Home | জাতীয় | মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলে বন্ধ ঘোষণা সারাদেশে তুলকালাম কাণ্ড

মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলে বন্ধ ঘোষণা সারাদেশে তুলকালাম কাণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার : মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলে বন্ধ ঘোষণা কার্যকর হওয়ার পর দুই দিন ধরে সারাদেশে তুলকালাম কাণ্ড ঘটছে। পথে পথে এ ধরনের যানচালক ও মালিকরা অবরোধ করে অন্য যানবাহন চলাচলে বাধার সৃষ্টি করছেন। এতে স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। অবরোধের কারণে সড়ক ও মহাসড়কে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ শ্রমিকদের। তিন চাকার অটোরিকশা মালিক-চালকরা আন্দোলন করলেও সিদ্ধান্তের বিষয়ে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন ছিদ্দিক জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আড়াই লাখ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে মাত্র তিন হাজার ৫৭০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যা সড়কের ১ দশমিক ৪২ শতাংশ। মহাসড়ক বাদে অন্যসব সড়কেই তিন চাকার যান চলতে পারবে। মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত সরকার বাস্তবায়ন করবে। এ থেকে সরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।এদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো অটোরিকশা মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে অবরোধ, বিক্ষোভ ও গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেন। এতে ৪ পুলিশসহ ১০ জন গুলিবদ্ধ হয়েছেন। বিক্ষুব্ধ মালিক-শ্রমিকরা কোথাও কোথাও লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। অবরোধের কারণে বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। ফলে হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন। এদিকে বরিশাল থেকে ঢাকাসহ সব রুটের বাস বন্ধ করে রাখার ঘোষণা দিয়েছে বরিশাল বাস মালিক সমিতি। মহাসড়কে অটোচালকদের নৈরাজ্যে প্রতিবাদে এ ঘোষণা দেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে সোমবার সকাল সাড় ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছে সিএনজি অটোরিকশা মালিক শ্রমিকরা।এ সময় কুমিল্লা-সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মহাসড়কে আটকা পড়ে যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।অবরোধকালে সিএনজি অটোরিকশা মালিক শ্রমিকরা জানান, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে হবে। অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলনে যাবে।

সিলেট থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে সিলেটে সড়ক-মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি ও ধর্মঘট পালন করছে জেলা অটোরিকশা (সিএনজি) শ্রমিক ইউনিয়ন।

রবিবার সকাল থেকেই সিলেটের সকল সড়ক-মহাসড়কের ৬ টি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে শ্রমিকরা। বন্ধ রয়েছে অটোরিকশা চলাচলও। বাইরে থেকে আসা অটোরিকশাকে নগরীতে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না আন্দোলনকারীরা।

সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের তেতলি এলাকায় অবস্থান ধর্মঘট পালনকালে বিক্ষোভ সমাবেশ করে সিলেট জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন। এই সংগঠনের সভাপতি জাকারিয়া আহমদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা, মহাসড়কে অটোরিকশার জন্য আলাদা লেন নির্মাণ ও অটোরিকশা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

দাবি পূরণ না হলে আগামীকাল থেকে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন বক্তারা।

জাকারিয়া আহমদ বলেন, এতদিন ধরে চলে আসা নিয়ম হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। এটা আমাদের উপার্জনের অবলম্বন।

তিনি জানান, দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন অটোরিকশা শ্রমিক নেতারা। ওই বৈঠকের পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে সমস্যার সমাধান না হলে আগামীকাল থেকে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি

এদিকে, তেতলি ছাড়াও চন্ডিপুল, গোয়ালাবাজারসহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন অটোরিকশা শ্রমিকরা। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকলেও শ্রমিকদের কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত বাঁধা দেয়নি।

উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) জেদান আল মুসা জানান, শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলে বাঁধা দেওয়া হবে না। ধর্মঘটে নগরীর ভেতরে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। যানবাহনের অপেক্ষায় যাত্রীদেরকে রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জের মহাসড়কগুলোতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ৩ চাকার যানবাহন চলাচল অনেকাংশে কমে গেছে। এদিকে, এসব যানবাহন বন্ধের প্রতিবাদে গতকাল বিকালে হাটিকুমরুল গোলচত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন মালিক-শ্রমিকরা। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বিল্লাল হোসেন জানান, মহাসড়কের পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করতে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দিন আহম্মেদ রবিবার সকালে সিরাজগঞ্জ এসেছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। দ্বিতীয় দিনে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় থেকে হাটিকুমরুল মোড় পর্যন্ত ব্যস্ততম ২২ কি.মি মহাসড়কে দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পৃথকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। দুপুর পর্যন্ত মাত্র ৩টি মামলা হয়েছে। মহাসড়কে ৩ চাকার যানবাহন চলাচল অনেক কমে গেছে।
বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার অধীনে মহাসড়কে পুলিশের তৎপরতা বাড়লেও অবৈধ যানবাহন আটক ও ছেড়ে দেয়া সবই চলছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল সকাল থেকেই বনপাড়া বাইপাস মোড়, রেজুর মোড়, রাজ্জাকের মোড়ে পুলিশের যানবাহন নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা দেখা দিলেও বিভিন্ন সময় আটক ও পরে ছেড়ে দেয়ার ঘটনা পরিলক্ষিত হয়েছে। যার ফলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন।
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, মহাসড়ক থেকে তিন চাকার যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে সিরাজগঞ্জ অটোরিকশা, অটো-টেম্পো ও মিশুক মালিক সমিতি গতকাল উল্লাপাড়ার হাটিকুমরুল গোলচত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। সংগঠনের জেলা সভাপতি আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়ক থেকে শুরু হয়ে নাটোর ও ঢাকা মহাসড়ক ঘুরে আবার গোলচত্বরে এসে শেষ হয়।

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অটোরিকশা বন্ধের প্রতিবাদে মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি বিশ্বরোডে অটোরিকশা মালিক-চালকদের মহাসড়কে অবরোধ, দফায় দফায় সংঘর্ষ-গাড়ির ভাঙচুর, পুলিশের রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপে ৪ পুলিশসহ আহত ১০ জন গুলিবদ্ধ। অবরোধের ফলে মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর থেকে মেঘনা-গোমতী সেতু পেরিয়ে গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এ দীর্ঘ যানজটের ফলে রোগী ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সরজমিন গিয়ে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অটোরিকশা বন্ধের প্রতিবাদে দাউদকান্দি উপজেলার শহস্রাধিক অটোরিকশা মালিক-চালকরা দাউদকান্দি উপজেলার বিশ্বরোডে মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সড়িয়ে নিতে রাজি করায়। হঠাৎ করে দাউদকান্দি মডেল থানার উপপরিদর্শক তপন কুমার বাকচী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে চালকদের ওপর লাঠিচার্জ করেন। এতে মালিক-চালকরা উত্তেজিত হয়ে গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে। পরে মডেল থানার উপপরিদর্শক তপন কুমার বাকচীর নেতৃত্বে পুলিশ মালিক-চালকদের ওপর রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের গুলিতে ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। চালকদের ইট-পাটকেলের আঘাতে সহকারী পুলিশ পরিদর্শক কবিরসহ ৪ পুলিশ আহত হয়। পরে মালিক-চালকরা আরও উত্তেজিত হয়ে মহাসড়কে অবরোধ করেন এবং মডেল থানার উপপরিদর্শক তপন কুমার বাকচী সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

তারাকান্দা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহ-শেরপুর মহাসড়কের তারাকান্দা তিন চাকাবিশিষ্ট সব ধরনের নছিমন, করিমন, ভটভটি, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, অটোসিএনজি, টেম্পো চলাচলের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তারাকান্দা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী আহম্মেদ মোল্লা বলেন, এ আদেশ অমান্যকারী যানবাহনসহ চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন জালিয়ে তারা অবরোধ করে। অন্যদিকে একই সড়কের চান টেক্সাইল এলাকায় রাস্তায় শুয়ে নছিমন-করিমন চালকরা যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। পরে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে চালকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কে বিসিক বাসস্ট্যান্ড বাঘাবাড়ী নৌবন্দর এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আহমেদ, অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম, ওসি তদন্ত আবদুল হাই এসব এলাকা থেকে বেশ কিছু অযান্ত্রিক যানবাহন ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল আটক করে। এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালনার খবর পেয়ে গোটা শাহজাদপুর মহাসড়কে অটো-টেম্পো শূন্য হয়ে পড়ে। গোটা মহাসড়ক যেন ফাঁকা হয়ে যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আহমেদ জানান, সরকার নির্দেশিত মহাসড়কে কোন ধরনের অটোরিকশা, অটো-টেম্পো এবং সব অযান্ত্রিক যানবাহন কোন রকম চলতে দেয়া যাবে না, এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সাভার থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, সকাল ১০টায় সাভার থানা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশার মালিক ও শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধের ফলে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দিলে বেলা সাড়ে ১১টায় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঢাকা জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রাসেল শেখ জানান, অটোরিকশা মালিক ও চালকরা একজোট হয়ে হঠাৎ মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে সংবাদ পেয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, গতকাল শত শত সিএনজি, অটো-টেম্পো, থ্রি-হুইলার ও মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে জমায়েত হয়। জেলার ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট, শেরপুর, কিশোরগঞ্জসহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গতকাল প্রচুর সিএনজি, অটো-টেম্পো, থ্রি-হুইলার ও মাহেন্দ্র চলাচল করতে দেখা গেছে।
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি জানান, বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে অটোরিকশা, টেম্পো, মাহেন্দ্র, ইজিবাইক, চলাচলের অনুমতি দান, অথবা গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার আঞ্চলিক সড়কে বাস-কোচ চলাচল বন্ধের দাবিতে গতকাল বরিশালের গৌরনদীতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় অটোরিকশা, টেম্পো, মাহেন্দ্র, ইজিবাইক, নছিমন মালিক, চালক ও শ্রমিকরা। এ সময় মহাসড়কের উভয়দিকে শত শত যান বাহন আটকা পড়ে। এতে হাজার হাজার বাসযাত্রীসহ ট্রাক, লড়ি ও বাস, কোচের চালকরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন।
বরিশাল প্রতিনিধি জানান, মহাসড়কে মাহেন্দ্র অটোরিকশাসহ ছোট যানবহন চলাচল বন্ধ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বরিশালের পরিবহন সেক্টর। গতকাল সকালে টেম্পোশ্রমিকরা গৌরনদী ও বাবুগঞ্জে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এর প্রতিবাদে বেলা ১টায় নথুলাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লা রুটের বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে জেলা বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। বাস শ্রমিকদের হামলার মুখে ছোট যানবাহন চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। এ নিয়ে গোটা বরিশালে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে বাস ধর্মঘট আর সড়কে সড়কে বিশৃঙ্খলায় চরম বিপাকে পড়েছেন যাত্রী সাধারণ। এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান বলেন, মহাসড়কে টেম্পো, অটোরিকশাসহ অবৈধ যানবহন চলাচলে উচ্চ আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এ পর্যন্ত কোন দিকনির্দেশনা দেয়া হয়নি। বাস ধর্মঘট নিরসনের জন্য তিনি প্রশাসনিকভাবে উদ্যোগ নেবেন।
টঙ্গী প্রতিনিধি জানান, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে গাজীপুর সিএনজি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এ সময় গাজীপুর ডিসি অফিসে ৭ দফার দাবিতে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। স্থানীয় চেরাগআলী থেকে গতকাল সকালে গাজীপুর সিএনজি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ কয়েক শ সিএনজি নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। এ সময় মহাসড়কে এলোপাতাড়ি থ্রি-হুইলার রেখে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শুক্রবার ঢাকা আসছেন ভারতের সেনাপ্রধান

স্টাফ রিপোর্টার :  সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকের আমন্ত্রণে ঢাকা আসছেন ...

কুমিল্লা ও সুনামগঞ্জে বৃহস্পতিবার ব্যাংক বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার :  জাতীয় সংসদের সুনামগঞ্জ-২ আসন ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন উপলক্ষে ...