ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | বুধবার বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহের ১২৩তম তিরোধান দিবস

বুধবার বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহের ১২৩তম তিরোধান দিবস

Kushtia Lalon Mazer(1)কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া : আগামীকাল বুধবার পহেলা কার্তিক অসাম্প্রদায়িক চেতনার মহাপুরুষ বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহের ১২৩তম তিরোধান দিবস। ১২৯৭ বঙ্গাব্দ সালের পহেলা কার্তিক চাদরমুড়ি দিয়ে গান শুনতে শুনতে নশ্বর এ পৃথিবী থেকে বিদায় নেন সাধু-ভক্তদের সাঁইজি। দেহত্যাগের সময় তিনি তার ভক্তদের বলে যান ‘আমি চললাম’। সাধক পুরুষ লালন চলে গেলেন। তার রেখে যাওয়া মত ও পথের বিশ্বাসী ভক্তরা আজো লালন আখড়াবাড়ীতে ভিড় জমায়। তারা একতারায় সাঁইজির সুর তুলে পরম ঈশ্বরকে সন্ধান করে। প্রতি বছর সাঁইজির তিরোধান দিবসে কুষ্টিয়ার কালীগঙ্গা নদীর তীরের লালন আখড়ার ছুটে আসেন লালনের ভক্ত-অনুরাগীরা। ফকির লালন সাঁইয়ের ১২৩তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে বুধবার বিকালে থেকে আখড়া বাড়িতে শুরু হচ্ছে ৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান। বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানি ‘বাংলালিংক’ এর সহযোগীতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে লালন একাডেমি এবং কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন। তবে ১৬ অক্টোবর থেকে তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হলেও একই দিন ঈদুল আজহার কারনে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সরেজমিন লালন আখড়া বাড়ি গিয়ে দেখা গেছে, মাজার প্রাঙ্গণ এখন লালন ভক্ত, সাধু-বাউল ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত। কোন এক উদাসী টানে দূর-দূরান্ত থেকে এরা ছুটে আসতে শুরু করেছে এ বাউল ধামে। ইতিমধ্যে বিশাল এ আয়োজনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে অনুষ্ঠানের আয়োজক লালন একাডেমি। সর্বত্র সাজ-সাজ রব। দুর-দুরান্ত থেকে লালন ভক্তরা আসতে শুরু করেছে। একাডেমি ভবনের নিচতলার পুরো মেঝে জুড়ে আসন পেতে নিয়েছেন তারা। থাকার জায়গার সমস্যা হবে ভেবে অনেকেই দুদিন আগেই চলে এসেছেন আখড়া বাড়িতে। এ আয়োজনে যোগ দেয়ার জন্য বাউলদের কোন চিঠি দেয়া হয় না, জানানো হয় না নিমন্ত্রন। তারপরও এক আতœার টানে দলে দলে ছুটে আসেন এ বাউল তীর্থে। বাউলরা ৪/৫ জনের ছোট ছোট দলে তারা ভাগ হয়ে একতারা দোতারা বাজিয়ে লালনের গানের সুর তুলছেন। মেলাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধশতাধিক স্টল। মেলা মাঠের দক্ষিণের স্থায়ী মঞ্চে বসবে অনুষ্ঠানের মুল আয়োজন। আলোচনা সভা ছাড়াও প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত চলবে লালনের গান। লালনের তীর্থভূমি একনজর দেখার জন্য শুধু দেশে নয়, বিদেশীরাও ছুটে আসেন প্রতিবছর।
ফকির লালন সাঁইজির জন্ম সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও ‘সাপ্তাহিক হিতকরী’ পত্রিকার মহাতœা লালন ফকির প্রতিবেদন থেকে পন্ডিতরা অনেকটা নিশ্চিত তিরোধানের তারিখ সম্পর্কে। অধিকাংশ পন্ডিতদের মতে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়ার ইউনিয়নের ভাড়রা গ্রামে ফকির লালন শাহের জন্ম। হিন্দু কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার পিতা মাধব কর, মাতা পদ্মাবতী। বাবা-মা তাকে আদর করে ডাকতেন লালু। ছোটবেলা থেকেই লালন স্বরচিত গীত গাইতেন। ফকির লালন শাহ আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেননি। তবে তিনি ছিলেন স্বশিক্ষায় শিক্ষিত। জনশ্রæতি রয়েছে, তীর্থভ্রমণে বেরিয়ে লালন বসন্ত রোগে আক্রান্ত হন। এ সময় তার সঙ্গীরা তাকে ত্যাগ করে নদীর জলে ভাসিয়ে দেন। ভাসতে ভাসতে লালন গড়াই নদীর অববাহিকা কালীগঙ্গায় আসেন। এখানে তাকে স্থানীয় কারিগর সম্প্রদায়ের হাফেজ মলম শাহ উদ্ধার করেন। মলম শাহ ও তার স্ত্রী লালনকে সেবা যতেœর মাধ্যমে তাকে সুস্থ করে তোলেন। এ সময় লালন কিছুদিনের জন্য মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। পরে তার ভারসাম্য ফিরে আসলে তিনি তার গ্রামে ফিরে যাননি। এখানেই তিনি দেখা পান নিজের গুরু ফকির সিরাজ সাঁইয়ের। ফকির সিরাজ সাঁইয়ের সান্নিধ্যে আসার পর লালনের মধ্যে আধ্যাতিœকভাব চলে আসে। সিরাজ সাঁইয়ের দীক্ষায় দীক্ষিত হয়ে লালন সংসার বিবাগী হন। এ সময় একবার তিনি তার গ্রামে ফিরে গেলেও মুসলমান বাড়ির অন্নগ্রহণ করায় তাকে তার পরিবার ও গ্রামের লোকজন মেনে নেয়নি। ফিরে এসে ছেঁউড়িয়ার কারিগর সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় তিনি আখড়া বাড়ি স্থাপন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই আখড়া বাড়িতেই সময় কাটিয়েছেন। পাঁচ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে ৪৪তম বিজ্ঞান মেলা- ২০২২ উদযাপিত

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ নেত্রকোণার মদনে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ৪৪তম জাতীয় ...

মদনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ- ২০২২ উদযাপন

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ ‘দুর্ঘটনা দুর্যোগ হ্রাস করি, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ...