ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | মহেশখালীতে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু 

মহেশখালীতে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু 

এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন,কক্সবাজার,৩০ মে: কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম দুইটি প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হচ্ছে। এই দুইটি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩২০ মেঘাওয়াট। এরই মধ্যে জমির মালিকদের ক্ষতিপুরণ দেওয়ার বিষয়টি চুড়ান্ত হয়েছে। এই দুইটি প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর মহেশখালীর হোয়ানক ও কালারমারছড়ার ৪টি মৌজার ৫ হাজার একর জমিতে আরো ৮টি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন জমি নামমাত্র মূল্যে ইজারা নিয়ে এতদিন ভোগ-দখল করেছেন তারাই কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরোধীতা করে যাচ্ছে। এরপরেও চীনের সঙ্গে যৌথ চুক্তি করে মাতারবাড়িতে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি হয়েছে। যৌথ মালিকানায় কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ‘চায়না ন্যাশনাল মেশিনারিজ ইমপোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন’র সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে বলেও সূত্রে প্রকাশ।সূত্র মতে, মাতারবাড়িতে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর মহেশখালীর হোয়ানক ও কালারমারছড়ায় আরো ৮টি প্রকল্প নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আওয়ামী লীগ সরকার ২০২১ সালের ভিশন বাস্তবায়নে আমদানি করা কয়লা দিয়ে প্রায় ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে উদ্যোগ নিয়েছে তৎমধ্যে প্রথম দফায় দুইটি সহ মহেশখালীতে মোট ১০টি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের মহাপরিকল্পনা রয়েছে।সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে মাতারবাড়ির দুইটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৪শ একর জমি অধিগ্রহন করা হচ্ছে। জমি মালিকদের ক্ষতিপুরণ দিতে ইতোমধ্যে সবকিছু চুড়ান্ত করা হয়েছে। কক্সবাজার ভুমি হুকুম দখল অফিস জমির মালিকদের নামে ইতোমধ্যে ৭ ধারায় নোটিশ জারি করেছে। যা ক্ষতিপুরণ প্রাপ্তির জন্য চুড়ান্ত নোটিশ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অফিস। জানা যায়, ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের অব্যবহিত পরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ খাতের জন্য একটি দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ও উচ্চবিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এরই অংশ হিসেবে ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পটি যাতে পানি দুষণ না করে সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। নির্মাণ, মালিকানা এবং পরিচালনা মডেলের ভিত্তিতে নির্মিতব্য ‘১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক থারমাল পাওয়ার প্ল্যান্ট বিদ্যুৎ প্রকল্প’টি ২০১৯ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত কয়লা ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও মোজাম্বিক হতে সমূদ্র পথে আমদানী করা হবে।এদিকে, কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে স্থানীয় লোকজন ও জমির মালিকদের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এছাড়া অপপ্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন একটি পক্ষ।একজন জমির মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আমরা যথা-সময়ে ক্ষতিপুরণের টাকা উত্তোলন করে নেব। জাতীয় স্বার্থে গৃহিত প্রকল্পে আমরা বাধা দিতে চাই না। যারা বিরোধীতা করছেন তাদের অধিকাংশের কোন জমি নেই। যে সব জমি অধিগ্রহন করা হচ্ছে এতে অর্ধেক জমির মালিক পানি উন্নয়ন বোর্ড। যারা ওই জমি নামমাত্র মূল্যে ইজারা নিয়ে এতদিন ভোগ-দখল করেছেন তারাই কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরোধীতা করছেন বলে জানান তিনি।অপরদিকে, একই ভাবে কালারমারছড়া ও হোয়ানকে প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয় নিয়েও চরমভাবে বিরোধীতা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিপুল পরিমান জমি অবৈধ দখলে রাখা ব্যক্তিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্তমান সরকারের অধিনেই হবে : হানিফ

কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান ...

সুন্দরগঞ্জে পৌর কর্মচারীদের কর্ম-বিরতি

আবু বক্কর সিদ্দিক, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) থেকেঃ  গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌর কর্মকর্তা- কর্মচারীরা কর্ম-বিরতি ...