ব্রেকিং নিউজ
Home | জাতীয় | মামলায় শিশুদের আসামি করা শিশু আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন

মামলায় শিশুদের আসামি করা শিশু আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন

স্টাফ রির্পোটার : এ বছরের গোড়ার দিকের কথা। ঢাকার একটি আদালতে মায়ের কোলে চড়ে এক ফুটফুটে শিশু এসেছে জামিন নিতে। তার অপরাধ প্রায় নয় মাস আগে রামদা হাতে সে আক্রমণ করে প্রতিপক্ষকে আহত করে জায়গার দখল নিয়েছে। তখন তার বয়স ছিল ২২ দিন। তাকে আসামি করে পুলিশ।

গত বছরের গোড়ার দিকে জামালপুরের বকশিগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে দুই বছরের শিশুসহ পরিবারের সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন এক ব্যক্তি। শিশুটি জামিন নিতে গেলে বিচারকের চোখে পড়লে তিনি বাদীকে তলব করেন।

সম্প্রতি ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার কালীবাড়ি প্রিমিয়াম আইডিয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র সাকিবুল হাসান (৮) হত্যা মামলায় পাঁচ শিশুকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেয় হাইকোর্ট।

এই উচ্চ আদালতের পৃথক একটি বেঞ্চ গতকাল এক শিশুকে আগাম জামিন দেওয়া হয় মানব পাচারের মামলায়।

দেশের বিভিন্ন থানায় ও আদালতে এভাবে শিশুকে আসামি করার নজির আরও অনেক আছে। তার বেশির ভাগই হয় আক্রোশ ও শত্রুতাবশত কিংবা পুলিশের অবহেলায়।

মামলায় শিশুদের আসামি করাকে শিশু অধিকার ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলছেন মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা।

তাদের মতে, পুলিশ প্রসাশন ও প্রসিকিউশনের দুর্বলতা ও অবহেলার কারণে দেশে এ রকম ঘটনা ঘটছে। এটি দ-বিধি ও শিশু আইনেরও লঙ্ঘন।

হিউম্যান রাইটডস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘আমাদের প্রসিকিউশনের দুর্বলতার কারণেই এ রকম মামলা হচ্ছে একের পর এক। বিশেষ করে এসব মামলা যারা তদন্ত করেন এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) দুর্বলতা বেশি।’

‘শত্রুতা করে কেউ কোনো শিশুর বিরুদ্ধে মামলা দিতে পারে। কিন্তু মামলা তদন্ত করার দায়িত্ব থানা পুলিশের। তদন্ত কর্মকর্তার। আদালতের রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত প্রসিকিউশনকে মামলাটি ভালো করে দেখতে হয়, কিন্তু অনেক সময় তারা দেখেন না। এসব দুর্বলতার কারণে শিশু তো দূরের কথা বুকের দুধ পান করা বাচ্চাকেও বিভিন্ন মামলার আসামি করা হচ্ছে। এটি শিশু আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।’

শিশুদের কোনো ধরনের মামলায় সম্পৃক্ত করার বিধান নেই বলে জানান চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, ‘দ-বিধি ও শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী শিশুদের বিরুদ্ধে মামলা করেত বাধা রয়েছে। একটি শিশুকে মানবপাচারের মতো মামলায় আসামি করা জঘন্য অপরাধের শামিল।’ এ জন্য পুলিশ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দায়ী বলে মনে করেন তিনি।

গতকাল মানবপাচারের একটি মামলায় কক্সবাজারের রামু উপজেলার সাড়ে ১১ বছরের যে শিশুটি ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছে, মামলা সময় তার বয়স ছিল ছয় বছর। এজাহারে তার বয়স দেখানো হয়েছে ২২ বছর।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন মঞ্জুর করার সময় মন্তব্য করেন, ‘সে এখনো মানব হতে পারেনি। মানব পাচার করবে কীভাবে?’

এ মামলায় শিশুটির আইনজীবী জামান আক্তার (বুলবুল) সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিশুটির বাবা মারা গেছেন তার পাঁচ বছর বয়সে। মামলার ঘটনার সময় ওর বয়স ছিল ছয় বছর। বর্তমানে তার বয়স চলছে সাড়ে ১১ বছর। কিন্তু এজাহারে বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ২২ বছর।’

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন কক্সবাজারের রামুর হাজিপাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম। মামলায় রামুর চাকমারকুল এলাকার ওই শিশুসহ ছয়জনকে আসামি করেন তিনি। ঘটনা দেখানো হয় ২০১৪ সালের ২০ জুন রাত এবং ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ভালো বেতনে কাজ দেবে বলে ওই বছরের ২১ জুন সাগরে ছোট নৌকা দিয়ে নুরুল ইসলামকে জাহাজে তুলে দেন আসামিরা। কয়েক দিন পর তাকে জাহাজ থেকে থাইল্যান্ডের উপকূলীয় পাহাড়ের জঙ্গলে নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে দালালরা মারধর করে মুক্তিপণ দাবি করেন। মোবাইল ফোনে স্বজনদের কাছ থেকে ওই শিশুসহ ১ ও ২ নম্বর আসামি ২ লাখ টাকা নেন।

২০১৭ সালের জুন মাসে মালয়েশিয়ায় অভিযানকালে আটক হন নুরুল ইসলাম। এক বছর জেল খাটার পর দেশে ফিরে মামলা করেন। অভিযোগ গঠনের পর মামলাটি এখন সাক্ষ্য পর্যায়ে আছে।

আলাউদ্দিনের মা রিজিয়া বেগমের অভিযোগ, শত্রুতা করে মালাটি করেছে তার সতিনের ছেলেরা। মামলার বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলায় গত ১৫ অক্টোবর তার খুপড়ি ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

গত ২৩ অক্টোবর ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার কালীবাড়ি প্রিমিয়াম আইডিয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র সাকিবুল হাসান (৮) হত্যা মামলায় পাঁচ শিশুকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেয় হাইকোর্ট। আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন নেয় শিশুরা।

গত ৬ জুলাই কালীবাড়ি পুরাতন গুদারাঘাট বেড়িবাঁধ নদী থেকে সাকিবুলের লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় পরদিন কোতোয়ালি থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন শিশুটির মা। ময়ানাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ২৪ সেপ্টেম্বর সাকিবুলের মা কোতোয়ালি থানায় ছেলেকে হত্যার অভিযোগে ছেলের খেলার সঙ্গী পাঁচ শিশুর বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের বয়স ৯ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সম্মেলন শুরু

স্টাফ রির্পোটার :  আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ সম্মেলন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ...

ফ্রান্সের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় এক মসজিদে বন্দুক হামলা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ফ্রান্সের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় এক মসজিদে বন্দুক হামলা হয়েছে। স্থানীয় ...