Home | খেলাধূলা | ব্রাজিল শেষ আটে

ব্রাজিল শেষ আটে

স্পোর্টস ডেস্ক : ইতিহাসের দায়শোধ বোধহয় একেই বলে! ৬৪ বছর আগে নিজ আঙিনার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের স্বপ্নভঙ্গের জন্য দায়ী করা হয় একজন গোলরক্ষককে।এতদিন পর ঘরের মাঠে আরেকটি বিশ্বকাপ দুঃস্বপ্নের জ্বালামুখ থেকে ব্রাজিলকে ফিরিয়ে আনলেন যিনি, তিনিও গোলরক্ষকই। এবার দ্বিতীয় রাউন্ডেই বিদায়ের কিনার ঘুরে আসা ‘সেলেসাও’দের শেষ রক্ষা হল জুলিয়ো সেজারের বীরত্বে।

নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটও ১-১ গোলে ড্র থাকায় ব্রাজিল-চিলি ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকার নামের ভাগ্য পরীক্ষায়। ৩-২ গোলের জয়ে বেলো অরিজন্তির মিনেইরো স্টেডিয়ামও তাই আর বেদনার মহাশ্মশান হয়ে উঠতে পারেনি। বরং সেটা ফেটে পড়ে বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাসেই।

ডেভিড লুইজের লক্ষ্যভেদে টাইব্রেকারের শুরু। চিলির মুরিসিও পিনিইয়ার শট ঠেকিয়ে শুরু সেজারেরও। দ্বিতীয় শটে উইলিয়ান পোস্টের বাইরে মারায় ব্রাজিলেরও নিশ্চিন্ত থাকার উপায় ছিল না। সেজার কিছুটা ভারমুক্ত করেন আলেক্সিস স্যানচেজকে ঠেকিয়ে।

পরের দুই শটে শার্ল আরানগুইস ও মার্সেলো দিয়াস গোল করলেও হাল্কের মিসে টাইব্রেকারেও ২-২ গোলের সমতা। শেষ শটে নেইমার কোন ভুল করেননি কিন্তু করে বসলেন চিলির গনসালো হারা। যেদিকে মারলেন, সেজারও ঝাঁপালেন সেদিকেই। কিন্তু সেজার নয়, বল পোস্ট খুঁজে নেওয়াতেই শেষ আটে ব্রাজিল।

যদিও শুরুতে এমন কিছুর পূর্বাভাস ছিল না একদমই। আক্রমণে যাওয়া ব্রাজিলও গোল বের করে নেয় দ্রুতই। ১৮ মিনিটে নেইমারের কর্নার থেকে থিয়াগো সিলভার হেডে বল পাওয়া ডেভিড লুইজ লক্ষ্যভেদ করে এগিয়ে নেন দলকে।

এর আগে ব্রাজিলকেও বেশিক্ষণ এগিয়ে থাকতে দেয়নি চিলি। ৩২ মিনিটেই ম্যাচে ফিরে আসে চিলি। ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সের ভুলে বল পাওয়া এদুয়ার্দো বার্গাস পাস বাড়ান আলেক্সিস স্যানচেজকে।

নেইমারের এ বার্সেলোনা সতীর্থ প্রতিপক্ষ ডিফেন্সের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে সেজারকে পরাস্ত করে সমতা আনেন।

৫৫ মিনিটে হাল্কের গোলে ব্রাজিলের আবার এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ অবশ্য মাত্র কয়েক সেকেন্ডই স্থায়ী হয়েছে। মার্সেলোর উঁচু বল ধরে বাম পায়ে লক্ষ্যভেদ করলেও রেফারি হাওয়ার্ড ওয়েব সেটি তৎক্ষণাৎ বাতিল করেন।

কারণ বুক দিয়ে বল রিসিভ করার সময় যে হাল্কের হাতেও লেগেছিল বল! অতিরিক্ত সময়ের খেলাও যখন শেষ হওয়ার পথে, তখন ৬৪ বছর আগের মারাকানার ভূতই যেন তাড়া করছিল ব্রাজিলকে।

স্যানচেজের কাছ থেকে বল পেয়ে মুরিসিও পিনিইয়া ২০ গজ দূর থেকে যে শটটা নেন, তা সেজারকে পরাস্ত করলেও ফিরে আসে ক্রসবারে লেগে। অথচ পিনিইয়া বল আর ইঞ্চিদুয়েক নীচে রাখতে পারলেই ঘরের মাঠের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় লেখা হয়ে যেত ব্রাজিলের।

এর আগে ১৯৯৮ ও ২০১০ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডেও চিলির মুখোমুখি হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সূত্র: বিবিসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ভয়ানক অভিযানে মিম!

বিনোদন ডেস্ক :  এক আলোকচিত্রে দেখা যাচ্ছে আগাগোড়া শরীর কালো পোশাকে ঢাকা ...

শ্রীলঙ্কায় বন্যা, ভূমিধসে নিহত ১০০

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : শ্রীলঙ্কায় মৌসুমি বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ...