ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : এই সপ্তাহে পাকিস্তানের একটি আদালত রায় দিয়েছেন, ১২ বছর-বয়সী খ্রিস্টান কিশোরী ফারাহ শাহীন তার দ্বিগুণ বয়সী এক ব্যক্তিকে নিজের সম্মতিতে বিয়ে করেছে এবং সে নিজের ইচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে।

তবে ফারাহর পরিবারের দাবি, তাকে অপহরণ করে নিয়ে যান ২৯ বছর বয়সী খিশার আহমেদ আলী। সেখানে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।

ডিসেম্বরে খিশার আহমেদ আলীর বাড়ি থেকে ফারাহকে যখন উদ্ধার করা হয়, তখন সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। গত পাঁচ মাস ধরে তার সঙ্গে কী ঘটেছে সেগুলো সম্পর্কে সে ঠিকমতো বলতেও পারছিল না।

তবে তার বাবা আসিফ ম্যাসি বিবৃতি দেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ফারাহকে এই পাঁচ মাসে বেঁধে রাখা হতো। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত তাকে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। খিশার আহমেদ আলী ফারাহকে অপহরণ করে এবং তাকে বার বার ধর্ষণ করে।

পুলিশ জানায়, মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী ফারাহর বয়স ১৬ থেকে ১৭। কিন্তু তার বাবা-মার দাবি, জন্মসনদ অনুযায়ী ফারাহর বয়স ১২।

তদন্ত কর্মকর্তা মুসাদ্দিক রিয়াজ জানিয়েছেন, ফারাহ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকার করেছে যে, সে স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছে।

মামলাটি এখন সংসদীয় কমিটিতে যাবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ধর্মীয় সম্প্রীতি বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি তাহির মেহমুদ আশরাফি বলেছেন, সরকারি সংস্থাগুলো মামলাটির বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

পাকিস্তানস মুভমেন্ট ফর সলিডারিটি অ্যান্ড পিস অনুসারে, এক বছরে প্রায় ১ হাজার খ্রিস্টান এবং হিন্দু মেয়ে এবং নারীকে অপহরণ করা হয়েছে। এদের বয়স ১২ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। সবগুলো ঘটনাতেই জোর করে বিয়ে এবং ইসলামে ধর্মান্তর করা।

সাংবাদিক মেলানিয়া ম্যাকডোনাগ দ্য স্পেকটেটরে লেখা এক নিবন্ধে বলেছেন, পুলিশ ফারাহর বিষয়টি তদন্ত করতে পারে এবং মামলাটি আদালতে আনা হতে পারে। তবে প্রকৃত দোষীর সংখ্যা এখানে একটি বিষয়।

তিনি নিবন্ধে লিখেছেন, পাকিস্তানে খ্রিস্টান এবং হিন্দু মেয়েদের নিশানা বানানো খুবই সহজ। এর কারণ, দেশটিতে খ্রিস্টানরা দরিদ্র সম্প্রদায়ের লোক। এ কারণে আদালতে তাদের প্রতিকারের সম্ভাবনা খুব কম।

গত বছর ১৪ বছর বয়সী একটি মেয়েকে বন্দুকের মুখে অপহরণ করা হয়। বিচার না পেয়ে সে প্রাণের ভয়ে এখন লুকিয়ে আছে।

মেলানিয়া ম্যাকডোনাগ লিখেছেন, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ সে দেশের সংখ্যালঘুদের জন্য এক ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। দেশটিতে বসবাসরত সংখ্যালঘুদের প্রতিটি সদস্য প্রতিদিন ভয়ের মধ্যে জীবন পার করছে।

ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে গত সেপ্টেম্বরে লাহোরের একটি আদালত আসিফ পারভেজ নামে এক খ্রিস্টান কর্মীকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

তার সুপারভাইজার অভিযোগ করেছেন, আসিফ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে মানহানিকর মন্তব্য করে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তবে আসিফ বলেছেন, তিনি খ্রিস্টান ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের উদ্দেশে মেলানিয়া ম্যাকডোনাগ প্রশ্ন রেখেছেন, এসব বিষয়ে কি আপনি হস্তক্ষেপ করবেন?

তিনি বলেছেন, গত বছর তৎকালীন আন্তর্জাতিক এইড ডিপার্টমেন্ট পাকিস্তানে শিক্ষার প্রসারের জন্য সহযোগিতা করার পরিকল্পনা করেছে। যুক্তরাজ্যের ক্রেডিট ফিন্যান্স এজেন্সি যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ীদের পাকিস্তানে বিনিয়োগের জন্য আর্থিক সীমা বাড়িয়েছে। পাকিস্তানের যুক্তরাজ্যের হাইকমিশন দেশটির নারীদের নেতৃত্বের উন্নয়নে বৃত্তির জন্য আবেদন করতে উৎসাহ দিচ্ছে। তবে এত কিছুর পরেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর পাকিস্তান যে আচরণ করছে সে বিষয়টিকে যুক্তরাজ্য এড়িয়ে যেতে পারে না। তাদের এসব আচরণের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে।

তিনি বলেছেন, খ্রিস্টান, হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান যে আগ্রাসী আচরণ করছে এর নেতৃত্ব দানকারী সরকারকে সমর্থন করা যুক্তরাজ্যের ঠিক হবে না।