ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | মোদির পথে ‘চাওয়ালি’ মমতা দিদি

মোদির পথে ‘চাওয়ালি’ মমতা দিদি

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ছোটবেলায় বাবাকে সাহায্য করার জন্যে দোকানে চা বিক্রি করতেন। আর, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা মোদী বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনসংযোগ বাড়াতে রাস্তার পাশে চায়ের দোকানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে চা বানিয়েছেন। বস্তুতঃ জনসংযোগ বাড়াতে ফের গ্রামে গিয়ে মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপায়।

বুধবার ওডিশা সীমান্ত লাগোয়া একটি গ্রামে গিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের অভাব অভিযোগ শুনেছেন। তারপর রাস্তার পাশে চায়ের দোকানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে, দোকানে ঢুকে নিজের হাতে চা বানিয়েছেন মমতা। নিজে খাওয়ার পাশাপাশি সেই চা অন্যদের দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে অন্য মেজাজে দেখে অভিভূত গ্রামবাসীরা। গ্রামে থাকাকালীন একটি চায়ের দোকানেও যান মুখ্যমন্ত্রী। সবাইকে চমকে দিয়ে দোকানে ঢুকে নিজেই চা বানাতে শুরু করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা নিজে খাওয়ার পাশাপাশি অন্যদের পরিবেশন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর হাতে বানানো চা খেয়ে অভিভূত রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখপাধ্যায় থেকে সাংসদ শিশির অধিকারী সকলেই। আর মুখ্যমন্ত্রীকে নিজেদের মধ্যে পেয়ে অভিভূত গ্রামবাসীরাও।

ঘরে না বসে থেকে জনসংযোগ বাড়ানোর জন্য বহু আগেই দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী। শুধু নির্দেশ দেওয়াই নয়, নিজে সে কাজ করেও দেখাচ্ছেন মমতা। দিঘায় প্রশাসনিক বৈঠকের পরে কয়েকজন মন্ত্রী-সাংসদকে নিয়ে হঠাৎ ওডিশা সীমান্ত লাগোয়া দত্তপুর গ্রামে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের কাছ থেকে অভাব অভিযোগ জানতে চান, গ্রামবাসীদের সমস্ত কথা মন দিয়ে শুনেছেন। এর পরে গ্রামে বস্ত্র ও লজেন্স বিতরণ করেছেন। অন্যদিকে, দুদিনের দীঘা সফরে বারবার জনসংযোগে জোর দিয়েছেন নেত্রী।

মমতা বলেছেন, সবাইকে নিজেদের লোভ সংযত করতে হবে। এটা কোনও দলের জন্য বলছেন না, কোনও অফিসারকে বলছেন না। মনে রাখবেন, সরকারি অর্থ আসলে জনগণের অর্থ।

গত ক’দিনে বিভিন্ন জেলাসফরে লোকসভা ভোটে ধাক্কার পর্যালোচনা করতে গিয়ে বারবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের একাংশের টাকা খাওয়ার প্রবণতা টের পেয়েছেন। যার জন্য তাকে কাটমানি ফেরতের মতো নির্দেশ দিতে হয়েছে। আর সেই জল গড়িয়েছে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ পর্যন্ত। ফলে, আরও একবার লোভ সংবরণের বার্তা দিয়ে দলের শুদ্ধকরণের বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী সামনে আনছেন তা পরিষ্কার। তার আরও পরামর্শ, দেখতে হবে যেন নিজের এলাকাটা সুন্দর রাখতে পারা যায়। মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিতে পারা যায়।

এর পাশাপাশি, সুর বদলে দিল্লির মোদি সরকারের উদ্দেশ্যে ঘুরিয়ে বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, রাজনৈতিক বিরোধিতা হোক ভোটের সময়। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলকে বলে দিয়েছেন, গঠনমূলক ভূমিকা নিতে। যে যেখানে ক্ষমতায় এসেছেন, কাজ  করতে হবে, তার সরকার তাদের কাজ করছে।

এদিকে, দিল্লি ও কলকাতার দুই শাসকের রাজনৈতিক বৈরিতার ছাপ ক্রমশ গভীর হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা না করার কথা শোনা গেছে স্বয়ং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর মুখেও। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই কার্যত যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কেন্দ্র-রাজ্য পারস্পরিক সহায়তার উপর জোর দিতে চাইছেন। তার বার্তা, প্রতিযোগিতা হোক কাজের, দাঙ্গার নয়, প্রতিযোগিতা হোক শান্তির, ধ্বংসের নয়, নির্মাণের। সরকার পরিচালনায় এই অবস্থান নিলেও মতাদর্শের প্রশ্নে বিজেপিকে এক হাত নিয়েছেন মমতা। তিনি বলেছেন, মাথায় ফেট্টি বেঁধে, হাতে ডান্ডা নিয়ে হিংসার পথে যাবেন না। তাতে সবারই মুখ পুড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পুলিশকে বিপদের সময় মানুষের বন্ধু হতে হবে:প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রির্পোটার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পুলিশকে বিপদের সময় মানুষের বন্ধু ...

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সৌদি নারী পাশ্চাত্য ধাঁচের পোশাকে বিপণিবিতানে

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : পায়ে উঁচু জুতা, গায়ে পাশ্চাত্য ধাঁচের দৃষ্টিনন্দন পোশাক। চুলগুলো ...