Home | অর্থনীতি | ভোমরা কাস্টমস অফিসে ব্যাপক অনিয়ম ও দূনীতির অভিযোগ

ভোমরা কাস্টমস অফিসে ব্যাপক অনিয়ম ও দূনীতির অভিযোগ

আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা : ভোমরা কাস্টমস অফিসে ব্যাপক অনিয়ম ও দূনীতির অভিযোগ উঠেছে। পাসপোট যাত্রীদের নিকট থেকে ঘুস আদায় করা হচ্ছে। দালালদের দৌরাত্বে অতিষ্ট পাসপোট যাত্রীদের। সেখানে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১শ থেকে ২ শত টাকা এমনকি ব্যক্তি বিশেষের কাছ কৌশলগত ভাবে ৭০০শত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

তাদের চাহিদামত টাকা না দিলে পাসপোর্ট আটকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। প্রতি মাসে প্রায় লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করা হচ্ছে। সংবাদ কর্মীরা এ বিষয় ভোমরা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট তথ্য জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ কোন তথ্য দিতে অস্বিকার জানাই। সরেজমিনে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে যাতয়াত পাসপোর্ট যাত্রীদের কাছ থেকে কথা বলে বের হয়ে এসেছে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভারতগমনকারী সাতক্ষীরার ঝিটকি এলাকার রাখাল চন্দ্র ঢালী জানান আমার কাছ থেকে আমার নিকট থেকে ১০০ টাকা অতিরিক্ত নিয়েছে। শ্যামনগরের পদ্ম পুকুর এলাকার পারুল বেগম জানান তার নিকট থেকে ২০০ টাকা নিয়েছে। বাগআচড়া এলাকার মিঠুন জানান আমার নিকট থেকে ১০০শত টাকা নিয়েছে। গাজী আজহার উদ্দিন জানান কাস্টুমস অফিসে কোন টাকা না নেওয়ার নিয়ম থাকলেও অতিরিক্ত ২০০ শত টাকা নিয়েছে তারা। বাংলাদেশ থেকে ভারত যাওয়া সাতক্ষীরা কালিগঞ্জের আব্দুর রশিদ জানান কাস্টমস অফিস আমার নিকট থেকে অতিরিক্ত ২০০শত টাকা নিয়েছে। সম্প্রতি ভারত বাংলাদেশ গামী সাতক্ষীরার দেবনগর এলাকার আব্দুল হামিদ ক্ষোভের সহিত বলেন ভারত যাওয়ার সময় টাকা দিয়েছি, আসার সময়ও টাকা না দিতে চাওয়ায় বিভিন্ন ধরনের লাঞ্চনার স্বিকার হয়ে ২শত টাকা দিয়ে রেহাই পাই। শুধু আমি নই প্রত্যেক যাত্রীর ক্ষেত্রে একই পরিনতি। সাতক্ষীরা শহরের জাহিদ খান একই অভিযোগ করেন সংবাদ কর্মীদের নিকট। এখানেই শেষ নয় পাসপোর্ট যাত্রীদের ব্যাগে মালামাল বেশি হলে ব্যাগ থেকে মাটিতে ফেলে চেক করা হয়। মালামালের পরিমান বেশি হলে ব্যাগ চেকের ২০০/৪০০শত টাকা ঘুস দিতে হয় বলে ভূক্তভোগীদের অভিযোগ। টাকা না দিলে তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। অফিসের ভিতরে প্রকাশ্যে টেবিলে বসে সকলের সামনে খোলামেলা ভাবে টাকা নেওয়া হয়। টাকা না দিলে পাসপোর্ট আটকে রাখাসহ বিভিন্ন ভূলত্রুটি খাড়া করে কয়েকজন কথিত দালাল । তারা জানান,অনেকে ভ্রমনকর ছুটির দিন থাকায় দিতে পারেন না। তাদেরক কাছ থেকে ৬০০ করে টাকা নেওয়া হয়। এ ভাবে দিরে পর দিন চলছে ভোমরা কাস্টমস অফিসে দুর্নীতি।

সংবাদকর্মীরা অনিয়মের তথ্য অনুসন্ধানে গেলে ভোমরা কাস্টুমস অফিসের এক সিপাহী পরিচয়দানকারী আসাদ বলেন আমরা টাকা নেই ঠিকই কিন্তু সবার নিকট থেকে টাকা নেই না। অনেক সময় অনেক পাসপোট যাত্রীদের টাকা না থাকায় তাদের টাকা আমরা দিয়ে দেয়। এ বিষয়ে জানতে সম্প্রতি ভোমরা কাস্টমস অফিসের সহকারি কমিশনার সাগর সেনের সঙ্গে সংবাদকর্মীরা দেখা করতে গেলে গেটে থাকা এক কর্মচারী বলেন স্যার ফোনে ব্যস্ত আছেন । দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার এক পর্যায় গেটম্যান বলে দেন স্যার ফোনে ব্যস্ত আছেন । স্যার আপনাদের সাথে সাক্ষাত করবেন না। পরে ভোমরা কাস্টমস অফিসের রাজস্ব কর্মকর্তা এ. এইচ. এস. এম. মহসিনের কাছে প্রত্যেক পাসপোর্ট যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ১০০/২০০ শত টাকা নেওয়ার বিষয় সংবাদকর্মীরা জানতে চাইলে তিনি উত্তেজীত হয়ে বলেন, ভূক্তভোগীরা আপনাদের নিকট অভিযোগ দিতে পারে আমাদের কাছে কেন দেই না। অপর প্রশ্নে মহসিন বলেন টাকা নেওয়ার বিষয় আমার জানা নেই। কেউ নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে সংবাদ কর্মীরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য ভোমরা কাস্টমস অফিসের গেলে কথিত সাংবাদিক পরিচয় দানকারী ব্যক্তি মোবাইল ফোনে বলেন আগত সাংবাদিকদের বলেন নেগেটিভ কোন বিষয় হলে আপনারা সংবাদ পরিবেশন করবেন না, পজিটিব হলে করবেন , কারন ভোমরা কাস্টুমস অফিস আমাদের আয়াত্তে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন

স্টাফ রির্পোটার : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে উপলক্ষ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ঢাকাসহ সারাদেশে ১ ...

২১টি ‘বিশেষ’অঙ্গীকার নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা আওয়ামী লীগের

স্টাফ রির্পোটার :  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২১টি ‘বিশেষ’অঙ্গীকার নিয়ে ...