Home | অর্থনীতি | ব্যবসা ও বাণিজ্য | বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে নামি দাবি ব্রান্ডের পোষাক রফতানি বেড়েছে দ্বিগুন

বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে নামি দাবি ব্রান্ডের পোষাক রফতানি বেড়েছে দ্বিগুন

বেনাপোল প্রতিনিধি : দেশের একমাত্র সর্ববৃহত বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে নামি দাবি ব্রান্ডের পোষাক রফতানি বেড়েছে দ্বিগুন। রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা,বাই সড়ক খুলে দেয়া ও দ্রুত পন্য শুল্কায়নে নতুন নতুন পদ্ধতি চালু করায় রফতানি বেড়েছে দ্বিগুন। বেনাপোল ও ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের সাথে সরাসরি সংযুক্ত বাইপাস সড়কটি দীর্ঘ ৪৫ বছর পর চালু করেন বেনাপোল কাস্টমস কমিশণার বেলাল হুসাইন চৌধুরী।

সম্ভাবনাময় বাংলাদেশী পোষাক ভারতে চাহিদা থাকলে বন্দরে নানা অব্যবস্থাপনা ও বেনাপোল বন্দর এলাকায় ভয়াবহ যানজট’র কারনে ভারতে পণ্য রফতানি ব্যাহত হয়ে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হুসাইন চৌধুরী বেনাপোলে যোগদানের পরপরই তিনি রফতানি বানিজ্য সম্প্রসারনে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহন করেন। তিনি নিজে মাঠে নেমে ৪৫ বছরের যানজট মাত্র একদিনে নিরসন করতে সক্ষম হন। রফতানিকারকরা বেনাপোল বন্দর দিয়েই পন্য রফতানিতে অগ্রহী। পোষাকের পাশাপাশি এই্ বন্দর দিয়ে গত এক বছরে পন্য রফতানি বেড়েছে দ্বিগুন।

বেনাপোল কাস্টমস হাউস সুত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ লা জানুয়ারী থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই বন্দর দিয়ে ২ হাজার ৪৪৯ কোটি ২২ লাখ টাকা মুল্যের ২ লাখ ৩০ হাজার ২১২ মে: টন পন্য রফতানি হয়েছে ভারতে। চলতি বছর একই সময়ে ৪ হাজার ৪০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা মূূল্যের ৩ লাখ ২২ হাজার মে. টন পন্য রফতানি হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুন ।

বাংলাদেশে তৈরী ব্রান্ডের শার্ট প্যান্ট, জারা, সিএনএউমা,এফএইচএনএম’র ট্রাইজার,টি শার্ট,জিন্স প্যান্ট সহ নামী দামি ব্যান্ডের পোষাক রফতানি হচেছ ভারতে। এই জাতীয় পন্য আগে বাই এয়ারে রফতানি করা হতো কিন্ত তা বর্তমানে বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়েই রফতানি করা হচেছ। তাছাড়া, ঝুট, চালের গুড়া, মাছ., মেহগনি ফল, মশারীর কাপড়, ঝাটার শলা, পাট, পাটজাত পন্য’র সুতা, ব্যাগ, প্লাস্টিক বোতল কুচি, সিরামিক আইটেম, সহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী রফতানি হচ্ছে।

পোষাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের সিএন্ডএফ এজন্টস এর সত্বাধিকারি রোকনুজ্জামান জানান, উন্নত মানের শার্ট ও প্যান্টের কাপড় চীন থেকে আমদানি করে তা দেশের তৈরীর পর ভারতে রফতানি করা হচ্ছে। বেনাপোল বন্দরকে যানজট ও ঝামেলামুক্ত করায় পূর্বের তুলনায় এই বন্দর দিয়ে পোষাক রফতানি বেড়েছে। তাছাড়া কম সময়ে , দ্রুত এই পন্য আমদানি ও রফতানিতে এই বন্দরকেই সবচেয়ে বেশী পছন্দ করনে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার বেলাল হুসাইন চৌধুরী জানান, বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দরে আগের সনাতন পদ্ধতি উঠিয়ে দিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমদানি ও রফতানি কার্যক্রম চালাু করায় যেমন বেড়েছে রফতানি তেমনি বেড়েছে আমদানি। আগে রফতানি পন্য’র বিল অব এন্ট্রি ফাইল হয়ে স্বাক্ষরের জন্য কমিশনার পর্যন্ত যেতে হতো। ফলে তিন দিন পর্যন্ত সময় লাগতো। সেখানে অনলাইনে আরও লেবেল থেকে পন্য শুল্কায়ন ও খালাশ কাজ দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে। তাছাড়া পন্য শুল্কায়ন’র জন্য ৫টি গ্রুপকে ভেংগে ৯ টি, ফোল্ডার পদ্ধাত চালু, দিনের কাজ দিনে ও দিনের রাজস্ব দিনে আদায়ের জন্য প্রতিদিনের মোট অমদানি পন্যের শতকরা ১০% পরীক্ষন করা হচ্ছে তাও আবার শুধুমাত্র নামী দামি শিল্প কলকরাখানার জন্য। ফলে এই বন্দরে অমদানি- রফতানি বানিজ্যে ফিরে এসেছে প্রান চাঞ্চল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ড. কামাল কর ফাঁকি দিয়েছেন কিনা খতিয়ে দেখছে এনবিআর

স্টাফ রির্পোটার : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ...

মেয়েদের সব ক্ষেত্রে সুযোগ দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রির্পোটার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মেয়েদের সব ক্ষেত্রে সুযোগ দিতে হবে। ...