Home | খেলাধূলা | রেকর্ড জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

রেকর্ড জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক : অবশেষে জয়ের বন্দরে পৌঁছে গেলো বাংরাদেশ। তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকারের ব্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিয়ে সিলেটে জয়খরা কাটিয়ে ফেলল বাংলাদেশ।

সিলেট স্টেডিয়ামে প্রথমবার ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নেমেই জয়ের ইতিহাস গড়ল। এর আগে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করে সাকিব আল হাসানের বাহিনী। আগামী সোমবার সিলেটের এই ভেুন্যতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে।

শুক্রবারের (১৪ ডিসেম্বর) এই জয়ের মধ্য দিয়ে এক বছরে সবচেয়ে বেশি (২০টি) ওয়ানডে জয়ের রেকর্ড গড়ল টাইগাররা। চলতি বছরে এনিয়ে ৪১টি ম্যাচ খেলে ২০টিতে জয় পায় বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৬ সালে ৩৩ ম্যাচে ১৯টিতে জয় পেয়েছিল টাইগাররা।

আজ ৩ ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচে ১১.৩ ওভার হাতে রেখেই ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে সফরকারীদের হারিয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। দেশ ও দেশের বাইরে মিলিয়ে এই নিয়ে টানা তিন ওয়ানডে সিরিজ জিতে ফেলল টাইগাররা।

সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ১৯৯ রানের টার্গেটে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে যাচ্ছেন তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার। এর আগে দলকে সুন্দর শুরু এনে দেন তামিম ইকবাল এবং লিটন দাস। জুটি যখন জমে উঠেছে, তখনই ব্যক্তিগত ২৩ রানে বাজে শট খেলে কিমো পলের বলে পাওয়েলের তালুবন্দি হন লিটন। ভাঙে ৪৫ রানের জুটি। তামিম ইকবালের সঙ্গী হন সৌম্য সরকার। দুজনের জুটিতে এখন পর্যন্ত এসেছে ৫৩ রান। বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৭ ওভারে ১ উইকেটে ১২৪। তামিম ৫৫ এবং সৌম্য ৪৪ রানে ব্যাট করছেন।

এর আগে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় তথা শেষ ওয়ানডেতে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯৮ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরুতেই স্পিন আক্রমণে আগের ম্যাচের মতোই চন্দ্রপল হেমরাজ (৯) কে মোহাম্মদ মিঠুনের তালুবন্দি করেন মেহেদী মিরাজ। দ্বিতীয় উইকেটও আসে এই তরুণের ঘূর্ণিতে। ড্যারেন ব্রাভোকে বোল্ড করে ভাঙলেন জমে উঠতে থাকা জুটি। উইন্ডিজের দলীয় ৫৭ রানে লেগ-মিডল স্টাম্পে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন মিরাজ। তৃতীয় উইকেট আসে রুবেল হোসেনের স্থলাভিষিক্ত সাইফ উদ্দিনের হাত ধরে। তরুণ পেসারের সোজা বোল্ড হয়ে যান ১৯ রান করা স্যামুয়েলস।

বিপজ্জনক শেমরন হেটমায়ার চলতি সফরে ৬ষ্ঠবারের মতো মিরাজের শিকার হয়ে ‘ডাক’ মারেন। তরুণ স্পিনারের বলে মুশফিকের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে চতুর্থ শিকার হন রোভম্যান পাওয়েল (১)। এর মাঝেই সাইফউদ্দিনের একটি বল মুশফিকের পেছনে মাটিতে রাখা হেলমেটে রাখলে পেনাল্টি হিসেবে ৫ রান পায় সফরকারীরা। এরপর মঞ্চে আবির্ভাব সাকিব আল হাসানের। বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডারের ঘূর্ণিতে সীমানর ওপর থেকে রোস্টন চেইসের (৮) দুর্দান্ত ক্যাচ নেনে সৌম্য সরকার। এই ঘূর্ণি তারকার দ্বিতীয় শিকার এক ছক্কায় ৬ রান করা অ্যালান।

অধিনায়ক মাশরাফির দারুণ এক ডেলিভারিতে পলের (১২) লেগস্টাম্প উড়ে যায়। অধিনায়কের দ্বিতীয় শিকার কেমার রোচ (৩)। রিভিউ নিয়েও এলবিডাব্লিউডের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে পারেননি এই পেসার। দলের ৯ উইকেট পতনের পর দেবেন্দ্র বিশুকে সঙ্গী করে সেঞ্চুরি তুলে নেন শাই হোপ। সাকিব আল হাসানকে ছক্কা মেরে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে তিন অংক স্পর্শ করতে হোপ খেলেন ১২১ বল। শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত থাকেন ১০৮ রানে। ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯৮ রানে শেষ হয়  উইন্ডিজের ইনিংস। বল হাতে মাত্র ২৯ রানে ৪ উইকেট নেন মিরাজ। ২টি করে উইকেট নেন মাশরাফি এবং সাকিব। ১টি উইকেট নিয়েছেন সাইফউদ্দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চীনে কমেছে শিশু জন্মহার

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: চীনের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে ...

করোনায় ১০ জনের মৃত্যু

স্বাস্থ্য ডেস্ক: বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত‌্যু হয়েছে। এ ...