Home | ফটো সংবাদ | বিরামপুর যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তলন হুমকির মুখে ব্রীজ বাজার ফসলী জমি
SAMSUNG CAMERA PICTURES

বিরামপুর যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তলন হুমকির মুখে ব্রীজ বাজার ফসলী জমি

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ সীমানা ছুঁয়ে বয়ে চলা যমুনা শাখা নদীর দু’পারের ভুমি মালিকরা শত শত একর জমিতে নানা মুখি ভসল চাষাবাদ করে আসছে শুধু তাই নয় দুই উপজেলার চলাচলেন মেইন রাস্তায় ব্রীজসহ কাটলা বাজার হুমকির মুখে তবুও থামছেনা বালুদস্যু মিজানের দৌরাত্বে। এলাকার সুধি জনেরা ভাবছে পরবর্তি কালে কি হবে এই এলাকার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, দিনাজপুর জেলার বিরামপুর ও হাকিমপুর উপজেলার সামনে বয়ে চলেছে যমুনা নদী, আর এই যমুনা নদীর পশ্চিম পারে হল বিরামপুর উপজেলার হরিহরপুর, কাটলা, রামচন্দ্রপুর ও চৌঘরিয়া এবং নদীর পূর্ব পারে হল পার্শ বতি উপজেলার হাকিমপুরের মাধবপাড়া, বালুপাড়া, নয়ানগরের, কোরবান আলী বিশ^াষের ঘাট এলাকার ভূমি মালিকরা বড় অসহায়ত্ব বোধ করছেন। শাখা যমুনার নদীর দু’পার্শে ফসলী জমী বালুদস্যু মিজানের কবল থেকে উদ্ধার করতে বেশ কয়েকবার জেলা প্রশাসক,জাতীয় সংসদ সদস্য দিনাজপুর-৬,পরিবেশ অধীদপ্তরসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষসহ বিভাগিয় কমিশনারের নিকট গণ-স্বাক্ষরে আবেদন করেও কোন সু বিচার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সূত্রে জানা গেছে, হাকিমপুর উপজেলার নয়ানগর গ্রামের মৃতঃ আসরাফ আলীর ছেলে এলাকার বালুদস্যু মিজানুর রহমান মিজান ও তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা চলতি মৌসুমে লিজের নামে ৫০-৬০ ফিট প্রস্তের এই শাখা যমুনা নদীর থেকে অপরিকল্পিত ভাবে স্যালো মেশিন দিয়ে গভির গর্তে করে দিদারছে বালু উত্তোলন করেই চলেছে। লিজ মালিক পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের চোখে  শাখা যমুনার কোন একটা বড় স্থান দেখিয়ে ছাড়পত্র নিয়েছে বলে এলাকাবাসি অভিযোগ করছেন। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের নদীর দু’পারের আবাদী জমি বর্ষা মৌসুমে একটু বর্ষণেই ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে চলেছে। শতাধীক ভূমিহীন কৃষক নিজের জমি থেকেউ পরিবার পরিজনকে নিয়ে অনাহার অর্ধাহারে দিন কাটাছে বলেও তারা জানান।
বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন কবিরাজ (৮৫) জানান, এক সময় এই শাখা যমুনা নদীতে ভারতীয় বনিকদের ব্যবসায়ী নৌকা চলেছে। কালের বিবর্তনে আজ সেই যমুনা নদীটি এখন আবাদি উর্বরা দলা জমি। বিগত কয়েক বছরের ন্যায় চলতি মৌসুমেও নদীর তলদেশের সমতল ভূমির কিছু কিছু এলাকায় কৃষকরা বোরো ধান চাষ করেছে। মাধবপাড়া গ্রামের প্রবীণ কৃষক আসমত আলী (৭০) জানান, এক সময় নদী এলাকার কৃষকরা অভাবের তাড়নায় ট্রেনে ফেরি করে সন্দেস,বাদাম,চা বিক্রি করে সংসার চালাত। নদীর দু’ধারের জমি ভেঙ্গে গভিরতা পুরে আবাদী জমিতে পরিনত হওয়ায় এলাকার গরীব মানুষের কষ্টের দিন শেষ হয়েছে। এমন এক মুহুত্তে এলাকার মিজানুর রহমান মিজান, হাসানুজ্জামান বিদ্যুৎ ও তাদের সহযোগিরা কয়েক বছর ধরে অধিক অর্থ উপাজোনের লোভে সাধারন মানুষের পেটে লাথি মেরে নদীর তলদেশ অপরিকল্পিত ভাবে কেটে বালুদস্যুরাতা করে আসছে।
হরিহরপুর গ্রামের আবেদ আলী মাষ্টার, হরিহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আবুল কাশেম, রামচন্দ্রপর গ্রামের সামসুদ্দিন ও তার ছেলে ওয়াসিম, চৌঘরিয়া গ্রামের রেফাজের ছেলে মমিনুর রশীদ সহ,বেশ কয়েকজন বলেন বালু দস্যু বিরুদ্ধে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসন, জাতীয় সংসদ সদস্য দিনাজপুর-৬, পরিবেশ অধীদপ্তর ও বিভাগিয় কমিশনারসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেও কোন প্রতিকার না পেয়ে গ্রামের সাধারন মানুষ দুঃপ্রকাশ করে বলেন, বর্তমান দেশে প্রশাসন অন্ধ হয়েছে কার কাছে গিয়ে শুষ্ট বিচার না পেয়ে আজ সব বিচার আল্লার কাছে দিয়েছি।
এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলার খট্রা-মাধবপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেছার রহমান জানান, এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি মালিকদের বালু উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়ে মিজানুর কে ইউপি অফিসে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। সে জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে লিজের বৈধ্য কাগজ পত্র দেখিয়েছে। তিনি আবাদী ও ব্যাক্তি মালিকানা জমির বালু মিজানুর ও তার লোকজন দিয়ে জোর পূর্বক বালু উত্তলনের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছে। বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন জানান, চৌঘরিয়া গ্রামের জমি মালিক রেফাজের পুত্র মমিনুর রশীদ ও  গ্রাম বাসির অভিযোগের পেক্ষিতে ব্যাক্তি মালিকনা জমি থেকে জোর পুর্বক বালু দস্যুরা বেশ কয়েকটি ট্রলি আটক করি। কিন্তু একটু সময় বাদে মিজানুর লিজের কাগজ দেখিয়ে টলিগুলো নিয়ে যায়। তাই আমি তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারি নাই। তবে অপরিকল্পিত ভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিনের সত্যতা স্বীকার করেছেন। ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি মালিকসহ এলাকার সর্বস্থরের সচেতন মহল বলেন, সরেজমির তদন্ত পুর্বক বালু দস্যুদের লিজ বাতিল ও অপরিকল্পিত বালু উত্তলন বন্ধ করে ফসলি জমি নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধতন কৃত পক্ষ্যের প্রতি অনুরুধ জানিছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শুক্রবার ঢাকা আসছেন ভারতের সেনাপ্রধান

স্টাফ রিপোর্টার :  সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকের আমন্ত্রণে ঢাকা আসছেন ...

কুমিল্লা ও সুনামগঞ্জে বৃহস্পতিবার ব্যাংক বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার :  জাতীয় সংসদের সুনামগঞ্জ-২ আসন ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন উপলক্ষে ...