ব্রেকিং নিউজ
Home | ফটো সংবাদ | রাজশাহী-২ আসনে বাদশাকে ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগের একটি অংশ

রাজশাহী-২ আসনে বাদশাকে ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগের একটি অংশ

স্টাফ রির্পোটার : পরপর দুবার আওয়ামী লীগের টিকেটে সংসদ নির্বাচিত হয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা এখন জোটের প্রধান শরিক ক্ষমতাসীন দলে বেশ প্রভাব বিস্তার করে আছেন। তাই জোটগত নির্বাচন হলে মনোনয়ন-দৌড়ে তাকেই এগিয়ে রাখছেন সবাই। বিএনপির মনোনয়ন-দৌড়েও আছেন একজন প্রভাবশালী- মিজানুর রহমান মিনু। তবে তার বিরোধীরা চান এখান থেকে নির্বাচন করুন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

পুরো সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-২ আসন। এখানে নব্বই-উত্তর গণতান্ত্রিক নিবর্অচনে প্রথম নৌকার জয় হয় ২০০৮ সালে। সেবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট করে এমপি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।

২০১৪ সালের নির্বাচনেও দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন একসময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা বাদশা। টানা দুই মেয়াদে জোটের এমপি থাকায় আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডে বেশ প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন ওয়ার্কার্স পার্টির এই কেন্দ্রীয় নেতা।

নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে জোটের নেতা ফজলে হোসেন বাদশা এগিয়ে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে এবার তাকে ছাড় দিতে নারাজ মহানগর আওয়ামী লীগের একটি অংশ। তারা চাইছেন আওয়ামী লীগ থেকে  প্রার্থী দিতে। তাদের এ দাবি ইতোমধ্যে দলের হাইকমান্ডেও তুলে ধরা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন-প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছে অন্তত হাফডজন নেতার নাম। তাদের মধ্যে রয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি বেগম আখতার জাহান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, মাহাফুজুল আলম লোটন ও মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলী।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা ডাবলু সরকার বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের ভোট অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এই ভোটকে কাজে লাগাতে তিনি সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিতা চাইবেন। ডাবলু বলেন, ‘বর্তমান এমপি উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র এবং আওয়ামী লীগেরই কোনো নেতা সদর আসনের এমপি হলে উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। তাই আমরা চাই, এবার সদর আসনে আওয়ামী লীগেরই প্রার্থী দেওয়া হোক।’

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এখানে বাদশার মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত। কেন্দ্রীয় মহাজোটে বাদশার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। দুই মেয়াদে সাংসদ বাদশা রাজশাহীর উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় এ অঞ্চলের মানুষকে উজ্জীবিত করতে বাদশার অবদান অসামান্য। এ ছাড়া দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই আর সংগ্রামের অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ বাদশার প্রতি রয়েছে মানুষের ভালোবাসা। এ আসনের ভোটাররা তাকে সজ্জন ব্যক্তি হিসেবেই জানেন।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার রাজশাহী বিমানবন্দর এবং রেশম কারখানা বন্ধ করে দেয়। ফজলে হোসেন বাদশা তার নির্বাচনী অঙ্গীকারে এ দুটি প্রতিষ্ঠান চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, বিমানবন্দর চালু করেন বাদশা। রেশম কারাখানাও চালুর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আর তাই রাজশাহীর জনমত বাদশার পক্ষে রয়েছে বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা।

রাজশাহীর উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আগামী নির্বাচন সম্পর্কে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে রাজশাহীর উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু শিল্পক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। রাজশাহীর বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের দরকার। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য রাজশাহীতে পোশাক কারখানাসহ শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আমি বিষয়গুলো রাজশাহীবাসীর কাছে উত্থাপন করেছি। তারা আমার এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে।’ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাধারণ ভোটাররা তাকে নির্বাচিত করবেন বলে আশা করেন তিনি।
এই আসনে বিএনপির মনোনয়নের ক্ষেত্রে যদিও বেশ এগিয়ে রয়েছেন মিজানুর রহমান মিনু, তবে তার দুশ্চিন্তা কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কবির রিজভী। মিনুর সঙ্গে মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সদ্য সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বিরোধ রয়েছে।

মিনুবিরোধীরা এ আসনে প্রার্থী হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি রুহুল কবির রিজভীর পক্ষে কাজ করছেন বলে শোনা যায়।
মিনু ২০০১ সালে সংসদ নির্বাচিত হন। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা সংসদ সদস্য ছিলেন তার রাজনৈতিক গুরু কবির হোসেন। এ ছাড়া কবির হোসেন ২০০১ সালে রাজশাহী-৬ আসন থেকে সংসদ নির্বাচিত হন। কবীর হোসেন ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত প্রথমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমাবায় এবং পরে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি এবার রাজশাহী-২ আসনে মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছেন।

রাজশাহী-২ আসনের সঙ্গে আগে পবা উপজেলা যুক্ত ছিল। ২০০৮ সালে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এ সময় শুধু সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ড নিয়ে এ আসন গঠিত হয়। এ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে পরপর দুবার এমপি নির্বাচিত হন মিনু। এ ছাড়া একটানা ১৭ বছর ছিলেন রাজশাহীর মেয়র। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মিনু এখন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা।

রাজশাহী অঞ্চলে বিএনপিকে দীর্ঘ সময় ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মিনু। মূলত ৮০ ও ৯০-এর দশকে মিনু দক্ষ সংগঠক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। মিনুর নেতৃত্বেই এ অঞ্চলে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তিনি মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দুই যুগ দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এবার মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর ফলে বুলবুলের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন মিনুর অনুসারীরা। মিনুর সমর্থক নেতাকর্মীরা গঠন করেন ‘বিএনপি বাঁচাও কমিটি’।

মিনুৃর সমর্থকরা বলছেন, মিনুই পুরো উত্তরাঞ্চলে বিএনপির প্রাণ। তিনি ত্যাগী। কর্মীবান্ধব। রাজনৈতিকভাবে বিচক্ষণ ও দূরদর্শী। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন তিনি। মিনুর ডাকে যেকোনো সময় হাজার হাজার নেতাকর্মী রাস্তায় নেমে আসেন। সংগঠনের প্রতি মিনুর আন্তরিকতা, ত্যাগ ও দায়বদ্ধতার কারণে বিএনপির হাইকমান্ড তাকে রাজশাহী সদর আসনে মনোনয়ন দেবে বলে তাদের দাবি।

এ প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘বিএনপি দেশের একটি উদার গণতান্ত্রিক ও নির্বাচনমুখী দল। আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচন চাই। আর  বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ নিলে রাজশাহী বিভাগের ১৮ থেকে ১৯টি আসনে বিজয়ী হবে।’
রাজশাহীতে বিএনপির মধ্যে কোনা দ্বন্দ্ব নেই দাবি করে মিনু বলেন, ‘আমরা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দল পরিচালনা করছি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে।’

রাজশাহীতে রিজভীর নির্বাচনের প্রস্তুতির গুঞ্জন এখন দৃশ্যমান হচ্ছে নগরীর বিভিন্ন স্থানে তার পোস্টারের মাধ্যমে। মিনুবিরোধীরা রিজভীর জন্য ইতোমধ্যে ভোটের মাঠে নেমেছেন। ঈদসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এবং মোড়ে রিজভীর পোস্টারে নগরবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হচ্ছে। রিজভী দীর্ঘসময় রাজশাহীতে রাজনীতি করেছেন। রাজশাহীর নেতাকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে তার।
রিজভীর পক্ষের নেতাকর্মীরা বলছেন, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতা থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হয়েছেন। রাকসুর ভিপিও ছিলেন তিনি। এসব বিবেচনায় তার পছন্দমতো রাজশাহী-২ আসনে প্রার্থিতা করার সুযোগ পেতে পারেন বিএনপির ক্রান্তিকালের সোচ্চারকণ্ঠ রিজভীকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সংঘর্ষের ঘটনায় ভোলায় থমথমে অবস্থা

স্টাফ রির্পোটার :  ভোলার বোরহানউদ্দিনে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের ...

ইরানি জনগণ প্রতিরোধের মাধ্যমে সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিচ্ছে:রুহানি

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুদের যকোন ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা ...