ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | কৃষি | বৈরী আবহাওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবছর আম ফল উৎপাদন হূমকির মুখে

বৈরী আবহাওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবছর আম ফল উৎপাদন হূমকির মুখে

mango--chapai---04.03.14-3মো:জাকির হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ঃবাংলা প্রবাদে আছে ফাগুনের পানি ফুলের জন্য আগুন। চাপাইনবাবগজ্ঞে  ফাগুনের অসময়ের কযেকদফা বিভিন্ন পরিমানের বৃষ্টি, টানা মেঘলা আবহাওয়া, ঠান্ডার প্রকোপ , কুয়াশা, দিনের বেলা গরম বাতাসের অভাব মোট কথা প্রতিকুল আবহাওয়ায় মারাত্মক ভাবে ক্ষতি হতে পারে এবছরের আমফল উৎপাদন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান অর্থকরী ফসল আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। শেষ গত ২দিনের গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশের কারণে অপর্যাপ্ত রোদেও কারনে আমসহ চৈতালী ফসলের ক্ষতির আশংকা প্রকাশ করেছেন কৃষিবিদ ও কৃষকরা।এমনিতে অফইযার তার উপর দেরীতে মুকুল আসায় চিন্তিত: হয়ে পড়েছেন জেলার আমচাষের সাথে জড়িত বিভিন্ন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান। ক্রমবর্ধমান আম উৎপাদনের জেলায় এবার মুকুল তুলনামুলকভাবে কম গাছে গাছে। অধিকাংশ মুকুলে ফুল ফোটেনি এবং কাচাঁ। স্থানীযভাবে সাধারনত: মাঘের আট থেকে ফাগুনের আট পর্যন্ত মুকুল আসার সেরা সময ধরা হলেও সারা ফাগুনেই মুকুল আসে আম গাছে। তবে  দেশীয়ভাবে বলা হয়  চৈত্র মাসের প্রথমেও কখনও কখনও মুকুল আসে। মুকুল কাচাঁ অবস্থা থেকে পুষ্ট হওে তাতে ফুল ফোটে এবং এর পর আসে গুটি। এখনও কিছু গাছে মুকুল আসার ডগা দেখা যাচ্ছে। এমনিতে নামলা বা দেরীতে আসা মুকুল তার উপর বৈরী আবহাওয়ায় এর কতটুকু গুটি হয়ে শেষ পর্যন্ত ঘরে ফল পর্যায়ে আসবে তা চিন্তার কারন হয়ে দাড়িযেছে। খোজ নিযে জানা গেছে জেলার সীমান্তবর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আমের জেলা মালদাহ ও মুর্শিদাবাদেও এবছর আ¤্র মুকুলের একই অবস্থা।তবে কৃষি বিভাগ মুকুলের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য ইতিমধ্যে কৃষকদের করনীয় বিষয়ক পরামর্শ দিয়ে চলেছেন।এমনকি ঢাকা থেকেও তাদেও ফল উইং গনমাধ্যমে করনীয় সম্পর্কে ক্রমাগত প্রচারনা চালাচ্ছে। পরামর্শ দিচ্ছে ফাংগিসাইড ও ইনসেক্টিসাইড সহ ভিটামিন প্রয়োগের। কৃষি বিভাগ জেলায় এ বছর প্রায় ২লক্ষ ৫০হাজার মেট্রিক টন আমের উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন।জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, জেলার ৫টি উপজেলার ৪৫ ইউনিয়ন ও ৪টি পৌর এলাকা মিলিয়ে ২৪ হাজার ৮’শ ৩০ হেক্টর এরও বেশী  জমিতে ক্রমবর্ধমান হারে আমের চাষ হচ্ছে এবং পুরো জেলায প্রায় ২০ লক্ষ মত আমগাছ রয়েছে। তাদের আশা ও পরিসংখ্যানের সাথে মেলান যায়নি বাস্তব অবস্থা। আমের মুুকুল বের হওয়ার শুরুতেই ৩ দফা বৃষ্টি ও টানা মেঘলা আবহাওয়া এবং তাপমাত্রার তারতম্যের কারনে এবার প্রতিটি আমবাগান মুকুলে মুকুলে ভরে যায়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় ও বৈজ্ঞানিকভাবে বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন আম চাষীরা । এটাই আশার কথা। এখন দরকার দিনের বেলা তীব্র রোদযূক্ত জোরালো গরম বাযুময় আবহাওযা।চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ব্যবসায়ীরা বাগান মালিকদের কাছ থেকে সাধারনত কয়েক বছরের জন্য বাগান কিনে ব্যবসা করে থাকে। কোন বছর আমের উৎপাদন একটু খারাপ হলেও পরের বছর পুষিয়ে নেয়ার আশায় এভাবে আম বাগান গুলো কিনে থাকে ব্য্পারীরা। কিছু লোক জেলায সারা বছর শুধু আমচাষের ও বিক্রযের বিভিন্ন ধাপের সাতে জড়িত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।
গত সপ্তাহের শনিবার থেকে প্রথম ২দিনের বৃষ্টিতে আমচাষীদের ভাগ্য সুপ্রশন্ন মনে হলেও বৃষ্টিপাত দীর্ঘস্থায়ী ও মেঘলা আবহাওয়ার কারণে আমের মুকুল নষ্ট এবং আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যহত হতে পারে।মুকুলের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য কৃষকেরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে কীটনাশক স্প্রে শুরু করেছেন। আগাম মুকুলের বাগানগুলোতে ইতিমধ্যে অল্প কিছ ুগুটি দেখা দিয়েছে। গুটি যাতে ঝরে না পড়ে যায়, সেজন্য কৃষকরাও আগাম ব্যবস্থা নিচ্ছে।তবে আম গবেষণা কেন্দ্র বা আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত¡ গবেষনা কের্ন্দের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জমির উদ্দিন জানান, গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হলেও আমের মুকুলের তেমন ক্ষতি হবে না, তবে বৃষ্টির পর রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া ও বাতাস থাকলে এ আমের উৎপাদনে এর কোন প্রভাব পড়বে না বলে জানান। কিন্তু তেমন আবহাওয়া কই? বৃষ্টির পর মুকুলে যাতে ছত্রাক জাতীয় “মহা” না লাগে সেজন্য কৃষকরা এখন প্রতিটি আমবাগানে কীটনাশক স্প্রে করা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। একই মত দিয়েছেন দেশের অন্যতম বৃহত জেলার কল্যানপুরস্থ হর্টিকালচার সেন্টার এরবিজ্ঞানীরাও। কিন্তু কীটনাশক প্রয়োগের পরেই যদি বৃষ্টি আসে বা মেঘলা আবহাওয়ায় কীটনাশক প্রয়োগ করা যায়না। প্রকৃতির কাছে নিরূপায় সবাই।চাঁপাইনবাবগঞ্জের সবচাইতে বড় আমের বাজার এলাকা কানসাট, শিবগঞ্জ, রহনপুর, মল্লিকপুর, ভোলাহাট, নবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাগানগুলো দফায় দফায় বেচাকেনা হলেও অর্থাৎ বারবার হাতবদল হলেও আগামীর আবহাওয়া ও রাজনৈতিক শংকায় বাগানের কাংখিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিশাল বরেন্দ্র অঞ্চল ও নীচু পানি জমা দিয়াড় এলাকা জুড়ে গত ১৫-২০ বছর ধরে অনেক বড় বড় আমবাগান গড়ে উঠেছে। এখন বিপুল সংখ্যক প্রবাসী ও ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, ফেনী, চৌমুহনী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন মোকামের ব্যাপারীরা,বিভিন্ন ব্যবসায়ী গ্রæপ ও প্রতিষ্ঠান জেলায় এসে আমের মুকুল দেখে বাগান কেনা-বেচা অর্থাৎ বিনিযোগ শুরু করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দিনাজপুরে প্রতিমন ধান বিক্রি করে মিলছে একজন শ্রমিক !

দিনাজপুর প্রতিনিধি :  উত্তরের শষ্যভান্ডার দিনাজপুরে ধানের ভালো ফলন পেয়েও ভালো নেই ...

দিনাজপুরে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৫’শ একর জমির ফসল বিনষ্ট

দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরে খানসামা ও বীরগঞ্জে চারটি ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় ...