ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | কৃষি | রাজারহাটে তিস্তার চরে সবুজের সমারোহ

রাজারহাটে তিস্তার চরে সবুজের সমারোহ

আলতাফ হোসেন সরকার, রাজারহাট(কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতাঃ তিস্তার বুক চিরে জেগে উঠা সবুজের সমারহে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে । নদীতে পানি না থাকলে ও নদী ভিত্তিক জিবকিা নির্বাহ কারীরা চরঞ্চলে পানি ও দোআশ মাঠিতে চাষাবাদ করে আলোর মুখ দেখছেন। ফলে তিস্তা নদী অনবাহিকায় নুতুন করে প্রানের স্পন্দ ফিরে এছেছে। চরঞ্চল জুড়ে সবুজের সমারহে মিষ্টি কুমরা, ভুট্টা, আলু, বাদাম রসুন সহ না জাতের ফসলের চাষাবাদ হচ্ছে। তিস্তার বালুচরে চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন চরঞ্চলের হাজার হাজার হত দরিদ্র মানুষ। চরঞ্চলের চাষাবাদ কৃত মিষ্টি কুমড়া সহ অনান্য ফসল স্থানিয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
কৃষকরা জানান সরকারী সাহায্য সহযোগিতা পেলে এসব ফসল চাষাবাতে আরো আগ্রহী হবেন। তবে জেলায় সবজি সংরকক্ষনে ও হিমাগার না থাকায় সরক ব্যবস্থাপনায় বাজার সম্মুখীন হওয়ায় মধ্যস্থতাভোগীদের দারস্থ হতে হচ্ছে কৃষকদের । বেসরকরী এনজিও সংস্থা ইউডিপিএস উত্তরা ডিপলোপমেন্ট প্রোগ্রাম সোসাইটি তিস্তার চরঞ্চলে হতদরিদ্র কৃষকদের মাঝে নিজেস্ব আর্থিক সহয়তায় এই চাষাবাদ প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তিস্তা নদীবেষ্ঠিত বিদ্যানন্দ, নাজিমখা, ঘড়িয়ালডাঙ্গার, বিভিন্ন চরে সরে জমিনে গতকাল সমবার গিয়ে দেখা যায় খর¯্রােতা তিস্তার বুকে জেগে উঠা চরঞ্চলে সবুজের সমারোহ চরে পলি ও দোআশ মাটিতে মিষ্টি কুমড়া পিয়াচ রসুন তামাক ভুট্টা সহ নানা জতের ফসল। কৃষকরা জানান এক সময় দরিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করতো তিস্তার চরঞ্চলের মানুষ । এই অঞ্চলকে বলা হত মংগা পিরিত এলাকা। চরে চাষাবাদ শুরু হওয়ায় পাল্টে গেছে এখানকার জীবন যাত্রা প্রায় সারা বছরে চরে কোননা চাষাবাদ হচ্ছে। ফলে দরিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করা মানুষ গুলো এখন সাবলমী।
কৃষক মুকুল মিয়া রহিম উদ্দিন নজরুল ফারাজী মাহমুদা বেগম আব্দুল বাতেন মনতাজ আলী সফিকুল ইসলাম চাদ মিয়া সহ আরো অনেকের সাথে কথা বলে তারা জানান ৫বছর আগে তারা অভাবের সাথে যুদ্ধ করেছেন। এখন তারা তিস্তার চরে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। ইউডিপিএস এর সহযোগিতায় শুধু রতি, তৈয়বখা মন্দির চতুরা রামহরি মৌজার বিভিন্ন এলাকার চরঞ্চলে ২০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ হচ্ছে। ঐসব এলকায় প্রায় ৮০ জন করে কৃষক বিনা খরচে শুধু তাদের শ্রম দিয়ে চাষ করেছেন মিষ্টি কুমড়া। কুমড়ার বীজ রোপন থেকে শুরু করে খেত থেকে কুমড়া সংগ্রহ সময় লাগে ৫মাস। কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে মিষ্টি কুমড়ার খেত। দেখলে মনে হয়না ধু ধু বালু চরে যেন সবুজ গালিচা বিচিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চরে আবাদ কৃত মিষ্টি কুমড়া পাইকারি ভাবে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকাপিচ কৃষকরা জানিয়েছেন প্রতি মৌসুমে মিষ্টি কুমড়া চাষে খরচ হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। আর আয় হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা। তার অভিযোগ করে বলেন মধ্যস্থ ভোগি পাইকারা কম দামে এসব ফসল কিনে নেয় তারা আড়তে গিয়ে এই ফসল দিগুন দামে বিক্রি করে। বেসরকারী এনজিও সংস্থ্যা ইউডিপিএস গ্রুপের উপজেলা প্রজেক্ট ফেসিলেটর মোঃ রেফাজুল আলম জানান এ অঞ্চলে কৃষি পন্য সংরক্ষনের জন্য হিমাগার স্থাপন করলে তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মুল্য পেত। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা যষ্ঠি চন্দ্র রায় জানান চলতি বছর সরকারী ভাবে প্রর্দশনি আকারে মিষ্টি কুমড়ার চাষ শুরু করা হয়েছে। আগামি বছর আর ব্যাপক ভাবে চাষাবাদ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তাহিরপুরে ৩টি বৃহত্তর বোর ফসলি হাওর জিওটেক্সটাইল ব্যবহার না করায় ঝুকিঁর মুখে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বৃহৎ ৩হাওরের ১০ক্লোজার বাঁেধর একটিতেও এখনো ...

ফকিরহাটে মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে আম গাছ : বাম্পার ফলনের আশা

সুমন কর্মকার, বাগেরহাট // ষড় ঋতুর এই দেশে এখন ঋতুরাজ বসন্ত, শীতের ...