Home | ব্রেকিং নিউজ | মৃত ভৈরব নদী কালের বির্বতনে এখন শুধুই সাক্ষী

মৃত ভৈরব নদী কালের বির্বতনে এখন শুধুই সাক্ষী

 সুমন কর্মকার : নদীমাতৃক বাংলাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য ছোট বড় নদী। সেই নদীর একটি অংশ আঠারোবেকীর শাখা ভৈরব নদী। ভৈরব নদের একটি বড় অংশ খুলনার রূপসা থেকে উৎপত্তি হয়ে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটের কোল ঘেষে বাগেরহাটের চিত্রা নদীতে মিলিত হয়েছে। খুলনা থেকে বাগেরহাটে যেতে এ নদীপথের দূরত্ব মাত্র ১৫ কিলোমিটার। কথিত আছে সকল নদীর মা এই ভৈরব নদী। কালের বির্বতনে এখন শুধু সাক্ষী হয়ে আছে এ নদী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক সময় অত্র অঞ্চলের শত শত জেলে এই নদীতে মৎস্য শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতো। প্রায় ২৫/৩০ বছর আগে এই নদী থেকে প্রতিদিন অনেক ছোট বড় বিভিন্ন প্রকার পালতোলা নৌকা, লঞ্চ, ইষ্টিমার, মালবাহী ট্রলার চলাচল করত। নৌ-পথের মধ্যেও ছিল অন্যতম। ছিল একমাত্র সহজ ব্যবস্থা। এ নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন খুলনা থেকে নিত্য দিনের প্রয়োজনীয় মালামাল পৌঁছাতো।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ভৈরব নদীটি বর্তমানে গোচারোন ভূমিতে পরিনত হয়েছে। নৌকা চলাচলের পরিবর্তে গরু-ছাগল হেঁটে চলাচল করছে। একশ্রেণীর স্বার্থানেশ্বী লোকজন নদী দখল করে নদীর ভেতর ধান, সরিষাসহ বিভিন্ন শাক সবজি চাষ করছে। নদীর দু’পাশে মাছের ঘের, বসতবাড়ী, দোকান ঘর, খোলা পায়খানা নির্মান করে নদীটি মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৯০ সালের আগে এ নদীটি একবার খনন করা হয়, এরপর ফকিরহাটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে ১৯৯৯ সালে এ নদীটি খনন করা হয়। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে আবারো পলি পড়ে ভরাট হয়ে নৌ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এরপর আর নদী খনন করতে দেখা যায়নি। যার ফলে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে ভৈরব নদ। ফসলের ক্ষেতে পানি সেচের জন্য ব্যাপক সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। নদী দখল ও পলি জমে নদী ভরাট হওয়ায় কৃষি ও মৎস্য চাষিদের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার বৃষ্টি সময় ফসলের ক্ষেত পানির নিচে থাকে যার ফলে অধিকাংশ ফসল নষ্ট হয়ে যায়। অপরদিকে বন্যা বা ভারী বর্ষণ হলে ভৈরবের দু’কুল ছাপিয়ে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির গলদা-বাগদা চিংড়ি ও বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছের চাষিরা আতঙ্কে থাকে। নদীটি খনন করে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি করা ও নৌ চলাচলের ব্যবস্থা করা এটি অত্র অঞ্চলবাসীর প্রানের দাবি।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শরিকুল কামাল কারিমের কাছে জানতে চায়লে তিনি বলেন, সর্বস্থরের জনগণ জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াংকা পাল এ প্রতিবেদককে জানান, ভৈরব নদী খননের বিষয়ে উপজেলা মিটিংয়ে কয়েকবার অলোচনা করা হয়েছে। বিষয়টি উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। দ্রুত খননের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, ভৈরব নদ খননের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

খালেদা-তারেকের সাজানো মামলা রাজনৈতিক হাতিয়ার

বিশেষ প্রতিনিধি :  বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ...

যৌন উদ্দীপনা বাড়াতে খেতে পারেন ৬ খাবার

বিডিটুডে ডেস্ক : বর্তমান শহুরে জীবনধারা মানসিক চাপ বাড়ায় এ কথা তো জানা ...