Home | ব্রেকিং নিউজ | মৃতদেহকে ধর্ষণ

মৃতদেহকে ধর্ষণ

ডেস্ক রিপোর্ট : ভালোবেসে একে অন্যের জন্য যেখানে জীবনকে উৎসর্গ করছে, সেখানে তার বিপরীতে গিয়ে প্রেমিকার শরীর পেতে মরিয়া হয়েছেন এক প্রেমিক। সেই তীব্র আকাঙ্ক্ষা মেটাতে গিয়ে অবশেষে প্রেমিকাকে হত্যা করে রীতিমতো মরদেহের ওপর বর্বরতা চালিয়েছেন তিনি!

এ ঘটনায় জড়িত সাবিনার প্রেমিক সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে র‌্যাব-১১-এর একটি দল। এর আগে মঙ্গলবার সাইফুলকে উপজেলার কলেজ গেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামি সাইফুল শিবপুর উপজেলার দুলালপুর খালপাড় গ্রামের বাসিন্দা।

নরসিংদীর শিবপুরে গত ৬ জুন নিখোঁজ হন সাবিনা আক্তার (২১) নামের এক তরুণী। এর দুইদিন পর গত ৮ জুন মরদেহ উদ্ধার করে র‌্যাব। সাবিনার মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিখোঁজের দুইদিন পর ৮ জুন শিবপুর উপজেলার কাজীর চর গ্রামের একটি কলাক্ষেত থেকে সাবিনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বুধবার দুপুরে নরসিংদী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১১ এ তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী শামসের উদ্দিন।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল জানান, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর শাহীনুর বেগম নামের এক নারীকে বিয়ে করেন সাইফুল। দ্বিতীয় স্ত্রীর সংসারে ৫ বছর ও ১০ মাস বয়সী দুই সন্তান রয়েছে। প্রায় তিনমাস আগে শিবপুর উপজেলার ধানুয়ায় একটি মাজারে সাবিনা আক্তারের সঙ্গে পরিচয় হয় সাইফুলের। এ সময় সাইফুল তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং সন্তানের কথা গোপন করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাবিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রেমের সূত্র ধরে সাবিনাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যেতেন সাইফুল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাইফুল একাধিকবার সাবিনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টায় ব্যর্থ হন। আর এজন্য বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাবিনাকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব আরও জানায়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সাইফুল ও সাবিনা বিয়ে করার জন্য গত ৬ জুন বিকেলে শিবপুরে একত্রিত হন। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে পাশে সাবিনার চাচাতো বোনের বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হন তারা। পথে রাত হয়ে যাওয়ায় ৯টার দিকে সিএনজি থেকে সাবিনাকে কৌশলে নামান সাইফুল। পরে একটি কলাক্ষেতে নিয়ে সাবিনাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সাবিনা চিৎকার শুরু করলে সাইফুল তার শার্ট দিয়ে মুখ চেপে ধরে সাবিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর সাবিনার মৃতদেহ ধর্ষণ করে বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে রেখে যান  সাইফুল। এ সময় সাবিনার ফোন ও ব্যাগ নিজ বাড়িতে নিয়ে যান সাইফুল। পরে মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে বাড়ির টয়লেটে ও ভ্যানিটি ব্যাগটি বাড়ির পাশের একটি নর্দমায় ফেলে আত্মগোপনে যান।

এ ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে র‌্যাব-১১-এর একটি বিশেষ গোয়েন্দা দল মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাইফুলকে আটক করে। এরপর র‌্যাবের কাছে পুরো ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন সাইফুল। তার দেওয়া তথ্যমতে, নিহত সাবিনার ব্যাগ ও মোবাইল উদ্ধার করে র‌্যাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ব্রিজের রেলিং ভেঙে বাস খাদে, ৬ জন নিহত

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর সদর উপজেলার ধুলদী রেল গেট এলাকায় ...

মোজাফফর আহমদের প্রতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

স্টাফ রির্পোটার : মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতি ...