Home | ফটো সংবাদ | মার্চের মধ্যেই বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল, সংশোধনী গঠনতন্ত্রে

মার্চের মধ্যেই বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল, সংশোধনী গঠনতন্ত্রে

স্টাফ রিপোর্টার: এবার পুরোদমে সংগঠনে মনোযোগ দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। টানা মার্চ পর্যন্ত চলবে তার দল গোছানোর ব্যস্ততা। দলের দায়িত্বশীল নেতাদের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে মার্চের মধ্যেই দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল করার চিন্তা বিএনপি-প্রধানের। এবার বিএনপিতে নতুন চমক থাকছে ‘এক নেতার এক পদ’। বেগম জিয়া নীতিগতভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংশোধনী আনা হচ্ছে দলের গঠনতন্ত্রেও। এ কারণে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কমিটি সেই আদলে গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটিতেও আসবে নতুন মুখ। নির্বাহী কমিটির আকার ছোট হতে পারে। বর্তমানে রয়েছে ৩৮৬ সদস্যের নির্বাহী কমিটি। গত বছর সেপ্টেম্বরে জেলা ও এর অধীন সব কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয় বিএনপি। কিন্তু অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকেই পৌর নির্বাচনের ডামাডোল বেজে ওঠায় ওই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। আন্দোলনের অংশ হিসেবে পৌর নির্বাচনে অংশ নেয় দলটি। এ প্রসঙ্গে মার্চের মধ্যেই দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘পৌর নির্বাচনের কারণে দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কিছু সমস্যা হয়েছে। শিগগিরই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে। দলের কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাহী কমিটি গঠন করা হবে। যোগ্যরাই দলের নেতৃত্বে আসবেন।
বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান, পৌর ভোটের পর বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে দল গোছানো নিয়ে কথা বলেছেন বেগম জিয়া। এ সময় পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। এর পরই পুরনো ডাটা ধরে দল গোছানোর প্রক্রিয়ায় হাত দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম-মহাসচিব মো. শাহজাহান, রুহুল কবীর রিজভীসহ সিনিয়র নেতারা হোমওয়ার্ক শুরুও করেছেন। কাউন্সিল-উপযোগী ২০ জেলা নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের আগেই দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করতে চান তিনি। এর আগেই জেলা, মহানগর এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ হবে।সূত্র জানায়, রাঙামাটি, কুড়িগ্রাম, নেত্রকোনা, নীলফামারী, ফরিদপুরসহ ১০টি জেলায় কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। অন্তত ১০টি জেলা কমিটি ভেঙে দেওয়া হবে। এগুলো হলো—ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ, ঢাকা জেলা, রাজশাহী জেলা, চুয়াডাঙ্গা, বরগুনা, পিরোজপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা উত্তর, চট্টগ্রাম উত্তর ও মৌলভীবাজার। বেগম জিয়ার লন্ডন সফর ও পৌর নির্বাচনের ডামাডোলে কাউন্সিল-উপযোগী ২০ জেলায় কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি। এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এসব জেলার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। বিএনপি-প্রধানের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর দায়িত্বশীল নেতারা ইতিমধ্যে কাজও শুরু করেছেন। সদ্য সমাপ্ত পৌর নির্বাচনের ফলাফলভিত্তিক সাংগঠনিক ডাটাও তৈরি করা হচ্ছে।
বিএনপির গুলশান কার্যালয় সূত্র জানায়, যে কোনো দিন ছাত্রদলের অসম্পূর্ণ কমিটি ঘোষণা করা হবে। তালিকাও প্রস্তুত। ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া চলছে যুবদলও। মেয়াদোত্তীর্ণ অন্য অঙ্গসংগঠনগুলোরও নতুন কমিটি আসবে শিগগিরই। দুই ভাগে ঢাকা মহানগর বিএনপিতেও আসবে নতুন মুখ। ইউপি নির্বাচনের আগেই বেগম জিয়া চান দল ও অঙ্গসংগঠনগুলো গুছিয়ে ফেলতে।সূত্রমতে, কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটিতে একঝাঁক নতুন মুখ আসবে। স্থায়ী কমিটিতেও আসবে পরিবর্তন। স্থায়ী কমিটির বয়োবৃদ্ধ সদস্যদের সিনিয়র উপদেষ্টা করার চিন্তাভাবনা চলছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য পদে দুজনসহ নির্বাহী কমিটির অন্তত ১০টি শূন্যপদ পূরণ করা হবে। ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম-মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদেও আসবে নতুন নতুন মুখ।
স্থায়ী কমিটিতে নতুন মুখ হিসেবে আসতে পারেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাদেক হোসেন খোকা, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এম ওসমান ফারুক, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সাবেক এমপি কবির হোসেন প্রমুখ। অবশ্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহাসচিব হলে গঠনতান্ত্রিকভাবেই স্থায়ী কমিটির সদস্য হবেন। কাউন্সিলের আগেও মির্জা ফখরুল ভারমুক্ত হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বেগম জিয়া তার গঠনতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। পরে কাউন্সিলে তা পাস করিয়ে নেওয়া হবে।
জানা যায়, নির্বাহী কমিটিতে এবার অপেক্ষাকৃত তরুণরা প্রাধান্য পাবেন। আর বাদ পড়বেন নিষ্ক্রিয়রা। যুবদল ও সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে আবদুল খালেক, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আবদুল বারী ড্যানী, সেলিমুজ্জামান সেলিম, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, আ ক ম মোজাম্মেল হক, মোরতাজুল করীম বাদরু, রওনকুল ইসলাম টিপু, সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, হাবিবুর রশীদ হাবিব, শহিদুল ইসলাম বাবুল, বজলুল করীম চৌধুরী আবেদ, আবদুল মতিন, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, হায়দার আলী লেলিন, নূরুল ইসলাম নয়ন, হাসান মামুনসহ অনেকেই বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে জায়গা করে নিতে পারেন। এদের মধ্যে স্থান পেতে পারেন কেউ কেউ বিএনপির অঙ্গসংগঠনেও। তবে এবার জেলা পর্যায়ের কমিটিতে আন্দোলনে থাকা যে ত্যাগী নেতাদের জায়গা হবে না, নির্বাহী কমিটিতে তাদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। বর্তমান নির্বাহী কমিটির দুই শতাধিক সদস্যই নিষ্ক্রিয় বলে বেগম জিয়ার কাছে রিপোর্ট রয়েছে। তাই নির্বাহী কমিটিতে আমূল পরিবর্তন আসবে।
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মো. শাহজাহান বলেন, ‘পৌর নির্বাচন ও ৫ জানুয়ারি দলের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়েরও সুযোগ হয়েছে। এখন তাদের মূল কাজ অবশিষ্ট জেলাগুলোর কমিটি গঠন। অনুকূল পরিবেশ পেলে দুই মাসের মধ্যেই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্গঠন করা সম্ভব। এখন সুচারুভাবে দ্রুত পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আত্রাইয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠের সাকোঁ পারাপার

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) থেকে :  নওগাঁর আত্রাইয়ে একটি ব্রিজের অভাবে ...

এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন

রাজধানীর স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে গত রবিবার অনুষ্ঠিত হয় এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ১৭তম ...