ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | পরিবেশ | মধুপুর বনাঞ্চলে ২৮ হাজার ৬৫০ জন দখলদার

মধুপুর বনাঞ্চলে ২৮ হাজার ৬৫০ জন দখলদার

রবিন তালুকদার, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়াঞ্চলের বিপুল পরিমাণ জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। প্রভাবশালী মহল এই দখল প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত। আবার আদিবাসীরা নিজেদের অনেক জমি স্থানীয় বাঙালিদের কাছে লিজ দেয়া হচ্ছে। সেই জমি পরবর্তীতে বেদখল হয়ে যাচ্ছে। বনবিভাগ দখল হয়ে যাওয়া ভূমি উদ্ধার করতে গেলে আদিবাসীদের সামনে রেখে আন্দোলনে নামে প্রভাবশালীরা।

টাঙ্গাইল বনবিভাগের এক জরিপ থেকে জানা যায়, টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের মোট বনভূমি এক লাখ ১৮ হাজার ৪০৪ দশমিক ৮৪ একর। এর মধ্যে মধুপুর উপজেলায় মোট ৪২ হাজার ৪৯৭ দশমিক ৮০ একরের মধ্যে ২১ হাজার ৮৫০.৪৫ একর ভূমি দখলে রয়েছে। দখলদারদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি, আদিবাসী নেতা রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালীদের নামে-বেনামে বনভূমি দখল হয়েছে বেশি। সামাজিক বনায়নের নামেও অনেক জায়গা দখল হয়েছে। বনবিভাগ দখল হওয়া জায়গা উদ্ধার করতে গেলে শুরু হয় আন্দোলন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের চাপে বন্ধ হয়ে যায় উদ্ধার অভিযান। এভাবেই মধুপুর গড়ের বিপুল পরিমাণ জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভূমির চাহিদা বাড়ে। তখন দখলকারিরা তাদের বসতবাড়ি এবং কৃষি জমি অবৈধভাবে সম্প্রসারণ করতে থাকে। এভাবে বনের ভেতর বসবাসকারী গরীব মানুষ কিছু জায়গা দখল করলেও প্রভাবশালী মহল শত শত একর বনভূমি দখল করে নেয়।

বনবিভাগ দখল হওয়া জায়গা উদ্ধার করতে মধুপুরের গারো নারী বাসন্তি রেমার ৪০ শতাংশ কলার বাগান কেটে ফেলে। এর প্রতিবাদে আদিবাসীসহ এলাকার লোকজন প্রতিবাদে মিছিল, মিটিং ও মানববন্ধন করে। পরে পরবর্তী পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে প্রশাসন, বনবিভাগ ও গারো সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের মধ্যে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে গারো নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন দাবি দাওয়ার প্রেক্ষিতে আলোচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত বাসন্তী রেমাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি ঘর দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর সঙ্গে মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু ১৫ হাজার টাকা ও শোলাকুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আকতার হোসেন ৫ হাজার টাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে নগদ প্রদান করবেন।

বন বিভাগের দোখলা রেঞ্জ অফিসার আব্দুল আহাদ বলেন, বিপুল পরিমাণ বেদখল হওয়া ভূমি উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়া হলে দখলদাররা লোকজন নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। এমনকি রেঞ্জ অফিসে হামলা ও ভাংচুর করাও হয়। আদবাসীদের সামনে রেখে প্রভাবশালী দখলদাররা এসব আন্দোলন করে থাকে।

মধুপুর জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক বলেন, মধুপুরে বনের বেশির ভাগ জমি আদিবাসীদের। সে সব জমিতে আবাদ করতে হলে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন তা আদিবাসীদের নেই। তাই তারা নিজেদের জমি স্থানীয় অর্থশালীদের কাছে লিজ দেয়। তবে প্রভাবশালীদের দখলে অনেক জায়গা রয়েছে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, আদিবাসীদের দখলে জায়গা থাকলে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু তারা অন্যদের কাছে জায়গা লিজ দিচ্ছে। পরবর্তীতে সেই জায়গা প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে। আর দখলকৃত জায়গা উদ্ধার করতে গেলেই নানাভাবে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তৃতীয়বারের মত শৈলকুপা পৌর মেয়র নির্বাচিত হলেন আ.লীগের কাজী আশরাফুল আজম

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : তৃতীয়বারের মত ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর মেয়র নির্বাচিত হলেন আওয়ামী লীগের ...

শৈলকুপা পৌর নির্বাচন : উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া মধ্য দিয়ে শেষ হল ভোট

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর নির্বাচনে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা, ধাওয়া ...