Home | অর্থনীতি | ব্যবসা ও বাণিজ্য | বেনাপোলে দীর্ঘ ৪০ বছরের যানজট মাত্র ৫ ঘন্টায় নিরসন, বেড়েছে আমদানি রফতানি

বেনাপোলে দীর্ঘ ৪০ বছরের যানজট মাত্র ৫ ঘন্টায় নিরসন, বেড়েছে আমদানি রফতানি

মহসিন মিলন, বেনাপোলে : বন্দর নগরী বেনাপোলে দীর্ঘ ৪০ বছরের যানজট মাত্র ৫ ঘন্টায় নিরসন করলেন বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী। কাস্টমস এর সারাদিনের কঠোর পরিশ্রম শেষে, যানজটের কারনে রাজস্ব আদায়ে ধ্বষ নামছে তা তিনি কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না।তাইতো কাস্টম ‘র কাজ ফেলে তিনি তার অফিসারদের নিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে যান যানজট নিরসনে।

কমিশনারের নির্দেশে কাস্টমস অফিসাররা একাধিক বৈঠক করেন, মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন, পাইভেটকার চালক সমিতি, ইজিবাইক চালক সমিতি, ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতি, বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দের সাথে।সকলেই রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে যানজট নিরসনে ঐক্যবদ্ধ চেস্টা চালায়।সকালে সভা করে বিকেলেই যানজট নিরসন সম্ভব।ফলে পাল্টে যায় ‍পুরো বেনাপোল বন্দরের দৃশ্যপট।

বেনাপোল আন্তরর্জাতিক চেকাপেস্টের প্রধান সড়কের ওপর থেকে সড়িয়ে নেয়া হয়, আদানিকৃত ট্রাক ও বাস চেসিস, সরিয়ে নেয়া হয় প্রাইভেট কার ও ইজিবাইক। ফলে বর্তমানে বেনাপোল যানট থেকে মুক্ত হলো। আগের তুলনায় বেড়েছে আমদানি রফতানি বানিজ্য। ইতিপূর্বে যানজটের কারণে ভারত থেকে আসা পণ্যবোঝাই ট্রাক ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকত বন্দর এলাকায়।

বেনাপোল বন্দরের অব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট যানজটমুক্ত হওয়ায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ফিরে পেয়েছে স্বস্তি। বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকা থেকে প্রাইভেট কার, ইজিবাইক ও অবৈধ যানবাহনের স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা হয়।

কাস্টমস সহকারী কমিশনার শেখ মাসুদুর রহমান, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, ট্রাক মালিক সমিতি, ট্রাক ও ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেয়। এসব অবৈধ যানবাহন স্ট্যান্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে ব্যাহত হচ্ছিল আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে ইতিপূর্বে ৫ শ ট্রাক মালামাল আমদানি হতো ভারত থেকে। বর্তমানে আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ শ ট্রাকে। যদিও বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে থেকে রেডিমেট গার্মেন্টসহ দ্বিগুণ পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হচ্ছে ভারতে।

গত মাসের শেষ দিকে ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারত বাংলাদেশ জয়েন্ট গ্রুপ অব কাস্টমস এর মিটিং এ বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

এজন্য বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় অবৈধ প্রাইভেট কার, ইজিবাইক স্ট্যান্ডকেই দায়ি করা হয়। থাকায় ভারত থেকে আসা পণ্যবোঝাই ট্রাক ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকত এখানে। ফলে ক্রমেই কমে আসতে থাকে আমদানিপণ্যবোঝাই ট্রাকের সংখ্যা।

কলকাতা থেকে বেনাপোল বন্দরের দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার এবং সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় দেশের সিংহভাগ শিল্প কলকারখানা, গোর্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি‘র কাচামাল সহ বিভিণ্ন পন্য আমদানি হয় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। স্বল্প সময়ে এবং কম খরচে আমদানিকৃত পণ্য দেশে আনতে পারায় এ বন্দরটি ব্যবসায়ীদের পছন্দের বন্দরে পরিণত হয়। বন্দরে স্থান সংকটের কারণে পণ্যজটে আক্রান্ত হতে থাকে বেনাপোল বন্দর। বিপাকে পড়েন বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর পণ্যজটের সাথে সাথে বন্দর এলাকায় বাড়তে থাকে যানজটও। ভারতের পেট্রাপোল বন্দর থেকে চাকদা রোডের ২৩ কিলোমিটার পর্যন্ত আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাকের জট লেগেই আছে এখনও।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে থাকে শত শত ট্রাক। ভারতের রপ্তানিকারকরা তাদের পণ্যবোঝাই ট্রাক ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে আসার পর থেকেই বাংলাদেশি আমদানিকারকদের কাছ থেকে প্রতিদিন ডেমারেজ বাবদ ট্রাকপ্রতি আড়াই হাজার রুপি আদায় করে থাকেন। এ ডেমারেজ দিতে হয় ১৫ থেকে ২০ দিন।

ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এসব সমস্যা নিরসনে কলকাতা কাস্টমস হাউজ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পত্র দেন কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনারকে। চিঠিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় বন্দরের পণ্যজট ও চেকপোস্টে যানজট সমস্যা সমাধানের।

বাংলাদেশ-ভারত চেম্বার অব কমার্সের বন্দর উপকমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, বেনাপোল বন্দরের প্রধান সড়কে যানজট লেগেই থাকত। পথচারীসহ বিপাকে পড়ত দেশ-বিদেশ থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীরা। আটকে থাকত দূরপাল্লার যাত্রীবাহি পরিবহন। আমদানি-রপ্তানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাকগুলো আটকে যেত সড়কে। ফলে ব্যাহত হতো বাণিজ্য।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান, দুই দেশের জয়েন্ট গ্রুপ আব কাস্টমস এর মিটিং এ বেনাপোল চেকপোস্টকে যানজট মুক্ত করার আহ্বান জানানো হয় ভারতীয় কাস্টমসের পক্ষ থেকে। যানজটের কারণে আমদানি কমে রাজস্ব আয়ও কমে যাচ্ছিল। বিজিবি, পুলিশ, আনসার, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস ও ট্রাক শ্রমিকদের সহযোগিতায় চেকপোস্টকে যানজট মুক্ত করায় আমদানি বাড়তে শুরু করেছে। সমস্যা নয় সম্ভাবনার আলোকে বেনাপোলকে গড়তে আধুনিকায়নে, রাজস্ব বৃদ্ধিতে আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের গতি ফেরাতে উন্নত বিশ্বের কাতারে বেনাপোল বন্দর ও কাস্টমসকে পরিচয় করাতে একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সুধীসহ বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সভা-মতবিনিময় করে সমস্যার সমাধানে চেষ্টা করা হচ্ছে। অচিরেই বেনাপোল একটি রোল মডেলে পরিণত হবে বলে আশা করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ড. কামাল কর ফাঁকি দিয়েছেন কিনা খতিয়ে দেখছে এনবিআর

স্টাফ রির্পোটার : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ...

মেয়েদের সব ক্ষেত্রে সুযোগ দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রির্পোটার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মেয়েদের সব ক্ষেত্রে সুযোগ দিতে হবে। ...