ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | মৌলভীবাজারের সকল খবর

মৌলভীবাজারের সকল খবর

moulvibazar mapমৌলভীবাজার সীমান্তে বেড়েছে চোরাচালান
জালাল আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি, ২২ সেপ্টেম্বর :
মৌলভীবাজারের বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়াসহ জেলার সাতটি উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে চোরাচালান। সীমান্ত দিয়ে দেদারসে আসছে ফেনসিডিলসহ নানা ধরণের মাদকদ্রব্য। সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত পরিবারসহ একাধিক সূত্র জানায়, কুলাউড়ার শরীফপুর, চাতলাপুর, মুরইছড়া ও জুড়ীর ফুলতলা, রাঘনা, বটুলী, রাজকী, বিরইনতলা, মোকামবাড়ী, বরইতলী,  গোয়ালবাড়ী এবং বড়লেখার বোবারথল, লাতুসহ এই তিন উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে সম্প্রতি অবৈধ  চোরাচালান ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ভারত থেকে বিভিন্ন প্রকার নেশাজাতীয় দ্রব্য বাংলাদেশে অবাধে প্রবেশ করছে। চোরাকারবারীরা তাদের নির্দিষ্ট এলাকা দিয়ে নিরাপদে এ সকল নিষিদ্ধ দ্রব্য বাংলাদেশে সয়লাব করছে।
সম্প্রতি বিজিবির ৪১ ব্যাটালিয়ন সদস্যরা প্রায় ২ লাখ টাকার কাপড়, ৩ লাখ ৭২ হাজার নাসির উদ্দিন বিড়ি, ফেনসিডিল ও ভারতীয় শাড়ি আটক করে। এছাড়াও র‌্যাব, ডিবি পুলিশ, থানা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা গত ৯ মাসে জেলার সবক’টি সীমান্ত এলাকায় ইয়াবা, ফেনসিডিল, মদ, বিয়ার, ভারতীয় বিড়ি, কাপড়সহ বিভিন্ন ধরণের বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় দ্রব্য আটক করেন। এমনকি এসবে জড়িত অন্তত শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করে মামলা দেয়া হয়েছে। এসব ছাড়াও চোরাচালানিদের ধাওয়া করার সময় অনেক সময় বিপত্তিও ঘটছে। সম্প্রতি চোরাচালানিদের ধাওয়া করতে গিয়ে ধাওয়া খেয়ে ফেনসিডিলবাহী প্রাইভেট কার কুলাউড়ায় একটি বাড়িতে ঢুকে ২ জন নিহত ও ৪ জন আহত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, বড়লেখার বোবারথল ও লাতু; জুড়ীর ফুলতলা, কুলাউড়ার শরীফপুর পুরো এলাকা সীমান্তবর্তী হওয়ায় ভারতীয় অপরাধীরা বাংলাদেশের পাহাড়গুলোতে আশ্রয় নিয়ে থাকে। পরে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে এবং তাদের নিয়োগকৃত চোরাকারবারীদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট রোড দিয়ে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা, হুইস্কি, ভারতীয় কাপড় ও গরু, মহিষসহ বিভিন্ন অবৈধ মালামাল ভারত থেকে এনে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে।  চোরাচালানী বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোর মানুষ।   চোরাচালানী রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোর বাসিন্দাদের মারাত্মক ক্ষতির আশংকা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা হাতের নাগালে মাদকদ্রব্য পাওয়ার কারণে সহজেই নেশাগ্রস্ত হয়ে বিপথগামী হবে-এমন আশংকা করছেন সীমান্তবর্তী এলাকার সচেতন অভিভাবকরা।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সদর সার্কেল) আলমগীর হোসেন পিপিএম জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বিভিন্ন প্রকারের মালামাল, ভারত বাংলাদেশে অবৈধভাবে যাতায়াত বন্ধের জন্য কড়া নিরাপত্তার স্বার্থে বিজিবির পাশাপাশি পুলিশও সতর্ক অবস্থায় আছে। তবে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা চোরাচালানী রোধে আইন-শৃক্সক্ষলা বাহিনীকে সহযোগিতারও দরকার আছে।
র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের অপারেশন অফিসার সানা শামীমুর রহমান চোরাচালান বৃদ্ধির সত্যতা স্বীকার করে জানান, র‌্যাব সদস্যরা প্রতিদিনই অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানে মালামালসহ আটকও হচ্ছে। তবে চোরাচালান রোধে র‌্যাব সতর্ক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

চার সপ্তাহ ধরে অন্ধকারে কুলাউড়ার দু’টি গ্রামের দু’শতাধিক পরিবার
জালাল আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি, ২২ সেপ্টেম্বর :
বিদ্যুৎ বিভাগের চরম উদাসীনতার কারণে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের দু’টি গ্রাম গত চার সপ্তাহ ধরে বিদ্যুতবিহীন অবস্থায় রয়েছে। ভুক্তভোগীরা একাধিকবার কুলাউড়া নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। এলাকাবাসী সূত্র জানায়, উপজেলার মহিষাজুড়ী ও শ্রীরামপুর গ্রামের ট্রান্সমিটারটি গত ২২ দিন আগে বিকল হয়ে পড়ে। বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানালে তিনি ট্রান্সমিটারটি পিডিবি’র কুলাউড়া কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। কিন্তু ২৬ দিনেও মেরামত করে ট্রান্সমিটার দেয়নি পিডিবি। ফলে তীব্র গরমে বিদ্যুতবিহীন এলাকার আড়াইশ পরিবার নিদারুণ কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাগত সরকারের মোটা অংকের উৎকোচের দাবি মেটাতে না পারায় মহিষাজুড়ী, শ্রীরামপুর গ্রামের আড়াইশ পরিবারকে চার সপ্তাহ ধরে ধরে অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে পিডিবি’র কুলাউড়া নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাগত সরকার জানান, ট্রান্সমিটারটি মেরামত হয়ে এলেই এলাকায় পুন:স্থাপন করা হবে।

শিক্ষক ও অবকাঠামোগত সংকটে মৌলভীবাজার
শহরের একমাত্র সরকারি মহিলা কলেজ
জালাল আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি, ২২ সেপ্টেম্বর :
মৌলভীবাজার শহরের একমাত্র সরকারি মহিলা কলেজ শিক্ষক ও অবকাঠামোগত সংকটে পড়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। এ কলেজটি সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠ কার্যক্রম বছরের প্রায় ৬ মাসই বন্ধ থাকে। অপরদিকে হোস্টেলে সিট স্বল্পতা ও নিজস্ব পরিবহন সমস্যার কারণে ছাত্রীদের যাতায়াত এবং আবাসন ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা।
কলেজ অধ্যক্ষের দুর্বলতার সুযোগে ক্লাসের সময় ছাড়া ব্যক্তিগত কাজে অনেক শিক্ষক ব্যস্ত থাকেন অন্য কাজ নিয়ে। অনেকে কলেজে অনুপস্থিত থাকেন। এতে কলেজের শিক্ষা কাঠামো অনেকটা ভেঙে পড়েছে। কমে  গেছে বিজ্ঞান বিভাগের পাশের হারও। সব মিলিয়ে বেহাল অবস্থায় পতিত নারী শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকায় অবতীর্ণ এ কলেজটি।
সূত্র জানায়, এ কলেজে মোট ১৯ বিষয়ে ৩৭ জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। তন্মধ্যে কর্মরত আছেন ১৮ জন। বাকি ১৯ জনের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ৮টি বিষয়ের ১১ জন শিক্ষকের সবকটি পদ শূন্য থাকায় বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২, দর্শন-২, সমাজবিজ্ঞান-২, উদ্ভিদ বিজ্ঞান-১, প্রাণিবিজ্ঞান-১, গার্হস্থ্য অর্থনীতি-১, মনোবিজ্ঞান-১, কম্পিউটার শিক্ষা বিভাগের ১ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া বাংলার-২, অর্থনীতির-১, ইতিহাসের-১, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির-১, ইসলাম শিক্ষা-১, হিসাববিজ্ঞানের-১, রসায়নের ১ জনসহ এ ৭ বিষয়ে ৮ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, শূন্য পদের বিষয়গুলোর মধ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, গার্হস্থ্য অর্থনীতি এ তিন বিষয়ের ১ জন করে তিনজন অতিথি শিক্ষক থাকলেও অন্যান্য শূন্য পদের বিপরীতে কোনো অতিথি শিক্ষক  নেই। এমনকি জীববিজ্ঞান বিষয়ে সরকারিভাবে নিয়োগকৃত শিক্ষক ও অতিথি শিক্ষক কেউই না থাকায় এ বিষয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।
১৯৮৫ সালে স্থাপিত মৌলভীবাজার সরকারি কলেজটি ১৯৯৭ সালে জাতীয়করণ করা হয়। এরপর বিগত ১৬ বছরে উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। জেলা সদরে অবস্থিত অভিজাত কলেজটিতে শিক্ষকদের বসবাসের নেই কোনো আবাসিক ব্যবস্থা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা সভা-সেমিনারের জন্য নেই অডিটোরিয়াম। অনার্স কোর্সে ভর্তি হওয়া ছাত্রীদের জন্য আলাদা শ্রেণী কিংবা সেমিনার রুম নেই। নেই কোনো কমনরুম। নামাজের জন্য মসজিদের ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষক মিলনায়তনে বিকল্প ব্যবস্থায় নামাজের স্থান করা হয়েেেছ। কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় একটি ক্লাসরুমে মানবেতরভাবে বসবাস করছেন ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দু’জন শিক্ষক। পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে শ্রেণীকক্ষ সংকট।
এ বিষয়ে উপাধ্যক্ষের স্থলাভিষিক্ত রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বনশ্রী চন্দ জানান, শিক্ষকদের আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় এ দু’জন শিক্ষক ক্যাম্পাসের ভেতর অবস্থান করছেন। এভাবে শ্রেণীকক্ষ দখল করে স্থায়ীভাবে বসবাস করা কতোটুকু সমীচীন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করবো না। বিষয়টি প্রশাসনিক তাই প্রিন্সিপাল স্যার ভালো বলতে পারবেন। সরকারি নিয়োগসহ বোর্ডের বিভিন্ন শ্রেণীর পরীক্ষার কারণে বছরের প্রায় ৬ মাস বন্ধ থাকে পাঠদান কার্যক্রম। পাশাপাশি রয়েছে সরকারি ছুটিও। এর মধ্যে শহরের বাহির থেকে কলেজে ভর্তি হওয়া অনেক শিক্ষার্থী যাতায়াত সমস্যার কারণে ক্লাসে উপস্থিত হতে পারে না।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজের নিজস্ব বাস থাকলে তারা নিয়মিত কলেজে উপস্থিত হতে পারতো। এভাবে বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় নানা কারণে কলেজে পাঠদান বন্ধ থাকে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক আব্দুল মালিক জানান, সরকারি  সকল পরীক্ষা আমাদের কলেজে হওয়ার কারণে বছরের প্রায় ৬ মাস বন্ধ থাকছে কলেজটি। তার ওপরে আমাদের  কোনো পরিবহন ব্যবস্থা নেই। এতে করে ছাত্রীরা কলেজবিমুখ হয়ে পড়েছে। তবে প্রত্যেকদিন ক্লাস মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ছাত্রীদের কলেজমুখী করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
এদিকে কলেজ শিক্ষকদের শহরের বাইরে অবস্থান করায় অনেক শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নেই। ব্যক্তিগত কাজে অনেকেই যখন-তখন বাইরে চলে যান। সরেজমিন সম্প্রতি কলেজে গিয়ে দেখা গেছে, কলেজের প্রিন্সিপাল মো: শাহজাহান কলেজে অনুপস্থিত। কলেজের কাজে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে তাঁর সহকর্মীরা জানান। প্রিন্সিপালের অনুপস্থিতিতে ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে  দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকলেও ব্যক্তিগত সমস্যায় ২/৩ দিন ধরে তিনিও অনুপস্থিত ছিলেন। প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপালের অবর্তমানে তখন দায়িত্ব পালন করছিলেন রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বনশ্রী চন্দ।
কলেজ সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কলেজের কিছু শিক্ষক সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ অনেক দূরবর্তী এলাকা থেকে এসে ক্লাস নেন। নির্দিষ্ট ক্লাস শেষেই তারা দ্রুত গন্তব্যে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কতিপয় শিক্ষক রুটিন কাজ সম্পন্নের জন্য সপ্তাহে ৩/৪ কলেজে আসেন। জেলা সদরে অবস্থান করা ২/১ জন শিক্ষক একই কায়দায় কলেজে আসা-যাওয়া করেন।
অপরদিকে বিগত তিন বছর ধরে বিজ্ঞান বিভাগে পাশের হার হতাশাজনক। কলেজ বন্ধ আর ছাত্রীদের অনুপস্থিতির কারণে মফস্বলের অন্যান্য কলেজের তুলনায় এ কলেজের পাশের হার হতাশাজনক। বিশেষ করে এইচএসসির বিজ্ঞান বিভাগে গত তিন বছরে গড়ে পাশের হার ৩১%। ফলাফল সিট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১১ সালে বিজ্ঞানে ৪০ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৩ জন পাশ করেছে। পাশের হার ৩২.৫০%। মানবিকে ৪৭০ জন পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩১৯ জন। পাশের হার ৬৭.৮৭%। ২০১২ সালে বিজ্ঞানে ৪৯ জন পরীক্ষা দিয়ে কৃতকার্য ১৫ জন। পাশের হার ৩০.৬১%। মানবিকে ৫৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করে ৩৫৫ জন। পাশের হার ৬৫. ৮৬%। ২০১৩ সালে বিজ্ঞানে ৭৩ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৩ জন পাশ করে। পাশের হার ৩১.৫০%। মানবিকে ৫৬৭ জন পরীক্ষা দিয়ে ৩৯৯ জন পাশ করে। পাশের হার ৭০.৩৭%। ব্যবসায় শিক্ষায় ১১৯ জন পরীক্ষা দিয়ে ৬৫ জন পাশ করে। পাশের হার ৫৪.৬২%।
উপরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে পাশের হার সবচেয়ে কম। বিজ্ঞানে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আব্দুর রকিব বলেন, বছরে ৬ মাসেরও বেশি সময় কলেজ বন্ধ থাকে। তার ওপরে ছাত্রীরা নিয়মিত ক্লাস করে না। বিজ্ঞানের মতো সাবজেক্টে ক্লাস না করলে ফলাফল কেমন করে ভালো হবে।
প্রিন্সিপালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাইস প্রিন্সিপাল’র কলেজে অনুপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আব্দুস ছাত্তার জানান, আমার দাতে প্রচণ্ড ব্যথা থাকায় কলেজে যেতে পারিনি। ছুটি নিয়েছিলেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, অন্য একজনকে দায়িত্ব দিয়ে আমি সিলেটে অবস্থান করছিলাম।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: শাহজাহানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ঢাকায়। এই মুহূর্তে আমি অফিসের কাজে ব্যস্ত আছি। এখন কথা বলতে পারবো না।

কমলগঞ্জে বিদেশি চারার নার্সারি পল্লী : স্বাবলম্বী হচ্ছেন স্থানীয়রা
জালাল আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি, ২২ সেপ্টেম্বর :
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় চা বাগান ও বনাঞ্চল অধ্যূষিত শতাধিক নার্সারি পল¬ী গড়ে উঠেছে। রাস্তার ধারে এবং গ্রামগঞ্জের বাড়িতে নার্সারি করে অনেকেই লাভবান হচ্ছেন। এসব নার্সারিসমূহে বিদেশি প্রজাতির গাছের সবুজ চারায় ভরপুর হয়ে উঠেছে। দেশীয় প্রজাতির বিক্রি হচ্ছে। ছোট-বড় অসংখ্য নার্সারি গড়ে উঠলেও কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী ১২টি এবং রেজি:প্রাপ্ত ৬টি নার্সারি।
বন বিভাগের সূত্রে আর কতগুলো আছে জানা না থাকলেও উপজেলায় সরকারি সামাজিক বনায়ন নার্সারি রয়েছে একটি জানালেন রেঞ্জ কর্মকর্তা। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার শমশেরনগর বিমান বাহিনী এলাকা দিয়ে রাস্তার ধারে ও গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য নার্সারি। এসব নার্সারিসমূহে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা। তবে আকাশি, ম্যানজিয়াম, ইউক্যালিপটাসসহ বিদেশি প্রজাতির সংখ্যাই বেশি। দ্রুতবর্ধনশীল থাকায় বহিরাগত এসব প্রজাতি স্থানীয়ভাবে যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে বলে নার্সারি মালিকরা জানান। এইসব প্রজাতি দিয়েই প্রাকৃতিক বনের স্থলে সামাজিক ও কৃত্রিম বনায়ন এবং স্থানীয়ভাবে নার্সারি ব্যবসায় উৎসাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ছোট-বড় নার্সারির চারা বিক্রি করে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন। নার্সারি মালিকদের কেউ কেউ রয়েছেন আবার প্রশিক্ষিত। এসব নার্সারিসমূহে দেশি প্রজাতির পরিবর্তে বহিরাগত প্রজাতির সংখ্যাই অত্যধিকহারে প্রাধান্য পাচ্ছে।
শমশেরনগর বিমানবন্দর সড়কে পতনউষার ইউনিয়নের শ্রীসূর্য গ্রাম পর্যন্ত রয়েছে বাহারি নামের নার্সারি পল¬¬ী। দ্রুত লাভজনক নার্সারি ব্যবসায় স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে লাভবান হওয়ায় এলাকার অনেক যুবক এ ব্যবসায় মনোযোগ দিচ্ছেন। আবার সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সময়মতো চারা উৎপাদন এবং বিক্রি করতে না পারায় অনেকেই নার্সারি ব্যবসা বন্ধ করে বিকল্প ব্যবসায় ঝুঁকে পড়েছেন। নার্সারি পল¬¬ীর ব্যাপক প্রসার ঘটলেও প্রতিটি নার্সারিতে বহিরাগত প্রজাতি দিয়ে চারা উৎপাদন এবং বিক্রয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। কিন্তু বহিরাগত প্রজাতির ক্ষতিকর দিক বিষয়ে কারো নজর নেই।
প্রায় ১০ বছর ধরে নার্সারি ব্যবসার সাথে জড়িত শাহিন নার্সারির স্বত্তাধিকারী আশিক মিয়া জানান, বন বিভাগ ও কৃষি বিভাগ থেকে তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তবে চারা উৎপাদনে ইউক্যালিপটাস চারার ক্ষতিকর সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দেয়া হয়। এছাড়া আগ্রাসী প্রজাতি সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই।
হাজীপুর ইউনিয়নের নার্সারির মালিক আব্দুল হক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নার্সারি গড়ে তুলেছেন। তার নার্সারিগুলোতে বিদেশি প্রজাতির আকাশমনি, আকাশিয়া ক্রস, ইউক্যালিপটাস, মেনজিয়াম এ ধরণের চারার সংখ্যাই অত্যধিক। এগুলোর সাথে সাথে দেশি জাতের আম, জাম, কাঁঠাল, লেবু, পেয়ারা, জলপাই, পেঁপে এবং ঔষধি নিম ও আগরসহ দেশীয় প্রজাতির গাছের চারাও রয়েছে। বহিরাগত এসব গাছের পাতা ঝরে পড়লে সেসব স্থানে ধান জন্মে না। এমনকি ঘাস পর্যন্ত ওঠে না। প্রচুর পানি শোষণ করে।
স্থানীয় সচেতনমহল এ বিষয়ে এখন সোচ্চার বলে নার্সারি মালিকদের দাবি। শমশেরনগর, পতনউষার ও হাজীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম এলাকায় নার্সারি ব্যবসায় এখন অনেকেই ঝুঁকে পড়েছেন। শমশেরনগর বাজারের আশিকুর রহমানসহ অনেকেই নার্সারি ব্যবসায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করে সফল হয়েছেন। আর রাস্তার ধারের বৃহদাকার নার্সারিসমূহে এলাকার বেকার যুবকরা খোঁজে পেয়েছেন আয়ের পথ।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, উপজেলার নার্সারিসমূহের বর্তমানে ১২টি এবং ৬টি রেজি:প্রাপ্ত নার্সারি রয়েছে। স্থানীয় রাজকান্দি বন রেঞ্জের কর্মকর্তা প্রভাত কুসুম আচার্য্য জানান, অন্যান্য নার্সারি বিষয়ে বন বিভাগের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে সরকারিভাবে সামাজিক বনায়ন নার্সারি রয়েছে একটি। বাহিরে যারা নার্সারি করছে তাদেরকে সামাজিক বনায়নে বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য সহযোগিতা করা হচ্ছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবাধে মাছ শিকার

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ নেত্রকোণার মদনে তিয়শ্রী ইউনিয়নের তিয়শ্রী বাজারের পাশে ...

মদনে অবৈধভাবে চলছে মাছ শিকারের মহোৎসব

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) : নেত্রকোণা মদন উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের নয়াপাড়া ও ...