফল৷

গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা সংস্থার ধীরাজ সেনগুপ্তের মতে, উদ্বাস্তুদের পাকাপাকিভাবে থাকার কথা নয়৷ রোহিঙ্গারাও নিজের দেশে ফিরে যেতে চায়৷ ফিরে যাবার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমশই বাড়ছে৷ ভারতেরও উচিত তাতে শামিল হওয়া৷ বিশ্বে বিভিন্ন দেশের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ বাড়ছে৷ ফলে শরণার্থীদের সংখ্যাও বাড়ছে৷ জাতিসংঘ হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না৷ কিছু দেশকেও দায়িত্ব নিতে হবে, ডয়চে ভেলেকে এমনটাই বলেন ধীরাজ সেনগুপ্ত৷

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে৷ এদের মধ্যে ৭০৯৬ জন আছে জম্মু-কাশ্মিরে, ৩০৫৯ জন আছে হায়দ্রাবাদে, ১১১৪ জন আছে হরিয়ানায়, ১২০০ আছে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে, ১০৬১ জন দিল্লিতে এবং ৪০০ জন রাজস্থানে৷

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রে খবর আছে, পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম সীমান্তে দালাল চক্র সক্রিয়৷ অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করার পর এই দালাল চক্র তাদের ভারতীয় ভুয়া পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করে দেয়৷ শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গের কিছু এনজিও রোহিঙ্গা শিবিরে থাকার সুবিধা করে দেয়৷ গোয়েন্দা সূত্র থেকে আরো বলা হয়, কিছু কিছু রোহিঙ্গা যারা সবে অনুপ্রবেশ করেছে তারা দক্ষিণী রাজ্য কেরালা, কর্নাটক ও তামিলনাড়ুতে ঢুকছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে আরও ২১ অভিযোগ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে অর্থপাচার সংক্রান্ত আরও ২১টি অভিযোগ ...

ট্রাম্পের সঙ্গে শুয়ে মজা নেই : পর্ন তারকা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প সবচেয়ে বেশি যে ...