ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | রাণীশংকৈলে ১৯টি মাদ্রাসার মধ্যে একটিতেও শহীদ মিনার নেই

রাণীশংকৈলে ১৯টি মাদ্রাসার মধ্যে একটিতেও শহীদ মিনার নেই

৭০ বছর আগের ভাষা আন্দালনের পথ ধরে স্বাধীনতা ৫০ বছর পেরিয়েছে দেশে। এরপরও ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাষাশহিদদের স্মরণে তৈরি করা হয়নি শহীদ মিনার। এ অবস্থা উপজেলা শহর থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজগুলোতে। কোনো মাদরাসায় নেই শহীদ মিনার। এতে যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করতে পারেনা শিক্ষার্থীরা।

রাণীশংকৈল উপজেলায় কিন্ডারগার্টেন বাদে ২৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শহীদ মিনার আছে মাত্র ৪৫ টিতে। ভাষা দিবসটি দায়সারাভাবে পালন করা হচ্ছে। এতে ভাষা সংগ্রামের ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে জানা গেছে, উপজেলার ১৫৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে নেকমরদ, গাজীর হাট, বনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আটটিতে রয়েছে শহীদ মিনার। অপরদিকে উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫ টিতে ও ১২টি কলেজের মধ্যে ৩ টিতে শহীদ মিনার রয়েছে। অপরদিকে ১৯টি মাদ্রাসার মধ্যে একটিতেও শহীদ মিনার নেই। এ ছাড়া রয়েছে অর্ধশতাধিক কিন্ডারগার্টেন।একটিতেও শহীদমিনার নেই কিন্ডারগার্ডেন গুলোর।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাঁশ, কাঠ, ককসিট দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় তারা। শহিদদের স্মরণে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি তাদের।

প্রশাসন বলছে সরকারি বরাদ্দের কথা। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার তৈরির জন্য সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ নেই। এ ছাড়া নির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি যে, শহীদ মিনার করতেই হবে, তাই নিজ উদ্যোগে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার তৈরি করতে হচ্ছে তাদের।

শহীদ মিনার না থাকা প্রসঙ্গে রাণীশংকৈল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মহাদেব বসাক বলেন, ‘মূলত একুশে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচিগুলো রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজের সঙ্গে প্রশাসন যৌথভাবে করে দেয়। এ জন্য আমাদের কলেজে তেমন কোনো কর্মসূচি পালন হয় না।’

রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি আমাদের উপজেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হোক। তাহলে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নতুন প্রজন্মের মাঝে সৃষ্টি হবে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাহিম উদ্দীন জানান, সরকারিভাবে নির্দেশনা রয়েছে প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করার। এই উপজেলায় এখনো যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপন হয়নি সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খুব দ্রুত শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের তাগাদা দেওয়া হবে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী শাহরিয়ার জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপন করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।

আনোয়ার হোসেন আকাশ,
রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে ধর্ষণের শিকার ১৪ বছরের কিশোরী। গ্রেপ্তার ২

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা)ঃ নেত্রকোনা মদনে আত্মীয় বাড়ি থেকে ফেরার পথে সঙ্গবদ্ধ ...

হামিম নামের এই বাচ্চার অবিভাবক খুঁজছে পুলিশ

হবিগঞ্জের লাখাই থানায় সাত বছরের শিশু বাচ্চা পাওয়া গেছে নাম হামিম(৭), পিতা: ...