Home | ফটো সংবাদ | রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে দেয়া হবে না : খালেদা

রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে দেয়া হবে না : খালেদা

bdtoday24.com khaleda ziaস্টাফ রিপোর্টার : রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। রবিবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে ১৮ দল আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

 

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাদের বিদ্যুতের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু রামপালের মতো জায়গায় এ বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে দেয়া যাবে না। এখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হলে সুন্দরবন নষ্ট হয়ে যাবে। এ এলাকার সব মাছ, গাছ ও পানি নষ্ট হয়ে যাবে। খুলনাবাসী এখানে থাকতে পারবে না। ফলে এখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে দেয়া যাবে না।’

 

তাই অন্য কোনো সুবিধাজনক জায়গায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

লংমার্চের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র না করার প্রতিবাদে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ রক্ষা জাতীয় কমিটি লংমার্চ করেছে। আমরা এই কমিটির আন্দোলনের সাথে আছি। দেশের স্বার্থে একসাথে কাজ করতে আমরা প্রস্তুত আছি। কারণ, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই আমরা।’

তিনি বলেন, ‘খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীকে মেয়র নির্বাচিত করে খুলনাবাসী এই সরকারকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে। তাই সরকারের এতো ভয়। এজন্য তারা নির্বাচনে কাউকে নিতে চায় না। তারা একলা নির্বাচন করতে চায়।’

 

যশোর-খুলনা মহাসড়কের রাস্তার বেহাল দশার কথা উল্লেখ করে বেগম জিয়া বলেন, ‘যে সরকার একটি রাস্তা মেরামত করতে পারে না, তাদের কাছে উন্নয়নের কোনো আশা করা যায় না। তাদের কাছে উন্নয়নের আশা করে কোনো লাভ নেই।’

 

সরকারকে লুটেরা ও দুর্নীতিবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই সরকার এমন উন্নয়ন করেছে যা চোখে পড়ে না। কারণ, তারা জনগণের কোনো উন্নয়ন করেনি, করেছে নিজেদের উন্নয়ন।

 

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘খুলনার রূপসা সেতু আমরা করেছি। খুলনায় আমরা অনেক উন্নয়ন করেছি। আর এই সরকার এসে খুলনার শিল্পাঞ্চল ধ্বংস করেছে।’

 

খালেদা জিয়া দাবি করে বলেন, ‘সরকারের গুম, হত্যা, দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে সারা দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তাই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মানতেই হবে। কারণ, দলীয় সরকারের অধীনে এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না।’

আগামীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে খুলনাকে শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই এলাকার মানুষের দাবি ছিল পদ্মাসেতু। কিন্তু সরকার তা করতে পারেনি। চুরি করে সব টাকা খেয়ে ফেলেছে। তবে ১৮ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে একটা নয়, দুইটা পদ্মা সেতু করা হবে।’

 

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি সাংসদ নুরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ম্ওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম দাদুভাই, অধ্যাপক মাজেদুল ইসলাম, শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, বরকত উল্লাহ বুলু, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শাহ শরীফ কামাল তাজ, কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমী, যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, মহিলা দলের সভানেত্রী নূরী আরা সাফা, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল কাদের ভুইয়া জুয়েল প্রমুখ।

 

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সাংসদ আ ন ম শামসুল ইসলাম, অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, আমিনুল ইসলাম, মোহাদ্দেস আবদুল খালেক, মাওলানা দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে মাওলানা শামীম সাঈদী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ এক ডজন নেতা জনসভায় বক্তব্য রাখেন।

 

১৮ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন-ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল মোবিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শাহীনুর পাশা প্রমুখ।

 

 

 

এছাড়া বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মুসলিম লীগের নির্বাহী সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ারুল হক, এনপিপির মহাসচিব ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবদুল মালেক চৌধুরী, ডেমোক্রেটিক লীগের মহাসচিব সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, ড. ওসমান ফারুক, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শাহ আবু জাফর, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন-অর রশীদ, রাজশাহীর মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা জনসভায় উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পঞ্চগড়ে নাশকতাকারী সন্দেহে ৬ নারীকে পুলিশে সোপর্দ

স্টাফ রিপোর্টার :  পঞ্চগড়ে নাশকতাকারী সন্দেহে ৬ নারীকে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনগণ। ...

রাশিয়ার প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা গ্রেফতার

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  রাশিয়ার প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিকে গ্রেফতার করেছে ...