Home | ব্রেকিং নিউজ | মহাসড়কে চাঁদাবাজি : ৩ চাঁদাবাজকে পেটালেন সেনা সদস্যদরা

মহাসড়কে চাঁদাবাজি : ৩ চাঁদাবাজকে পেটালেন সেনা সদস্যদরা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : মহাসড়কে পরিবহন থেকে জোরপূর্বক অবৈধ চাঁদা উত্তোলনের সময়ে সেনা সদস্যদের হাতে ফরিদ উদ্দিন, শরিফুল ও কবির হোসেন নামে তিন চাঁদাবাজ আটক হয়েছেন।

এসময় সেনা সদস্যরা ওই তিন চাঁদাবাজকে ধরে বেধড়ক পিটুনি দেন। পরে চাঁদাবাজরা আর চাঁদাবাজি করবেনা বলে মুচলেকা দিয়ে এ যাত্রায় মাফ পায়।

মঙ্গবার (১১ জুন) দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কালীগঞ্জ শহরের টিএন্ডটি অফিসের সন্মুখে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রতিদিনের ন্যায় মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে শহরের মেইন বাসষ্ট্যান্ড থেকে ২ শত গজ দূরে টিএন্ডটি অফিসের সন্মুখে ৪/৫ জনের একদল চাঁদাবাজ মহাসড়কে বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহন থামিয়ে চাঁদা তুলছিল। এমন সময়ে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ী এসে ওই যানজটে আটকা পড়ে।

এসময় সেনা সদস্যরা গাড়ী থেকে নেমে দেখে ৪/৫ জন লাঠিধারী যুবক বাস ট্রাক থেকে জোর পূর্বক চাঁদা আদায় করছে। সেনা সদস্যরা চাঁদাবাজদের ধাওয়া করলে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও ওই ৩ জন পালাতে পারেনি। এসময় এ তিন জনকে ধরে বেধড়ক পিটুনি দেন সেনা সদস্যরা। পরে তাদের পায়ে ধরে চাঁদাবাজি আর করবেনা বলে মাফ চেয়ে এ যাত্রায় রক্ষা পায়।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইউনুচ আলী জানান, তিনি মিটিংয়ে ছিলেন। রাস্তায় চাঁদা তোলা সংক্রান্ত কোন মারপিটের ঘটনা তিনি জানেন না বলে জানান।

উল্লেখ্য, বছরের পর বছর দীর্ঘদিন একটি মহলের নির্দ্দেশে ওই চাঁদাবাজরা কালীগঞ্জ মহাসড়কে বিভিন্ন যানবাহন থেকে চাঁদা উত্তোলন করত। গত ঈদের আগে থেকে প্রশাসনের নির্দ্দেশে মহাসড়কে সকল ধরণের চাঁদাবাজি বন্ধ ঘোষণা করায় কিছু দিনের জন্য চাঁদা তোলা বন্ধ ছিল। কিন্তু প্রশাসনের ওই নির্দ্দেশ অমান্য করে এ সপ্তাহ থেকেই আবারো চাঁদা তোলা শুরু করে ওই চাঁদাবাজরা। সর্বশেষ মঙ্গলবার সেনাসদস্যদের হাতে মার খেয়ে পালিয়েছেন তারা।

এরা প্রতিদিন ২৪ ঘন্টা এখানে ও কলা হাটের মোড়ে সড়কে লাল কাপড়ের পতাকা লাঠির মাথায় বেধে বাস, ট্রাক, পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে অবৈধভাবে জোর পূর্বক ৬০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করতো। এরা এক সাথে ৫ জন করে চাঁদার টাকা আদায় করতো। কোন যানবাহন টাকা না দিলে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করা হয় ও লুকিং গ্লাস ভেংগে দেওয়া হয়। টাকা তুলতে প্রতিদিন ও সর্ব সময় যানবাহনের মরাত্মকভাবে জ্যাম হয়ে থাকে। ঈদের ৩ দিন আগে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার ঘোষনা দেওয়ার পর সড়কে অবৈধ চাঁদার টাকা আদায় বন্ধ থাকে। অবশেষে আবার ৯ তারিখ সকাল থেকে যানবাহনে চাঁদার টাকা আদায় শুরু হয়। দীর্ঘ বছর ধরে ঝিনাইদহ জেলা জুড়ে বেশ কয়েকটি সড়কে চাঁদার টাকা জোর পূর্বক আদায় হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ব্রিজের রেলিং ভেঙে বাস খাদে, ৬ জন নিহত

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর সদর উপজেলার ধুলদী রেল গেট এলাকায় ...

মোজাফফর আহমদের প্রতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

স্টাফ রির্পোটার : মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতি ...