Home | খেলাধূলা | বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের খুটিনাটি

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের খুটিনাটি

ক্রীড়া ডেস্ক : বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বপ্রথম আত্মপ্রকাশ করে ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফিতে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে। সেবারের টুর্ণামেন্টে চার ম্যাচের দুটিতে তারা হেরে যায় এবং দুটিতে জয়লাভ করে। এর সাত বছর পর ১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ এশিয়া কাপে ক্রিকেটে তারা তাদের সর্বপ্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচটি খেলে পাকিস্তানের বিপক্ষে। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফি জেতে এবং এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। বিশ্বকাপে তারা পাকিস্তান এবং স্কটল্যান্ডকে পরাজিত করে।

১৯৯৭ সাল থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আইসিসি ওয়ানডে খেলুড়ে দেশ হিসেবে ওয়ানডে খেলে আসছে। ২০০০ সালের ২৬ জুন তারা দশম টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে আইসিসি’র সদস্যপদ লাভ করে। ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত তারা মোট ১০০ টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে এবং ৯টি ম্যাচে জয়লাভ করে। তারা সর্বপ্রথম টেস্ট জেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। পরবর্তী টেস্ট দু’টো জিতে তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। বহুজাতিক শিরোপা হিসেবে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের অর্জন সদ্য আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়।

আগামী ৩০ মে-১৪ জুলাই ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিত হবে আইসিসি বিশ্বকাপের ১২তম আসর। এবার ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিবে টাইগাররা। ১৯৯৯ সাল থেকে টানা বিশ্বকাপ খেলে আসছে বাংলাদেশ দল। অন্যান্য বিশ্বকাপের চেয়ে এবার সেরা দল নিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে টাইগাররা। পাঠক আসনু, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের খুটিনাটি সব বিষয় নিয়ে জানা যাক।

ব্যাটিং শক্তি:

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ওপেনিং জুটি নিয়ে মধুর সমস্যা তৈরি হয়েছে। ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের জায়গা তো নিশ্চিত। এখন তার সঙ্গী কে হবেন সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে, সম্প্রতি ত্রিদেশীয় সিরিজে ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গে সৌম্য সরকার এবং লিটন দাস দুজনই ভালো করেছেন। দুজনের মধ্যে কাকে খেলানো হবে এখন সেটিই দেখার বিষয়। তামিম-সৌম্য গড় ৪৪.৬১। অন্যদিকে তামিম-লিটন গড় ২৮। তাই সৌম্যই এগিয়ে থাকছেন। আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজের জাত চিনিয়ে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করেছেন এই বা-হাতি স্ট্রোকমেকার । স্কোয়াডে রয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের  ভিড় । টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল খান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিমের অভিজ্ঞতা সর্বজন স্বীকৃত। তাদের প্রত্যকেরই একাধিকবার বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। মিডল অর্ডারে খেলবেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে আরেকটা সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। পুনরায় আইসিসি ওয়ানডে অলরাউন্ডার তালিকার শীর্ষে ফিরেছেন সাকিব আল হাসান। আফগানিস্তানের রশীদ খানকে হটিয়ে পুনরায় শীর্ষ স্থান দখল করলেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।

ওয়ানডেতে ৩৫৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা সাকিব টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি উভয় ফরম্যাটেই অলরাউন্ডার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। ইনজুরির কারণে ফাইনালে খেলতে না পারলেও আয়ারল্যান্ডে সদ্য সমাপ্ত ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যাট-বলে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে পুনরায় অলরাউন্ডার তালিকার শীর্ষে ফেরেন তিনি।

অতি স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ তাকিয়ে থাকবে এই টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট অধিনায়কের উপর। ত্রিদেশীয় সিরিজে আগুনে ফর্মে ছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ডানহাতি এই অলরাউন্ডার বরাবরই টিমের দুঃসময়ে জ্বলে উঠেছেন। রয়েছেন টাইগার উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। অভিজ্ঞ এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান এবার চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার অপেক্ষায় রয়েছেন। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে প্রায় একাই জিতিয়ে দেন দলের তরুণ তারকা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে ২৭ বলে ৫২ করে অপরাজিত থাকেন। আলোচনায় আছেন আরেক স্ট্রোকমেকার সাব্বির রহমান। তাছাড়া প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়া সাইফউদ্দিন ও মেহেদী হাসান মিরাজেরও দলের প্রয়োজনে ব্যাটিংয়ে হাল ধরার সামর্থ্য রয়েছে।

বোলিং শক্তি:

সম্ভাব্য সেরাদের নিয়েই সাজানো হয়েছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ । অন্যদলের তুলনায় বাংলাদেশ পেস আক্রমণকে বলা যায় বেশ গড়পড়তা। অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে রসদ বের করে মাশরাফি তার শেষ বিশ্বকাপে বড় কিছু করতে চাইবেন। রুবেল হোসেন গতি, শর্ট বল আর রিভার্স স্যুয়িং করানোর সামর্থ্য দিয়ে প্রভাব ফেলতে পারেন। কিন্তু সবচেয়ে বেশি যাকে নিয়ে আশা সেই মোস্তাফিজুর রহমান কেমন করবেন তা নিয়ে আছে সংশয়। ইংলিশ কন্ডিশনে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ছিলেন সাদামাটা। কারণ তার বল গ্রিপ করাতে যেমন উইকেট দরকার ইংল্যান্ডে শুরুর দিকে তা থাকবে না। কাজেই মোস্তাফিজের কাটার ভোঁতা হওয়ার শঙ্কা থেকেই যায়। তাকে হয়ত উইকেট নেওয়ার চেয়ে রান আটকানোতে বেশি মন দিতে দেখা যেতে পারে। যতটুকুই কার্যকর হোন, ফিজের বিকল্প বাংলাদেশের ক্রিকেটে নেই।

পেস অলরাউন্ডার হিসেবে শুরু করলেও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বোলিং এখন আগে চেয়ে বেশি ধারালো। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তাকে আউটসুইং করাতে দেখা গেছে। বিশ্বকাপেও তিনি তা করতে পারলে বাংলাদেশের জন্য হবে বিশাল পাওয়া। সেই সঙ্গে শেষ দিকে তার ব্যাটিং তো বাড়তি পাওনা।

চোট সেরে নেমে পুরো ছন্দ দেখাতে না পারলেও তাসকিন আহমেদ ছিলেন আলোচনায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওয়ানডে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা পেসার আবু জায়েদ রাহিকে বেছে নিয়েছেন নির্বাচকরা।

রাহি এগিয়ে গিয়েছেন কন্ডিশনের কারণে। দুই দিকে বল সুইং করানোর সহজাত সামর্থ্য আছে তার। ইংলিশ কন্ডিশনে রাহীর স্যুয়িং কাজে লাগাতে চায় দল। তবে নির্বাচকদের কথা ম্যাচ ফিটনেস থাকলে হয়ত তাসকিনই পেতেন জায়গা।

মূল স্পিনার হিসেবে সাকিবের সঙ্গে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ইংল্যান্ডের কন্ডিশন যাই থাকুক, বাংলাদেশের বোলিংয়ে তাদের থাকবে বড় ভূমিকা। এছাড়া বিশ্বকাপের শেষ দিকে উইকেট শুষ্ক হয়ে গেল স্পিনাররাও নিয়ামক হয়ে যাবেন।  ওয়ানডে দলে যেকোন বিচারে এই দুজনই বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের মূল শক্তি। যেহেতু টুর্নামেন্ট অনেক লম্বা, প্রতিপক্ষ আর পরিস্থিতি বিবেচনায় মিরাজের বিকল্প হতে পারেন মোসাদ্দেক। কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যাটিং সামর্থ্যে এগিয়ে থাকবেন তিনি। বাংলাদেশের বড় সুবিধা স্পিনারদের সবাই ব্যাটিংয়েও পারদর্শী। কাজেই একজন ব্যাটসম্যান কম খেলিয়ে বোলিংয়ে অপশন বেশি রাখার জায়গাও খোলা থাকল। এই জায়গায় মোসাদ্দেকের চেয়ে পিছিয়ে যান ইয়াসির। গত বেশ কিছুদিন ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফর্ম করার পুরস্কার অবশ্য ইয়াসির পেয়েছেন আয়ারল্যান্ড ত্রিদেশীয় সিরিজের দলে সু্যোগ পেয়ে।অতিরিক্ত সুবিধা হচ্ছে স্পিনার কম বেশি সবাই ব্যাটিংয়ে পারদর্শী।

অভিজ্ঞতায় সেরা বাংলাদেশ:

এই বিশ্বকাপে অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। দলে আছেন সিনিয়র এমন পাঁচ ক্রিকেটার যারা প্রত্যেকেই দশ বছরের বেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পার করে দিয়েছেন। মাশরাফি মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল আর মুশফিকুর রহিম খেলতে যাচ্ছেন চতুর্থ বিশ্বকাপ। মাহমুদউল্লাহ খেলবেন তার তৃতীয় বিশ্বকাপে। এই পাঁচজনই যে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশনের মূল চালিকাশক্তি হবেন, তা বহু আগে থেকেই চূড়ান্ত।

স্ট্রাইক রেট বেশি রাখার সামর্থ্য:

ধারণা করা হচ্ছে এবারের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে উইকেট থাকবে ব্যাটিং বান্ধব। আগে ব্যাট করলে বড় পূঁজি দাঁড় করাতে হবে, পরে ব্যাট করলে ডিঙাতে হবে রানের পাহাড়। দ্রুত রান তুলতে হবে, এই চাহিদায় বাংলাদেশের টপ অর্ডারে এমন কিছু ব্যাটসম্যান দরকার ছিল যারা বল দ্রুত আসে এমন উইকেটে মেরে খেলতে পারেন। সাম্প্রতিক ফর্ম বাদ দিলেও এই জায়গায় সৌম্য সরকার (স্ট্রাইকরেট ৯৮.৬০) ও লিটন দাস (স্ট্রাইকরেট ৭৯.৭৪), ইমরুল কায়েস ( স্টাইকরেট ৭১.১০) থেকে এগিয়ে ছিলেন। সহজাত স্ট্রোক খেলার সামর্থ্য তাদের দুজনেরই বড় শক্তির জায়গা।

যেহেতু এক প্রান্তে তামিমের দায়িত্ব থাকবে ইনিংস ধরে রাখা। অন্য প্রান্তে দরকার চালিয়ে খেলার। তাই সৌম্য বা লিটন যেই খেলুন কিংবা দুজনেই খেললেও রানরেটের চাপ না বাড়িয়ে খেলার ভরসা তাদের উপর সঙ্গত কারণেই করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। নির্বাচকরা অবশ্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাম্প্রতিক সময়ে বাজে ফর্মের কারণেই নেই ইমরুল।

স্কোয়াড:

মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদি হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ মিথুন, মোসাদ্দেক হোসেন ও আবু জায়েদ রাহি।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচের সূচি:

তারিখ বাংলাদেশ সময় ম্যাচ ভেন্যু
২ জুন, ২০১৯ বিকেল সাড়ে ৩টা বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা ওভাল
৫ জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ওভাল (দি/রা)
৮ জুন, ২০১৯ বিকেল সাড়ে ৩টা বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড কার্ডিফ
১১ জুন, ২০১৯ বিকেল সাড়ে ৩টা বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ব্রিস্টল
১৭ জুন, ২০১৯ বিকেল সাড়ে ৩টা বাংলাদেশ-উইন্ডিজ টন্টন
২০ জুন, ২০১৯ বিকেল সাড়ে ৩টা বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া নটিংহাম
২৪ জুন, ২০১৯ বিকেল সাড়ে ৩টা বাংলাদেশ-আফগানিস্তান সাউদাম্পটন
২ জুলাই, ২০১৯ বিকেল সাড়ে ৩টা বাংলাদেশ-ভারত এজভাস্টন
৫ জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা সাড়ে ৩টা বাংলাদেশ-পাকিস্তান লর্ডস

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বঙ্গবন্ধুর হত্যায় আওয়ামী লীগের লোকরাই জড়িত:মির্জা ফখরুল

স্টাফ রির্পোটার : বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর ...

জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহর দলের’ আমিরসহ চারজন আটক

স্টাফ রির্পোটার : রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে র‌্যাব-৩, ...