ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | যমুনায় পানি বৃদ্ধিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি টাঙ্গাইল ও গোপালপুরে চারটি জনপদসহ ২৭টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত

যমুনায় পানি বৃদ্ধিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি টাঙ্গাইল ও গোপালপুরে চারটি জনপদসহ ২৭টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত

জিয়া হোসেন, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। গত ৫/ ৬ দিনে পানি অ-স্বাভিক বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ও মাহমুদ নগর ইউনিয়নের ১৯টি গ্রাম এবং গোপালপুর উপজেলার ৪টি জনপদ সহ ৮টি গ্রাম ভেঙ্গে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। প্রবল স্রোতে টাঙ্গাইল-কাতুলী তোরাপগঞ্জ সড়কের ধলেশ্বরী নদীর ওপর ব্রীজের পশ্চিম পাশে ঘোষপাড়া সড়ক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গোপালপুর উপজেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেল পশ্চিম শাখারিয়া, চক ভরুয়া, চক সোনামুই ও চর সোনামুই গ্রাম সহ চারটি জনপদ।
ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে যে কোন সময় টাঙ্গাইলের চৌহালী, মাহমুদনগর, হুগড়াসহ পশ্চিম অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। কাতুলী ইউনিয়নে জমির রোপা  আমন ও সবজি চাষের জমি তলিয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষকরা বিপাকে পড়েছে। যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাতুলী ইউনিয়নের নেওরগাছা, বালিয়াপাড়া, ইশাবাশা, আলোকদিয়া, পশ্চিমপাড়া, রশিদপুর আংশিক, আন্দারমানিক, ভবানিপুর আংশিক ও গংগাবদিয়া গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান সুমন আহমেদ জানান, যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাতুলী ইউনিয়নের নিুাঞ্চলে বন্যার পানিতে ৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জমির রোপা আমন ও সবজি চাষের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া পানির স্রোতে টাঙ্গাইল-তোরাপগঞ্জ সড়কের ধলেশ্বরী নদীর ওপর ব্রীজের পশ্চিম পাশে ঘোষপাড়া নামকস্থানে সড়ক ভাঙ্গন শুরু  হয়েছে। যে কোন মুহূর্তে রাস্তা ভেঙ্গে পড়ে কাতুলী, হুগড়া, মাহমুদনগর ও চৌহালীর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। সড়ক ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।
এদিকে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মাহমুদ নগর ইউনিয়নের নন্দী বয়ড়া, চান বয়ড়া, যুগীর পাড়া, ঘাড়তলা, বহুলীপাড় বহুলী, দুলচর, কেশব মাইজান, চন্দলুকিয়াসহ ১০টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। রোপা আমন ও সবজি ফসলের ব্যাপক তি হয়েছে। মাহমুদ নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আমিরল ইসলাম আমিনুল জানান, কয়েকদিনে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। রোপা আমন ও সবজি আবাদী ফসলের ব্যাপক তি হয়েছে।
মাহমুদনগর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড-এর ইউপি সদস্য মোঃ মুক্তার আলী দেওয়ান বলেন, আমরা নদী ভাঙ্গন এলাকার মানুষ। প্রতি বছরই বন্যার পানিতে ব্যাপক তি হয়। এবারও আমার ওয়ার্ডের গ্রামগুলো তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেঁ গ্রামের মানুষ। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে কয়েকদিনের মধ্যে কাতুলী ও মাহমুদ নগর ইউনিয়নের আরও নতুন বেশ কয়েকটি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হবে বলে জানা যায়।
অপরদিকে গত ৫/ ৬ দিনে যমুনার  অস্বাভাবিক ভাঙ্গনে গোপালপুর উপজেলার পশ্চিম শাখারিয়া ও চক ভরুয়া ইতোমধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়েছে। চক সোনামুই ও চর সোনামুই গ্রামের দুই তৃতীয়াংশ নদী গর্ভে বিলিন হচ্ছে। অবশিষ্টাংশ নদী গর্ভে চলে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
সোনামুই গ্রামের ছানোয়ার হোসেন জানান, উজানে  যমুনার মূল স্রোত ধারা দ্রুত বামে সরে এসে এসব জনপদে হানা দেয়। বিগত ৬দিনের ভাঙ্গনে  চর সোনামুই গ্রামের দুই সহস্রাধিক একর আবাদী জমি এবং ছয় শতাধিক বাড়িঘর ও বসত ভিটা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, দোকানপাট কিছুই রেহাই পায়নি। প্রায় ১৮ ল টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত চর সোনামুই বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি গত সোমবার নির্মাণ কাজ শেষ হয়।  বুধবার সেটি নদীগর্ভে চলে যায়। ভাঙ্গনে তিগ্রস্তরা বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ অথবা আশপাশের গ্রামে আশ্রয় নিচ্ছে। গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার পানি বন্দী। ঘরে খাবার নেই। বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। সরকারি সাহায্য ও জোটেনি।
উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার এবং ইউএনও তানজিলা ইসলাম  বুধবার ভাঙ্গন কবলিত গ্রাম পরিদর্শন করেন।
গোপালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার জানান, বরাদ্দের অভাবে তিগ্রস্ত ও অনাহারি  মানুষের মধ্যে ত্রান সামগ্রী বিতরণ  করা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবাধে মাছ শিকার

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ নেত্রকোণার মদনে তিয়শ্রী ইউনিয়নের তিয়শ্রী বাজারের পাশে ...

মদনে অবৈধভাবে চলছে মাছ শিকারের মহোৎসব

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) : নেত্রকোণা মদন উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের নয়াপাড়া ও ...