Home | সারা দেশ | মনিরামপুরে উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা

মনিরামপুরে উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা

11(1) মনিরামপুর(যশোর) প্রতিনিধি : ভোট কেন্দ্র দখল হামলা বোমার বিষ্ফোরন এজেন্টদের বের করে দিয়ে ব্যালটে সিল মারা বাক্স ছিনতাই আগুন দেওয়া এবং পুলিশের গুলির মধ্য দিয়ে শনিবার যশোরের মনিরামপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাওয়ায় ১ টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহন স্থগীত করা হয়। তবে অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কম। অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে অন্তত: ৪০ টি কেন্দ্র থেকে ভোট কেটে নেওয়ার। জানাযায়, এ নির্বাচনে মনিরামপুরে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮৭ জন। আর কেন্দ্র করা হয় ১২২ টি। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ছিলেন বিএনপি সমর্থিত এস.এম.মশিউর রহমান(মটোরসাইকেল),জামায়াত সমর্থিত অ্যাডভোকেট গাজী এনামূল হক(কাপ-পিরিচ) এবং আওয়ামীলীগ সমর্থিত আমজাদ হেসেন লাভলু(আনারস) এবং কাজী মাহামুদুল হাসান(দোয়াত-কলম) তবে প্রচারনার শেষ মুহুর্তে মাহামুদুল হাসান নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান। ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপি সমর্থিত আসাদুজ্জামান রয়েল(টিউবয়েল), জামায়াত সমর্থিত প্রভাষক ফজলুল হক(চশমা),আওয়ামী লীগের মিকাইল হোসেন(তালা), জাতীয় পার্টির এমএ হালিম(টিয়াপাখি),ইসলামী আন্দোলনের শহিদুল ইসলাম(মাইক) ও ফারুক হোসেন(উড়োজাহাজ)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপির শিরিনা আকতার(কলস), জামায়াতের গুলবদন খানম(ফুটবল) এবং আওয়ামী লীগের নাজমা খানম(হাঁস)। এ দিকে ভোটের মাঠে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে পুলিশ বৃহস্পতি ও শুক্রবার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জামায়াতের ১৪ নেতাকর্মীকে আটক করে। এর মধ্যে শুক্রবার রাতে চালুয়াহাটিতে ভোট কেনার সময় পুলিশ এক লাখ টাকা সহ জামায়াতের প্রার্থীর ছোটভাই শিবির নেতা মুকিতুল হককে আটক করে। এছাড়াও ভোটের আগের রাতে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজী হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার নির্বাচনের সময় সরেজমিনে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। প্রায় সব কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম। তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল বেশ লক্ষনীয়। গতকাল সকালে সদর ইউনিয়নের হাজরাকাঠি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম। এ কেন্দ্রের সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার নজরুল ইসলাম জানান বেলা ১১ টার দিকে ১০/১১ জন যুবক এসে বুথের মধ্যে ঢুকে ভয় দেখিয়ে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে তাদের সামনে আ’লীগ প্রার্থীর আনারস প্রতিকে সিল মেরে বাক্সে ভরে। এর পর পরই জামায়াত-শিবিরের ১৫/১৬ জন যুবক এসে বুথের সামনে পর পর ২০ টি ককটেলের বিষ্ফোরন ঘটিয়ে তিনটি ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে পার্শ্ববর্তি বাগানের মধ্যে একটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।অবশ্য এসময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে ইটের আঘাতে পুলিশের নায়েক আবদুল জব্বার আহত হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদেরকে ছতভঙ্গ করতে প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে বাচ্চু নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয় এবং আহত হয় অন্তত: ১০ জন। পরবর্তিতে স্থানীয় বিএনপি এবং আওয়ামীলীগের কর্মীরা যৌথভাবে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদেরকে ধাওয়া দিলে তারা ব্যালট ভর্তি দুইটি বাক্স ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। অবশ্য মনিরামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান ৪৭ রাউন্ড গুলি ছোড়ার কথা স্বীকার করেছেন। পরে সেখানে সহকারি রিটার্নিং অফিসার শরিফ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক সেনা,বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ মোতায়েন করা হয়। যশোর ২৬ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লে:কর্নেল মতিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, জামায়াত-শিবির বোমাবাজি সহ ব্যালটবক্স ছিনতাই করেছে। তবে তিনি অপর এক প্রশ্নের জাবাবে বলেন অপর একটি রাজনৈতিক(আ’লীগের প্রতি ইঙ্গিত) দলের কর্মীরা প্রথমে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে তাতে সিল মারে। পরে অবশ্য প্রিজাইডিং অফিসার আলমগীর হোসেন বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে ভোট গ্রহন স্থগিত করেন। এদিকে অভিযোগ রয়েছে উপজেলার মাছনা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর দেড়টার দিকে আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থীর কর্মীরা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালটবক্স ছিনিয়ে নিয়ে সিলমারা ব্যালট বের করে পাশের একটি খালের পানিতে ফেলে দিয়ে পুনরায় তারা আনাসর প্রতিকে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে দেয়। এছাড়াও আ’লীগ কর্মীরা পৌরশহরের সম্মিলনী স্কুল, মহিলা কলেজ, মুক্তারপুর, চাকলা প্রাথমিক, চাকলা মাদ্রাসা, মশ্বিমনগর মাধ্যমিক, মুজগুন্নি, নাগোরঘোপ, চন্ডিপুর, রামনাথপুর, চালুয়াহাটি, মোবারকপুর, ত্রিপুরাপুর, খেদাপাড়া, হানুয়ার, বালিধা, খামারবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ অন্তত: ৪০ টি কেন্দ্রের বিএনপি এবং জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে আনারস প্রতিকে সিল মেরে বাক্সে ঢোকায়।  অভিযোগ রয়েছে ভোট দিতে আসা সাধারন ভোটারদের কেন্দ্র থেকে ভোট না নিয়ে তাদেরকে ফেরত পাঠানো হয়। অবশ্য এসময় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। চন্ডিপুর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার রবীন্দ্র নাথ মন্ডল জানান, জীবনের ভয়ে ব্যালট পেপার দিতে বাধ্য হয়েছি।এ দিকে জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী গাজী এনামূল হক অভিযোগ করেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর আনারস প্রতিকের কর্মীরা অন্তত: ৫০ টি কেন্দ্র দখল করে প্রশাসনের সহযোগীতায় ভোট ডাকাতি করেছে।অপরদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মশিউর রহমান বলেন ভোট ডাকাতি করা আওয়ামী লীগের পুরাতন অভ্যাস। এটা নতুন কিছু নয়। অন্যদিকে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী আমজাদ হোসেন লাভলুর প্রতিক্রীয়া জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন(০১৭১১-৯৬৪৭২৪) রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। ...

বুড়িগঙ্গা তীরে ৬১টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

ডেস্ক রির্পোট : বুড়িগঙ্গা তীরে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ৬১টি অবৈধ স্থাপনা ...