Home | বিবিধ | কৃষি | রাজারহাটে এডব্লিউডি’র ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে

রাজারহাটে এডব্লিউডি’র ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে

আলতাফ হোসেন সরকার,রাজরহাট (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনষ্টিটিউট এর আর্থিক সহযোগিতায় বোরো চাষে পর্যাক্রমে ভিজানো ও শুকানো সেচ পদ্ধতি পানি সাশ্রয় অলটারনেট ওয়েটিং এন্ড ড্রাইং (এডব্লিউডি) নামে নতুন এই প্রযুক্তি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এই প্রযুক্তিতে একদিকে যেমন কৃষকের সেচ খরচ কমছে অন্যদিকে কৃষকের বোরো ধানের বাম্পার ফলেনের আর্শীবাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। এ বছর রাজারহাট উপজেলায় ১২ হাজার ২০০ হেক্টের জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।এর মধ্যে রাজারহাট ইউনিয়নের মেকুরটারী ব্লকের কয়েকটি গ্রামে পর্যাক্রমে ভিজানো ও শুকানো সেচ পদ্ধতি পানি সাশ্রয় (এডব্লিউডি) এই প্রযুক্তি পরীক্ষামুলক ভাবে ব্যবহারে সুফল পাওয়া, উপজেলার সব কৃষকরা এই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য এগিয়ে আসে।যারা এ পদ্ধতি দেখেছেন এবং হাতে কলমে প্রমাণ পেয়েছেন, এই সব কৃষক ওই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

সরেজমিনে রাজারহাট উপজেলার মেকুরটারী ব্লকের হাড়িডাঙ্গা ও দুর্গাচরন গ্রামের কয়েকটি বোরো ধান ক্ষেতে এ প্রযুক্তির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।এডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহারকারী কয়েকজন কৃষক জানান,তাদের জমিতে ১ ফুট লম্বা ১ টুকরা প্লাষ্টিক পাইপের ৬ ইঞ্চি ছিদ্রযুক্ত অংশটুকু খাড়াভাবে মাটির মধ্যে পুতে রেখে ,পাইপের মাধ্যমে পানির উপস্থিতি দেখে পর্যায়ক্রমে ভিজানো ও শুকানো সেচ পদ্ধতিতে জমিতে পানি দেন অর্থ্যাৎ পানি সাশ্রয়ী (এডব্লিউডি) পদ্ধতিতে সেচ দেন।হাড়িডাঙ্গা গ্রামের কৃষক কিশোরী মোহন,পরেশ চন্দ্র,মোবারক হোসেন বলেন, বোরো মৈৗসুমের শুরুতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দিলদার হোসেন এসে এডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করেন এবং পরামর্শ সভা করেন।পরে সম্মত হয়ে কুড়িগ্রাম সলিডারিটি থেকে বিনামূল্যে ওই প্রযুক্তির যন্ত্রাংশ আমরা সরবরাহ করি এবং ওই প্রযুক্তির মাধ্যমে জমিতে সেচ দেই।এতে প্রায় ৩০ শতাংশ পানি সাশ্রয়ী হয় এবং বিঘা প্রতি ফলন বাড়ে।এতে আমরা সবাই লাভোবান হয়ই।

উপ সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ দিলদার হোসেন জানান,বোরো ধানের পানির সমস্যা সমাধানে এডব্লিউডি প্রযুক্তি অভাবনীয় সফলতা এনেছে।বিনা কারণে অপ্রয়োজনে বোরো পানিতে সেচ দেওয়ার দরকার নেই।বোরো চাষের জমিতে মাটির পাইপের পানি ৬ ইঞ্চির নিচে চলে গেলে তবে সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয়। এতে করে কয়েকদিন পরপর জমিতে পানি দেওয়া হয়,অতিরিক্ত পানি সেচ দিতে হয় না।জমিতে পানি ডুকিয়ে রাখলে ধানের জমিতে খাদ্য ঘাটতি বিশেষতঃ জিংক ও সালফার ঘাটতি হয়।এ ছাড়া মাটিতে বাতাস, অক্্িরজেন প্রবেশ করতে পারে না।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান জানান,বোরো ধানের জমিতে এ পদ্ধতিতে সেচ দেওয়া দরকার।তাতে সেচ ব্যয় কমবে এবং পানির সদ্বব্যবহার হবে।একবার ভিজানো একবার শুকানোর কারণে মাটির উপরিভাগে সূক্ষ্ম ফাটলের সৃষ্টি হয়।এতে শিকড় বৃদ্ধি পায় ও নতুন শিকড় গজাতে সহায়তা করে।ফলে ফসলের খাদ্য গ্রহনের বৃদ্ধি পায় এবং ফলবান কুশির সংখ্যা বেশী হয়। এ সবের সম্মিলিত প্রভাবে ফলন বৃদ্ধি হয় অর্থাৎ এক যাত্রায় দ্বৈত লাভ একদিকে সেচের পানি ও সেচ খরচ কমে, অন্যদিকে ফলনও বাড়ে।তাই পর্যাক্রমে রাজারহাট উপজেলার ৭ ইউপিতে এডব্লিউডি প্রযুক্তি সম্প্রসারিত করা হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কাশ্মীর সংকট নিয়ে ট্রাম্পকে ফোন করে যা বললেন মোদি

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : চলমান কাশ্মীর সংকট নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পর এবার ...

বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দিরই দেখতে চান খোদ বাবরের বংশধর

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : বাবরি মসজিদের জায়গায় অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রাম মন্দিরই দেখতে চান ...