Home | আন্তর্জাতিক | “রক্তঝঁরা ক’টা দিন…..”

“রক্তঝঁরা ক’টা দিন…..”

স্টাফ রিপোর্টার, ৮ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : ১৯৭১এর পর ২০১৩সালে মুক্তিযুদ্ধের কিছু আবাস পাইল নতুন জেনারেশন। তাও আবার সেই যুদ্ধের অপরাধকে কেন্দ্র করে। তাই দু’কলম লিখে তুলে ধরলাম আমার প্রিয় সাতকানিয়ার চেহারা………………………….

আসল ফেব্র“য়ারীর ২৮তম দিন। ২০১৩ সাল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। একজনের রায়ও দেয়া হবে এই দিনে। অবশেষে বেলা ১:৪৪মিনিটে উঠে আসল দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায়। স্থব্ধ হয়ে গেল সারা দেশ। একদিকে (শাহবাগ বা প্রজম্ম চত্বর) আনন্দের জোয়ার অন্যদিকে যুদ্ধ। থেমে নেই সাতকানিয়ার সাঈদী ভক্তরাও। ভাংচুর, অগ্নিকান্ড, গোলাগোলি, সড়ক অবরোধ সহ নানা কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে প্রমান করে দিল জনমনে সাঈদীর অবস্থান। হরতালের মত দিনও শোভা পেয়েছে এমন ণে। উপজেলাজুড়ে চলছে জনতা বনাম পুলিশের শক্তি পরীা। যেদিকে তাকাই শুধুই হাহাকার। মোবাইল সংযোগ ছাড়া কোন যোগাযোগই রাখতে পারেনি কেউ। এমনকি ফেইসবুকও যধহম করে দেয়া হয়েছিল।
হরতালের ইস্যুতে সকাল সাড়ে আটটার দিকে চ্যানেল আইয়ের গাড়িও ভাংচুর করা হয় এ দিনে। সরাসরি সম্প্রচার করা হলনা “পার্বত্য লোকজ মেলা”১৩। দু:খ প্রকাশ করতে বাধ্য হন চ্যানেল আই পরিবার। ২জন আহত সহ ৫টি গাড়ি ভাংচুরের কথা নিশ্চিত হই চ্যানেল আইয়ের সিনিয়র স্টাপ রিপোর্টার চৌধুরী ফরিদের সাথে কথা বলে। সংবাদ পাঠাতে হিমসিম খেতে হয় গণমাধ্যমের ভাইদেরও। যেখানে স্বসস্ত্র পুলিশ ভাইদে জীবন দিতে হল সেখানে কলম আর ক্যামেরার মত অস্ত্র দিয়ে কতটুকু এগুতে পারা সম্ভব? তবুও জীবন বাঁজি রেখে নিজ দায়িত্ব পারনে পিছু হটেনি গণমাধ্যমের ভাইরা।
সাধারণ জনতা প্রশ্ন তুলেছে একজনের ফাঁসির রায়ের বিপরীতে যদি (৬ মার্চ পর্যন্ত১০২ জন) শত জনতা জীবন দেয় তাহলে ফাঁসি দিলে কোন চেহারা দেখবে বাংলাদেশ।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে যারা এতদিন রাজপথকে অগ্রাধীকার দিয়ে এসেছে সেদিন কি উদাও হয়ে গেল আন্দেলন কারীরা, নাকি সবাই শাহবাগে চলে গেল? এমন প্রশ্ন শুনা যায় রাজপথে। আওয়ামীলীগের অফিস ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু রেহায় পায়নি প্রশাসনিক অফিসগুলোও। আবার হামলাকারীদের নামে মামলা বা সত্যমিথ্যা তথ্য নিয়ে গ্রেপ্তার করতেও ভুল করেনি পুলিশ ভাইরা। টিয়ারসেল, রাবার বুলেট এমনকি গুলিও হাকাতে হয়েছে পুলিশ ভাইদের। তবুও অপ্রতিরোধ্য আন্দোলন। অবশেষে র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়ন।
“টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ার, এ কেমন সাতকানিয়া”।
প্রথমদিন পেরিয়ে রক্তঝরা সেই মার্চ। ১ম দিবস। পুরো সাতকানিয়া থমথমে। যেন কোন দুর্যোগ এসে হাতিয়ে নিয়েছে শান্তি আর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কোন হরতাল ছাড়া গাড়িশূন্য মহাসড়ক। ভাবতে অভাক লাগে। কোথাও যাওয়া ফরজ হলে দু’টি পাঁয়ের বিকল্প ছিলনা। দোকানদার ভাইরাও বিকিকিনি ছেড়ে দিয়েছে। বেলা পেরিয়ে সন্ধা আসল। শুরু হল গোলাগুলি। দস্তিদারহাট এলাকা রণত্রে। ঘটল দুটি প্রাণের সমাপ্তি। অলিগলিতে গাছ দিয়ে বেরিকেইড। তখনই প্তিতা তীব্র হয়ে উঠল। যখন খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে পাখির মত গনহত্যার নিন্দা জানিয়ে জামাতের ৪৮ঘন্টার সাথে মোট ৭২ঘন্টা হরতাল পালনের ঘোষষনা দেন।
“এ কি ঘটছে দেশজুড়ে, এ কেমন সাতকানিয়া”
শনিবার। কোন হরতাল নেই। তবুও মহাসড়ক দখল করে নিয়েছে বড় বড় গাছের গুড়ি। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দুরের কথা কোন গাড়ির ছায়াও নেই মহাসড়কে। দিন কেটে যাচ্ছে কোনমতে। হঠা? বেলা ১২টার বাতাসটা অন্যরকম মনে হল। মোবাইলও বেঁজে উঠল। গোলাগোলির সংবাদ নিজেকে ব্যথিত করে দিল। রণত্রে হাঁসমতের দোকান এলাকা। ঝঁরে গেল ৩টি তরতাজা প্রাণ। গুলিবিদ্ধ অনেকেই। অনেকেই আবার মৃত্যুর সাথে পান্জা লড়ছে।
“এ কেমন মানবতা, আর কত ঝরবে তাজা প্রাণ, এ কেমন সাতকানিয়া”

x

Check Also

অবশেষে পর্তুগালের লিসবনে মোহাম্মদ হান্নানের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম ইউরোপীয় ব্যুরো প্রধান, পর্তুগালঃ বাংলাদেশের কেরানীগঞ্জের মোহাম্মদ হান্নানের ...

পর্তুগাল মাল্টি কালচারাল একাডেমি’র হলরুমে বর্নিল আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম, ইউরোপীয় ব্যুরো প্রধান,পর্তুগালঃ পর্তুগালের লিসবনে বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা রুয়া ...