ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | পরিবেশ | যমুনা নদী থেকে চলছে বালু উত্তোলন; বসতি ও বেরি বাঁধ ধসের আশংকা

যমুনা নদী থেকে চলছে বালু উত্তোলন; বসতি ও বেরি বাঁধ ধসের আশংকা

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগরের কাশিমপুর বরাইচ পাড়া এলাকায় ছোট যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী মহল। এতে একদিকে ওই স্থানে যেমন ফসলহানীসহ বসতি ও বেরিবাঁধ ধ্বসে পরার আশংকা করছেন এলাকাবাসী অন্য দিকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে । এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার মিলছেনা বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা ।

স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে ,রাণীনগরের কাশিমপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে নওগাঁর ছোট যমুনা নদী । যা আত্রাই নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। এই যমুনা নদী থেকে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী খ্যাত লোকজন বেশ কিছু দিন ধরে কাশিমপুর বরাইচ পাড়া এলাকায় নৌকার উপর শ্যালোমেশিন বসিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় নদীর মধ্য থেকে পাইপ দিয়ে বালু উত্তোলন করে বাঁধের উপর ফেলছেন। এখান থেকেই ট্রাক্ট্রর যোগে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে এসব বালু। সড়ক,বাঁধসহ আবাসিক এলাকা থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ ধাকলেও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্য বালু উত্তোলন করছেন এসব প্রভাবশালী মহল। স্থানীয়রা বলছেন, কয়েক দিন ধরে একটি নৌকায় মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করার পর আরো একটি নতুন শ্যালোমেশিন কিনে নৌকায় বসিয়ে বালু উত্তোলন জোরদার করেছে। এতে নদীর পশ্চিম পার ঘেঁসে বাড়ীঘর এবং পূর্ব পাড়ে ফসলের ক্ষেত ও বেরি বাঁধ চরম ঝুকিপূর্ণ হয়ে পরেছে আশংকা করে এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষে গত ২৯ জানুয়ারী রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রায় অর্ধশত বাসিন্দা স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। তবে অভিযোগের এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও কার্যকর কোন প্রতিকার মেলেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ওই এলাকার আব্দুস ছামাদ,ফজলুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন জানান,আমরা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয়রা মিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি । অভিযোগের পর প্রতিকার তো দূরের কথা তারা বালু উত্তোলন আরো জোরদার করেছে। দু/একদিন দেখে এর সমাধান না হলে প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দাখিল করা হবে।

বালু উত্তোলনকারী সেলিম জানান,এই নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য নওগাঁর এক ঠিকাদার তিন বছরের ইজারা নিয়েছেন। আমরা তার নিকট থেকে সাব ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন করছি। ইতি মধ্যে ইজারার কাগজপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় তহশিলদারের নিকট পৌছে দিয়েছি।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন লিখিত অভিযোগ পেয়েছি জানিয়ে তিনি বলেন .বালু উত্তোলনকারীরা ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন করছেন এমনটি শুনেছি । তার পরেও যদি তারা ইজারা নিয়েই বালু উত্তোলন করে তা হলে শর্তগুলো মেনে বালু উত্তোলন করছেন কি-না,তা ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কক্সবাজারের ফাতেরঘোনার ৪ হাজার ভুমিহীন পরিবার

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার : কক্সবাজার পৌরসভার পুর্ব লাইট হাউজ ফাতেরঘোনা এলাকার ...

গোপালগঞ্জে কচুরিপানার উপর ভাসমান পদ্ধতিতে নিরাপদ সবজি চাষে লাভবান কৃষকরা

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : বাড়ির আঙ্গিনা ও পতিত জমিতে কচুরিপানার উপর ...