ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | মৌলভীবাজারে সংরতি বনের ২ হাজার একর জমি বন্দোবস্ত নিতে মরিয়া প্রভাবশালী চক্র জমি ডিসির : চান আ.লীগ নেতা : গোমর ফাঁসে বন বিভাগের দৌঁড়ঝাঁপ

মৌলভীবাজারে সংরতি বনের ২ হাজার একর জমি বন্দোবস্ত নিতে মরিয়া প্রভাবশালী চক্র জমি ডিসির : চান আ.লীগ নেতা : গোমর ফাঁসে বন বিভাগের দৌঁড়ঝাঁপ

moulvibazar mapজালাল আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সংরতি বনের ২ হাজার একর জমি নিয়েছেন ডিসি, চেয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা। সংরতি একটি বনের দুই হাজার একরের মতো জমি বর্তমান সরকারের শেষবেলায় বিধি  ভেঙে জেলা প্রশাসকের (ডিসি খতিয়ানভুক্ত) নামে রেকর্ড করা হয়েছে। অনেক আগেই সরকারদলীয় এক নেতা তাঁর চা বাগানের জন্য ডিসির কাছে একই জায়গায় সমপরিমাণ জমির বন্দোবস্ত চেয়েছিলেন। আর চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় বন বিভাগের জুড়ী-১ রেঞ্জের আওতাধীন হারারগজ সংরতি বনে। আড়াই বছর আগে এ জমি রেকর্ডের খসড়া নোটিশ পেয়েও বন বিভাগ কোনো কার্যক্রর ভূমিকা পালন করেনি। বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, সে সময় রেঞ্জ দপ্তর তাদের কিছুই জানায়নি। বর্তমান জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানও জানিয়েছেন, বিষয়টি আমি প্রথম জানলাম। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০০১ সালে ভূমি রেকর্ড ও নকশা বিষয়ক নির্দেশাবলী অনুযায়ী, ১৯২৭ সালের বন আইনের (ফরেস্ট অ্যাক্ট) ২০ ধারামতে, সংরতি বন (রিজার্ভড) হিসেবে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের অন্তর্ভুক্ত সব জমি বন বিভাগের নামে খতিয়ানভুক্ত হবে। বন বিভাগ প্রত্যার্পণ না করলে রিজার্ভড, প্রটেকটেড বা অ্যাকোয়ার্ড হিসেবে চিহ্নিত  কোনো বনের জমি কারও নামে রেকর্ড করা যাবে না। জুড়ী-১ রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা শফি উদ্দিন জানান, যেসব জমি জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ড হয়েছে, তা হারারগজ সংরতি বনের গেজেটভুক্ত সীমানার ভেতর পড়েছে। এ জমি বন বিভাগ প্রত্যার্পণ করেনি এবং জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ড করাও আইনসিদ্ধ নয়।
উপজেলা ভূমি জরিপ কার্যালয় সূত্র জানায়, হারারগজ সংরতি বনটি দীর্ঘদিন ধরে জরিপের বাইরে ছিল। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ডিজিটাল পদ্ধতিতে বনটি জরিপের উদ্যোগ নিলে ২০১০ সালের ফেব্র“য়ারিতে দুই সদস্যের একটি নকশা প্রস্তুতকারী দল উপজেলা সেটেলমেন্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় জরিপ কাজ শুরু করে। জরিপ শেষে গত ৪ আগস্ট হারারগজ আরএফ (সংরতি বন) মৌজায় ডিসির নামে ২ হাজার ১৭৪ দশমিক ৩৫ একর জমি রেকর্ড হয়। একই মৌজায় বন বিভাগের নামে ১১ হাজার ৬৮ দশমিক ৮৯ একর জমি রেকর্ড হয়।
জুড়ী উপজেলার সহকারী ভূমি জরিপ কর্মকর্তা আব্দুল হাই আজাদ জানান, ২০১১ সালের ১৪ ফেব্র“য়ারি জরিপ আইনের ৩০ ও ৩১ ধারায় বন বিভাগকে রেকর্ডের খসড়ার নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। বন বিভাগ ওই রেকর্ডের ব্যাপারে আপত্তি বা এবং আপিল করতে পারতো। বন বিভাগ নোটিশ দু’টি গ্রহণ করা সত্ত্বেও কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। তিনি আরও জানান, সিলেটের আঞ্চলিক ভূমি জরিপ কার্যালয় থেকে সংরতি ওই বনের দু’টি মৌজার চূড়ান্ত স্বত্ত্বলিপি এসেছে। জরিপ আইনের ৩৩ বিধি অনুযায়ী এটি ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এ নোটিশের একটি কপি বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়। তবে বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তা শফি উদ্দিন বলছেন, গত ১৪ আগস্ট এই চূড়ান্ত নোটিশ পেয়ে তিনি হতবাক। ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি এ বিষয়ে উপজেলা ভূমি জরিপ (সেটেলমেন্ট) কার্যালয়ে লিখিতভাবে আপত্তি জানান।
শফি উদ্দিন অভিযোগ করেন, বন বিভাগ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, সংরতি বনের জমি বন্দোবস্ত নিতে প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মোটা অংকের টাকা খরচ করে জোর চেষ্টা-তদবির চালাচ্ছে। এখন জমিটি  জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ড হওয়ায় চক্রটি তা বন্দোবস্ত পেতে পারে। তবে তিনি এদের কারও নাম বলতে চাননি।
চা বাগান কর্তৃপ ও ভূমি কার্যালয় সূত্র জানায়, চা চাষের জন্য হারারগজ মৌজায় ২ হাজার ২০০ একর জমি বন্দোবস্ত পেতে স্থানীয় সাগরনাল চা বাগান কর্তৃপ ২০০০ সালের দিকে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করে। বাগানটির মালিক প্রতিষ্ঠান নিউ সাগরনাল টি কোম্পানীর চেয়ারম্যান শামসুল হক ভুইয়া চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি।
নিউ সাগরনাল চা বাগানের ব্যবস্থাপক নাসির উদ্দিন খান জানান, অনেক আগে বাগানের প থেকে বন্দোবস্তের আবেদন করা হয়েছিল বলে শুনেছি। এখন কী পর্যায়ে আছে জানি না। ভূমি কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চা সংক্রান্ত দপ্তরে (টি-সেল) খোঁজ করেও এ আবেদনের কোনো নথিপত্র পাওয়া যায়নি।
জুড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা শফি উদ্দিন বলছেন, তিনি এখানে আসার অনেক আগেই ডিসির নামে রেকর্ডের খসড়া  নোটিশগুলো এসেছিল। তখনকার কর্মকর্তারা কেনো নিশ্চুপ ছিলেন, সেটা বোধগম্য হচ্ছে না। ৩৩ ধারার নোটিশ পাওয়ার পর নথিপত্র ঘেঁটে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে সাথে যোগাযোগ করেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাইনি। ৩০ ও ৩১ ধারার নোটিশ দু’টি গ্রহণ করেছিলেন জুড়ী-১ রেঞ্জের এক সহযোগী কর্মকর্তা। নোটিশ দু’টিতে তাঁর সিলসহ স্বার রয়েছে তবে নামটি লেখা নেই।
স্থানীয় বন বিভাগ সূত্র বলছে, সে সময় রেঞ্জের সহযোগী কর্মকর্তা ছিলেন নাসির উদ্দিন। তিনি এখন রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমীতে দাপ্তরিক প্রশিণে রয়েেেছন। ওই সময় রেঞ্জ কর্মকর্তা ছিলেন আব্দুস সাত্তার। অবৈধভাবে কাটা গাছ নিয়ে এক অভিযোগের জেরে তিনি এখন বাধ্যতামূলক ছুটিতে রয়েছেন। এ দু’জনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবুল বাশার মিয়া জানান, জুড়ী-১ রেঞ্জের তৎকালীন কর্মকর্তারা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপকে না জানিয়ে খুবই অন্যায় করেছেন। তবে এখন কর্তৃপ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবাধে মাছ শিকার

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ নেত্রকোণার মদনে তিয়শ্রী ইউনিয়নের তিয়শ্রী বাজারের পাশে ...

মদনে অবৈধভাবে চলছে মাছ শিকারের মহোৎসব

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) : নেত্রকোণা মদন উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের নয়াপাড়া ও ...