Home | ফটো সংবাদ | মির্জা আব্বাসের চেয়ে প্রচার বেশি ধর্মভিত্তিক দল ইসলামী আন্দোলনের

মির্জা আব্বাসের চেয়ে প্রচার বেশি ধর্মভিত্তিক দল ইসলামী আন্দোলনের

স্টাফ রির্পোটার : রাশেদ খান মেননের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। এ বিষয়ে কোনো সংশয় নেই। কে জিতবেন, তার আভাস পাওয়াও কঠিন। কিন্তু প্রচার তা বলছে না। অনেকটা একতরফাভাবে নৌকায় ভোট চাইছেন মেনন এবং তার জোট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

ঢাকা-৮ আসনটিতে মির্জা আব্বাসের পক্ষে যত প্রচার চোখে পড়ে, তারচেয়ে বেশি আছে ধর্মভিত্তিক দল ইসলামী আন্দোলনের তৎপরতা। তাদের ব্যানার-পোস্টারও বিএনপির চেয়ে বেশি, জনসংযোগেও তাই।

কমলাপুরের একাংশ, মতিঝিল, পল্টন, শাহজাহানপুর, শাহবাগ এবং আংশিক রমনা নিয়ে আসনটি গঠিত। এখানে ২০০৮ সালে বর্তমান সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন ৯৭ হাজার ৮৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ৬৩ হাজার ৮৬০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকেন। তৃতীয় অবস্থানে থাকেন ইসলামী আন্দোলনের এ কে এম আরফান খান। তিনি ভোট পান ৮৪০টি। ২০১৪ সালে বিএনপি ভোট বর্জনের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন রাশেদ খান মেনন।

এবারও এই আসনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন বিএনপি নেতা সোহেল। কিন্তু তাকে না দিয়ে আব্বাসকে দলীয় প্রতীক দেয় বিএনপি, আর এ কারণে সোহেল-ভক্তরা অভিমান করেছেন, এমন তথ্যই জানা যাচ্ছে।

গত ১০ ডিসেম্বর ভোটের প্রচার শুরুর দিন থেকেই ছোট ছোট মিছিলে নৌকার পক্ষে ভোটপ্রার্থনা শুরু হয়। মেননের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতীক হাতুড়ি হলেও তিনি নিয়েছেন জোটের প্রধান দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক।

বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত সোহেল রহমান  বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু তো করেছিলাম। কিন্তু প্রথম দিন আমাদের প্রার্থী মির্জা আব্বাসের ওপর হামলা হয়। ওই ঘটনায় আহত হয় আমাদের অনেকেই। তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কর্মীদের সেফ (নিরাপদ) করার চেষ্টা করছি। তাদের প্রেসার (চাপ) দিলে তারা প্রচারণা চালাবে, তাতে করে তারা বিপদে পড়ছে। এ জন্য এখন আমাদের প্রচারণা করছি না। নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলতে চাচ্ছি না।’

গতকাল নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নৌকা মার্কার প্রচার-প্রচারণা চলছে অবিরাম। তবে ধানের শীষের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার দেখা মিলছে না। দলের প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদের প্রচারে একবার হামলার পর তার সমর্থকদের আর সেভাবে দেখা মিলছে না।

ধানের শীষ না পেলেও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আবুল কাসেমের হাতপাখা মার্কা প্রচারণা চোখে পড়েছে বিভিন্ন জায়গায়।

কথা হয় শাহবাগের শিশু পার্কে সামনের চা দোকানি রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এই আসনে দল দুইটা নাকি? খালি নৌকা মার্কা আর হাতপাখার প্রচারণাই চোখে পড়ছে। ধানের শীষের প্রার্থীর কোনো প্রচারণা নাই। আসলে ওরা তো মামলা নিয়েই দৌড়ের ওপর আছে, পিঠ বাঁচাইব, না ভোট চাইব। তবে তাদেরও ভোট আছে, কিন্তু প্রচারণা সেভাবে চোখে পড়ছে না।’

কমলাপুরের এক মুদি দোকানি বলেন, ‘এদিকে তো সারাদিন নৌকা মার্কার প্রচার করতেই দেখি। ধানের শীষের প্রচারণা চোখে তো পড়ে না। মাঠে প্রচারে এদিকে বিএনপির কাউকে দেখা যায় না।’

শাহজাহানপুরের মুদি দোকানি আরিফুল ইসলাম অবশ্য মনে করেন, প্রচারে সরব না হলেও ভোটের ময়দানে পিছিয়ে নেই বিএনপি। তিনি বলেন, ‘বিএনপির প্রচারণা দৃশ্যমান না হলেও তাদের প্রচার চলছে ভেতরে ভেতরে। ভোটের দিন ঠিকই তাদের সমর্থকরা ভোট দেবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে নৌকার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন  বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের জন্য শেখ হাসিনাকে আবার প্রধানমন্ত্রী করতে আমরা দায়বদ্ধ। ঢাকা-৮ আসনের সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাশেদ খান মেননের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। তার বিজয় মানেই আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়।’

টিএসসিতেই ভোটের প্রচারে ছিলেন অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। কিছু মুখোশধারীরা হাত মিলিয়েছে জামায়াত-বিএনপির সাথে, তারা অশুভ জোট বেঁধেছে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য। কিন্তু কামাল হোসেনের মুখোশ পরেছে। সারা জাতি আজ তাদের ষড়যন্ত্র বুঝে ফেলেছে, এজন্য এই স্বাধীনতাবিরোধীদের আগামী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে দাতভাঙা জাবাব দেবে জনগণ।’

ঢাকা-৮ আসনের মহাজোটের প্রার্থী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রতারণার জবাব দেবে। ঐক্যফ্রন্ট যে ইশতেহার দিল তাতে বলেছে চাকরির কোনো বয়স থাকবে না, তারা স্বপ্নে ঘি ঢালছে। বয়সসীমা না থাকলে তরুণদের কর্মসংস্থান হবে না।’

‘তারা যুদ্ধাপরাধীদের সাথে তাদেরই বিচারের কথা বলছে। জামায়াতের ২৫ জন নেতা তাদের হয়ে নির্বাচন করছে। এর চেয়ে প্রতারণা আর কি হতে পারে?।’

নৌকাকে মানুষ কেন ভোট দেবে জানতে চাইলে মেনন বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশোধ নেবে, দেশে রক্তগঙ্গা বইয়ে যাবে। এ জন্য তারা মিথ্যা স্বপ্ন দেখাচ্ছে, আর শেখ হাসিনা দিয়েছে ২১ দফা। একদিকে প্রতিশোধ পরায়ণতা আরেক দিকে মানবিকতা। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনলে এদেশে উন্নয়নে গতি পাবে, সব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান হবে। এজন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৃদৃঢ় করতে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তদন্ত প্রতিবেদন; পাইলট ভুলে পাসপোর্ট রেখে গিয়েছিলেন

স্টাফ রির্পোটার : বিদেশে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে নিয়ে আসতে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ...

বুধবার থেকে কমবে তাপপ্রবাহ

স্টাফ রির্পোটার : দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহ আগামী ১৯ ...