Home | ফটো সংবাদ | ভোটের প্রচারে সালাহউদ্দিন আহমেদের সেই দৌড়ের স্মৃতি

ভোটের প্রচারে সালাহউদ্দিন আহমেদের সেই দৌড়ের স্মৃতি

স্টাফ রির্পোটার : এক যুগ আগে সংসদ সদস্য থাকাকালে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের সেই দৌড়ের স্মৃতি ফিরেছে ভোটের প্রচারে। মহাজোটের প্রার্থী সৈয়দ আবুল হোসেন বাবলার এবং তাকে সমর্থন দেওয়া আওয়ামী লীগ কর্মীরা ভোটারদের বারবার সেই ঘটনা তুলে ধরছেন।

ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী) আসনে এবার মহাজোট থেকে লড়ছেন জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবুল হোসেন বাবলা এবং বিএনপি থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে এই এলাকা থেকে জেতেন ধানের শীষ নিয়ে। ২০০৬ সালের ৫ মে বিদ্যুৎ এবং পানির দাবিতে আন্দোলন চলাকালে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাকে ধাওয়া দেওয়া হয়। শনিরআখড়া থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত দৌড় দিয়ে বাঁচেন তিনি।

ওই এলাকায় পানি ও বিদ্যুতের সংকটের অবসান হয়েছে। সালাহউদ্দিন এবার এলাকার অন্য নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর কথা বলছেন। তবে স্থানীয় একাধিক ভোটার বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে এক যুগ আগের সেই দৌড়ের প্রভাব পড়বে। কারণ সে সময় সালাহউদ্দিন জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারেননি।

সেই আন্দোলনের প্রভাব ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে পড়েছিল-এটা স্পষ্ট। ওই বছর এলাকাটি দুটি সংসদীয় আসনে বিভক্ত হয়। আর সালাহউদ্দিন ভোটে লড়েন ঢাকা-৫ আসনে। আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান মোল্লার কাছে তিনি হেরে যান ৫৩ হাজার ১৮৪ ভোটে।

ওই বছর ঢাকা-৪ আসনেও বড় ব্যবধানে হারে বিএনপি। দলটির হয়ে লড়ান মুন্সীগঞ্জের নেতা আবদুল হাই ৪২ হাজার ১৫৬ ভোটে হারেন নৌকা নিয়ে লড়াই করা সানজিদা খানমের কাছে।

২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ এই আসনটি ছেড়ে দেয় জাতীয় পার্টিকে। জেতেন বাবলা। এবারো তাকেই সমর্থন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

এবার সালাহউদ্দিন ঢাকা-৫ ছেড়ে প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা-৪ আসনে। তার পক্ষে সেভাবে ব্যানার-পোস্টার বা নির্বাচনী ক্যাম্প দেখা না গেলেও তিনি দল বেঁধে এলাকায় প্রচারও চালিয়ে আসছেন। একাধিকবার হামলাও হয়েছে তার সমর্থকদের ওপর।

মঙ্গলবার জুরাইনে জনসংযোগে গেলে সালাহউদ্দিনের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। এতে আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন।

জুরাইনের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৪ আসনের মানুষ কাকে ভোট দেবে সেটা পরিষ্কার। কারণ বিএনপি প্রার্থীর অতীত ইতিহাস ভালো নয়। তিনি একবার দৌড় দিয়ে দলের মানসম্মান ডুবিয়েছেন। এজন্য মানুষ তকে ভোট দেবে কি না সেটা বলা কঠিন।’

ধোলাইপাড়ের বাসিন্দা শামীম হোসেন, ‘সরকার নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থাকলেও এই আসনে সালাহউদ্দিনের ওপর মানুষের বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে। সে কারণে বিএনপির প্রার্থী পিছিয়ে যেতে পারে।’

বিএনপি সমর্থকরা বলছেন, ‘নিরপেক্ষ’ ভোট হলে পরিস্থিতি তাদের অনুকূলেই আসবে। সালাহউদ্দিনের কর্মী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা-৪ আসনের মানুষ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। কিন্তু নৌকা সমর্থকরা সমানে প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। তবে মানুষ সুযোগের অপেক্ষায় আছে।’

লাঙ্গলের প্রচার বেশি

ঢাকার শ্যামপুর-কদমতলী আসনে জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবুল হোসেন বাবলার পক্ষের লোকজনের ব্যাপক উপস্থিতি চোখে পড়ে। এ ছাড়া মোড়ে মোড়ে, রাস্তার অলিগলিতে বাবলার লাঙ্গল মার্কার ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে। তার নির্বাচনী অফিসও দেখা গেছে বিভিন্ন জায়গায়।

ঢাকায় যে কয়েকটি আসনে জাতীয় পার্টির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট আছে, তার মধ্যে এই আসনটিও রয়েছে। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে ঢাকা-৪ আসনে লাঙ্গলে ভোট পড়েছিল যথাক্রমে ১৮ হাজার ৩১৭ ও ১৫ হাজার ৪১৩। তিনি আশা করছেন, আওয়ামী লীগের ভোট যোগ হলে সহজ জয় মিলবে।

আওয়ামী লীগ নেতা আওলাদ হোসেন দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও সরে যাওয়াও বাবলার স্বস্তির কারণ। কারণ আওলাদ প্রার্থী থাকলে আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশই তার পক্ষে থাকত-এটা নিশ্চিত। তবে তিনি সরে গেছেন এবং এ জন্য স্বস্তিতে আছেন বাবলা।

জাতীয় পার্টির নেতা বলেন, ‘আমরা এখন ঐক্যবদ্ধ। আওলাদ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এখন আর সমস্যা নাই। তবে সে স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলে কিছুটা সমস্যা হতো।’

শ্যামপুরের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এলাকায় লাঙ্গলের কথাই বেশি। ধানের শীষের কোনো  লোক নাই, পোস্টার নাই। তবে সবাই চায় সুষ্ঠু ভোট।’

বিএনপির একজন সমর্থক নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, ‘সব মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছেন না। কথা বললেই থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সালাহউদ্দিন প্রকাশ্যে ভোট চাইতে না পারলেও তার নীরব ভোটার রয়েছে। তিনি প্রার্থী হিসেবে অনেক শক্তিশালী।’

ঢাকা-৪ আসনে জাকের পার্টির প্রার্থী আজাদ মাহমুদের গোলাপ ফুল মার্কার পোস্টার দেখা গেছে। এ ছাড়া চরমোনাই পীর সমর্থক প্রার্থী মোসাদ্দেক হক বিল্লাল আল মাদানির হাতপাখা মার্কার পোস্টারও দেখা গেছে।

বাবলার প্রচারে উঠে আসছে গত পাঁচ বছর ধরে সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি কী কী করেছেন। বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে এলাকায় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। এর মধ্যে এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে, যা উল্লেখযোগ্য।’

‘আমি যে কাজ করেছি ঢাকা-৪ আসনে সেসব বিবেচনায় নিয়েই এই আসনের মানুষ আমাকে ভোট দেবে’-বলেন বাবলা।

সালাহউদ্দিন ‘ভীত’

সালাহউদ্দিন আহমেদ দাবি করেছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে নেতাকর্মীদের হয়রানি ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।

গতকাল শ্যামপুরে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রার্থী বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর তার গণসংযোগের পুলিশ ও লাঙ্গলের প্রার্থীর অনুসারীরা হামলা চালাচ্ছে। তবে বৈরী পরিস্থিতি মোকাবেলা করে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকা এবং জয়ের ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসের কথা জানান সালাহউদ্দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

হাতীবান্ধায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পেয়ে খুশি ৯৭৬ পরিবার

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : ফেলানী বেগম। ভিক্ষা করেই চলে তার জীবন-জীবিকা। ৩ শতক ...

বেনাপোল বন্দরের এসিড রাখায় অসুস্থ হয়ে পড়ছে আশপাশে বসবাস মানুষ : নীরব বন্দর কর্তৃপক্ষ

বেনাপোল প্রতিনিধি : বেনাপোল বন্দরের ভারতীয় ট্রাক টার্মিনালে এসিড ও ভারী পন্য ...