Home | আন্তর্জাতিক | বিরোধী জোটের হরতাল কর্মসূচি দুশ্চিন্তায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

বিরোধী জোটের হরতাল কর্মসূচি দুশ্চিন্তায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার, ২৭ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : বিরোধী জোটের হরতালসহ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচির কারণে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। হরতালের কারণে সম্প্রতি শেষ হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় মোট পাঁচটি পরীক্ষার তারিখ পেছানোর কারণে এ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ এ পরীক্ষাটি সময়মতো শেষ করা নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রায় সাড়ে নয় লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১ এপ্রিল শুরু হয়ে শেষ হবে ২৮ মে। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ১ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত। এই আড়াই মাস জুড়েই বিরোধীদলগুলোর হরতালসহ নানা ধরনের কঠোর কর্মসূচি থাকবে। গত এসএসসি পরীক্ষা চলার সময়ে বিরোধীদল হরতাল পালন করেছে। সরকারের সময় শেষ পর্যায়ে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলতে না পরলে সরকার তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনের আয়োজন করবে। এই চিন্তা থেকে আগামী এইচএসসি পরীক্ষার সময়ও বিরোধীদলগুলো কর্মসূচি দেওয়ার ক্ষেত্রে নমনীয় হবে বলে না বলে জানা গেছে।

এইচএসসি পরীক্ষার্থী কোরবান আলী জানান, পরীক্ষার সময় হরতাল কর্মসূচি দিলে সরকার শুক্রবার পরীক্ষার আয়োজন করে। এতে দেখা যায় পরপর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যায় না। ভাল প্রস্তুতি না নেওয়ার কারণে ওই পরীক্ষাটিতে খারাপ ফল করার সম্ভাবনা থাকে। এ ছাড়া হরতালের কারণে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যঘাত ঘটে। আবার সরকার হরতালের মধ্যে পরীক্ষা নিতে চাইলেতো একটি আতঙ্ক থাকেই। পরীক্ষার কথা চিন্তা করে এই আড়াই মাস সরকার ও বিরোধীদলগুলোর দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা উচিৎ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার সময় হরতাল দিলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সবাই ভোগান্তিতে পরে। পরীক্ষায় খারপ ফল করার সম্ভাবনা থাকে। তাদের প্রস্তুতিতে ব্যঘাত ঘটে। পরীক্ষা সময় মতো না হলে ওই পরীক্ষার জন্য পরে ভাল প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয় না। পরীক্ষার কথা চিন্তা করে বিরোধীদলগুলোর কর্মসূচি  দেওয়া উচিৎ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, পরীক্ষার সময় হরতালের মত কঠোর কর্মসূচি দেওয়া ঠিক নয়। কিন্তু দেশের পরিস্থিতিতে বিরোধীদল হরতালের মত কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়। পরীক্ষা যথাযথভাবে সম্পন্ন করা জন্য সরকারের দায়িত্বটা বেশি। সরকার উচিৎ বিরোধীদলের সাথে এমন আচরণ না করা যাতে তারা হরতাল দিতে বাধ্য হয়।

গত এসএসসি পরীক্ষার সময় দেখা যায় জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতালের কারণে গত ৪ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা পিছিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ও ২৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবারের পরীক্ষা ৮ মার্চ শুক্রবার, ৩ মার্চ রবিবারের পরীক্ষা ৯ মার্চ শনিবার নেয়া হয়। প্রধান বিরোধীদল বিএনপি’র ডাকা হরতালের কারণে ৫ মার্চ মঙ্গলবারের পরীক্ষা ৯ মার্চ শনিবার অনুষ্ঠিত হয়।  এছাড়া ইসলামি দলগুলোর ডাকা হরতালের কারণে ২৩ ফেব্রুয়ারি রবিবারের পরীক্ষা ১ মার্চ শনিবার নেওয়া হয়। হরতালের করণে গত এসএসসির মোট ৫টি পরীক্ষার তারিখ পেছানো হয়। এ ছাড়া গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রবিবার সিলেটে ও ২০ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাজশাহীতে জামাত-শিবির হরতাল ডাকলেও এসএসসি পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। তবে হরতালে এই দুই বিভাগের পরীক্ষার্থীদের হরতালের কারণে বিড়ম্বনার শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

x

Check Also

বাংলাদেশের পতাকার রঙে আলোকিত হলো অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের রাজধানী ব্রিসবেনের দুটি মূল স্থাপনা স্টোরি ব্রিজ এবং ...

অবশেষে বৈঠকে বসছে ভারত ও পাকিস্তান

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : দুই বছর পর সিন্ধুর জল বণ্টন নিয়ে মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) ভারতের সঙ্গে ...