ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার ভয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের গৌরনদী সার্কেলের কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন

মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার ভয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের গৌরনদী সার্কেলের কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন

barisal mapমোঃ বদরুজ্জামান খান সবুজ, গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা : মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার আশংকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরিশালের গৌরনদী সার্কেলের কর্মকর্তা কর্মচারীরা মাঠে অভিযান চালাতে ভয় পাচ্ছেন। মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করতে গিয়ে কয়েক দফা হামলার শিকার হয়েছেন তারা। ফলে গৌরনদীতে অনেকটা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। বে-পরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। এলাকায় মাদকের প্রসারতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকায়  খুন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতিসহ নানা অপরাধ কার্যক্রম দিন দিন বাড়ছে। গৌরনদী থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গৌরনদী সার্কেলের কর্মকর্তা কর্মচারীরা গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গৌরনদী পৌরসভার ৃ উত্তর বিজয়পুর এলাকার মাদক ব্যবসায়ী রুবেলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে  বিপুল পরিমান গাজা, হেরোইন, ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক সেবন করার সরঞ্জামাদিসহ তাকে (রুবেলকে) আটক করেন। তাকে থানায় নিয়ে আসার পথে ৭/৮টি মোটরসাইকেল যোগে ১৫/২০ জন যুবক তাদের ওপর হামলা চালিয়ে আটককৃত মাদক ব্যবসায়ী রুবেলকে (২২) ছিনিয়ে নেয়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীদের হামলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের গৌরনদী সার্কেলের ইন্সপেক্টর রায়হান আহম্মেদ খান, এসআই এনামুল হক, এএসআই নবরঞ্জর ভদ্র,  কনেষ্টবল আঃ সালাম মোরল ও হযরত আলীকে আহত হয়। এ ঘটনায় রাজ্জাক বেপারী নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করে। এ ব্যাপারে  মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের গৌরনদী সার্কেলের এসআই এনামুল হক বাদী হয়ে গৌরনদী থানায় পৃথক ভাবে ২টি মামলা দায়ের করেন। গত বছর গৌরনদীর কটকস্থল গ্রামে অভিযান চালাতে গিয়ে একইভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের দ্বারা গৌরনদীর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের ৪ জন কর্মকর্তা কর্মচারী আহত হয়েছিল।গৌরনদী সার্কেলের ইন্সপেক্টর রায়হান আহম্মেদ খান  বলেন, আমাদের কোন গাড়ী নেই, পায়ে হেটে গিয়ে অভিযান চালাতে হয়। মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক সরবরাহের কাজে মাইক্রো, হোন্ডাসহ আধুনিক যানবাহন ব্যবহার করে আসছে। এছাড়া আত্মরক্ষার জন্য আমাদের কাছে নেই কোন অস্ত্রশস্ত্র। এমনকি আমাদের কাছে নেই একটি হ্যান্ড ক্যাপ পর্যন্ত। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, সরকার আমাদের যে ভাবে মাদক বিরোধী অভিযানে পাঠাচ্ছে এটাকে অভিযান বলা যায় না। এটা শুন্য হাতে বাঘ শিকারে পাঠানোর মতো আমাদের বিপদের মুখে ঠেলে দেয়া। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রনের জন্য গৌরনদী, উজিরপুর, আগৈলঝাড়া, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ এই ৫টি উপজেলা নিয়ে গৌরনদী সার্কেল অফিস গঠিত হলেও জনবল আছে মাত্র ৫ জন। এই জনবল দিয়ে সার্কেল অফিস চালানো যায় না বলে তিনি জানান। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের বরিশাল জোনের সহকারী পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান শরীফ জানান, আমাদের কোন টিএডিএ নেই, দেয়া হয়না ঝুঁকিভাতা পর্যন্ত। এমনকি আমরাা পুলিশ বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর ন্যায় রেশন পর্যন্ত পাই না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবাধে মাছ শিকার

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ নেত্রকোণার মদনে তিয়শ্রী ইউনিয়নের তিয়শ্রী বাজারের পাশে ...

মদনে অবৈধভাবে চলছে মাছ শিকারের মহোৎসব

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) : নেত্রকোণা মদন উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের নয়াপাড়া ও ...